#LoVe_Effect
#Writer : Sintiha Eva
#part : 08
🍁🍁🍁
কলিংবেল বেজে উঠতেই নীরের মা দেওয়াল ঘড়ির দিকে সময় টা দেখে অবাক হোন সকাল ৬ঃ৫৭ বাজে এতো সকালে কে আসতে পারে এইসব ভাবতে ভাবতে আবারো কলিংবেল বেজে উঠে। নীরের মা সব ভাবনা একসাাইডে রেখে দরজা খুলে হা হয়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে এতো সকালে এমন কাউকে উনি একদম আশা করেনি অবাকে রেশ নিয়েই সামনের ব্যক্তির দিকে অবাক মিশ্রিত কন্ঠে প্রশ্ন ছুঁড়ে মারে,,,,,
নীরের মাঃ তুই এতো সকালে তাও একা
নীরের মা’র কথা শুনে সামনে ব্যক্তি ভ্রু কুঁচকে বলে,,,
শ্রাবনীঃ কেনো খুশি হও নি
নীরের মাঃ তোদের দুই বান্ধবীর এই এক সমস্যা বলি একটা বুঝিস আরেকটা
শ্রাবনীঃ আচ্ছা বাদ দাও বেস্টু কোথাও
নীরের মাঃ এতো সকালে রুমে গিয়ে দেখ ঘুমাচ্ছে
শ্রাবনীঃ আচ্ছা আমি যাচ্ছি
শ্রাবনী নাচতে নাচতে নীরের রুমে গিয়ে দরজা ঠেলে রুমে ডুকে নীরকে ঘুমে দেখে ঠোঁট উল্টে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। অতঃপর নীরের বেডে বসে নীরকে ডাকতে শুরু করে,,,,,
শ্রাবনীঃ এই ফকিন্নি মাইয়া উঠ বলছি ব্যাঙের মতো আর কতক্ষণ ঘুমাবি কুত্তী উঠ না বেস্টু আজ একটা মিশন কমপ্লিট করতে হবে
নীরঃ _______
শ্রাবনীঃ এতো গাধা কেনো তুই ঘুমে এই পিচ্চি মেয়ের ডাক কি তোর ওই গন্ডার মার্কা কানো ডুকছে না এই বেস্টু উঠ না
এতো সুন্দর সুন্দর ডাকার পরও নীরের উঠার হুশ না হওয়ায় শ্রাবণী নাক ফুলিয়ে কিছু একটা ভেবে উঠে দাঁড়ায়। হঠাৎ ঘুমের মাঝে গায়ের উপর পানি পড়ায় নীর হকচকিয়ে উঠে,,,,
নীরঃ ও মা গো ছাঁদ ফুটো হয়ে পানি পড়ছে মা ও মা কই তুমি
শ্রাবনীঃ চুপ চুপ চুপ হারামী আমি
এতো সকাল সকাল শ্রাবনীর কন্ঠস্বর শুনে নীর আশ্চর্য ভঙ্গিতে পাশ ফিরে শ্রাবনীর দিকে তাকিয়ে শ্রাবনীর হাতে মগ দেখে যা বুঝার বুঝে যায়।
নীরঃ কি ব্যাপার মহারানী ভিক্টোরিয়া এতো সকালে আমার বাড়ি তাও পুরো এই অধম নারীর শয়নগৃহে উপস্থিত কি করিতে পারি
শ্রাবনীঃ রাখ তোর সংস্কৃতি কথা তুই তো জানিস এসব সংস্কৃতি ব্যকরণ কথা বুঝি না বাপু
নীরঃ হুমম তা কি জন্য আসিলেন আমার গৃহে
শ্রাবনীঃ উঠ তাড়াতাড়ি যা ফ্লেশ হয়ে আয় ভার্সিটি যাবো
নীরঃ কিহহ আজ কেনো আরে আজ তো ভার্সিটি অফ
শ্রাবনীঃ বেশি কথা বললে এক থাপ্পড়ে ডান পাশে কিডনি বাম পাশে পাঠিয়ে দেবো যাহ কুইক নয়তো এভাবেই চল
নীরঃ হোপ মাইয়া
শ্রাবনীঃ তাহলে যা তাড়াতাড়ি
নীরঃ প্লিজ বেস্টু আমি ঘুমাবো
শ্রাবনীঃ চুপ হারামি যা বলছি নীর যা নয়তো বালতি ভরা পানি এনে ঢেলে দেবো
নীর অগত্যা বাধ্য হয়ে বিড়বিড় করতে করতে ওয়াশরুমে চলে যায়।
ভার্সিটির সামনে রিকশা থামতেই দুজন রিকশা থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে ভার্সিটির দিকে এগিয়ে যায় নীর ভয়ার্ত গলায় বলে উঠে,,,
নীরঃ বেস্টু একটা বার ভেবে দেখ এসব করিস না প্লিজ তুই বুঝতে পারছিস এতে মাহির ভাইয়ার ফেস লস হবে ক্যারিয়ারের ক্ষতি হবে
শ্রাবনীঃ হোক তুই জাস্ট চুপ থাক
নীরঃ তোর এসবের জন্য দেখবি একদিন আমাদের ছাত্রচ্যুত হতে হবে
শ্রাবনীঃ কিছু হবে না চল ওদিক দিয়ে মনে হয় ভোটের কেন্দ্র
নীরঃ না আমি যাবো না
শ্রাবনীঃ ধ্যাত চল তো
নীরকে টানতে টানতে নিয়ে শ্রাবনী ভোট কেন্দ্রের দিকে যায় নীর না করলে ও শ্রাবনীর চোখ রাঙানি তে চুপ হয়ে যায়। কিছুদূর আসতেই কারোর পায়ের আওয়াজে দুজনই ঘাবড়ে যায় নীর কটমট করে বলে উঠে,,,
নীরঃ বার বার না করেছিলাম এখন বুঝবি কেমন লাগে
শ্রাবনীঃ চুপ এদিক টায় আয়
নীরঃ আরে এই রুমে কি করবি
শ্রাবনীঃ এখন আপাতত লুকিয়ে যায় যারা আসছে তারা গেলে বেরিয়ে পড়বো
নীরঃ বেস্টু প্লিজ চল
শ্রাবনীঃ নাহহহ
নীরঃ আজ নিজের সাথে সাথে আমাকে ও ফাঁসাবি
শ্রাবনীঃ তুই জানিস না বন্ধু মানে ডেয়ারিং আর বন্ধু মানে কেয়ারিং বন্ধু মানে ভালো-খারাপ সবকিছু শেয়ারিং
নীরঃ হুমম এটাও জানি বন্ধু মানে পেছন থেইকা হুদাই মারে ল্যাং। তাতেও সমস্যা ছিল না তুই তো আগুনের দিকে হাঁটছিস
শ্রাবনীঃ এখন এসব বলছিস কেনো চল বলছি
নীরকে নিয়ে পাশের রুমে লুকিয়ে যায় তখনই ওখানে মাহিররা আসে।
মাহিরঃ সব ঠিকঠাক আছে তো
শুভঃ হুমমম
মাহিরঃ আচ্ছা আমার স্পেশাল মেহমান দের জন্য স্পেশাল ট্রিটের ব্যবস্থা করেছিস তো
আদিত্যঃ হুমম কি এখনো তো আসলো না
মাহিরঃ কে বললো আসেনি অলরেডি আমার স্পেশাল গেস্ট এসে গেছে
শুভঃ কোথায়
মাহিরঃ আরে ওই তো আমার স্পেশাল গেস্ট ওই রুমের ভেতরে আছে চল গিয়ে দেখা করে আসি আফটার অল গেস্ট বলে কথা।
মাহিরের কথা শুনে শ্রাবণী আর নীরের আত্মা শুকিয়ে যায় নীর অগ্নিদৃষ্টি নিয়ে শ্রাবনীর দিকে তাকিয়ে ঝাঁঝালো গলায় বলে,,,,
নীরঃ নে এবার তোর শান্তি হয়েছে মাহির ভাইয়াড়রা জেনে গেছে আমরা এসেছি না জানি এখন কি করে
শ্রাবনীঃ বেস্টু কিছু একটা কর প্লিজজজ
নীরঃ চুপ একদম চুপ
ঘুম থেকে উঠে শ্রাবণী কে না পেয়ে সায়ন রা সবাই টেনশনে পড়ে যায় পুরো বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুঁজে ও শ্রাবনী কে না পেয়ে অবস্থা পুরো নাজেহাল এতো সকালে মেয়েটা গেলো কোথায় এটাই কেউ ভেবে পাচ্ছে না তারউপর ফোন বাড়িতে সবার অবস্থা যায় যায়। অভি হঠাৎ কি ভেবে শ্রাবনীর রুমে আবার যায় অভির পেছন পেছন সায়ন&আয়াত ও আসে। অভিরা চারদিকে চোখ বুলিয়ে ও কিচ্ছু না পেয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে নিলে হঠাৎ অভির চোখ শ্রাবনীর বেডসাইড টেবিলের উপর আটকায় একটা সাদামত কাগজ দেখে অভি বেডসাইড টেবিলের দিকে গিয়ে কাগজ হাতে নেয় তারপর খুলে ভেতরের লেখাটা পড়ে অভি ধপ করে বেডেই বসে পড়ে সায়ন আয়াত মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে অভির কাছে দ্রুত পায়ে এগিয়ে যায়।
আয়াতঃ কি হয়েছে ভাইয়া
সায়নঃ কি হলো কথা বলছিস না কেনো
অভি সায়নের দিকে কাগজ টা এগিয়ে দেয় সায়ন কাগজ টা কাঁপা কাঁপা হাতে নিয়ে ভেতরের লেখা টা পড়ে হতভম্ব হয়ে পড়ে।
সায়নঃ নিচে চল
আয়াতঃ ভেতরে কি লেখা আছে
সায়নঃ নিচে চল বলছি সবার সামনে বলছি
সায়ন রা তিনজন একসাথে নেমে আসে সায়নের হাতে কাগজ দেখে সবাই কিছু ভীত হয়ে পড়ে সায়ন সবার সামনে গিয়ে কাগজ মেলে পড়তে শুরু করে ” বড়দা, মেঝদা ছোড়দা আমি সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই বেস্টুদের বাসায় চলে এসেছি একটা ইম্পর্ট্যান্ট কাজ ছিলো তাই তোরা কেউ ঘুম থেকে উঠিস নি তাই কাউকে বলে আসতে পারিনি আমার কাজ শেষ হলে আমি চলে আসবো তোরা টেনশন নিস না আর টেনশন হলে একটা নাপা খেয়ে নিবি তাহলেই হবে
ইতি তোদের বুড়ি, ছুটকি, বনু
শ্রাবণী
সায়নের চিঠি পড়া শেষ হলে সবার দিকে তাকিয়ে দেখে সবার মুখটা জাস্ট দেখার মতো হয়েছে। অভি হাসতে হাসতে বলে,,,,
অভিঃ এই মেয়ে আর শুধরালো না
সায়নঃ তুই হাসছিস আর একটু হলে আমার হার্ট অ্যাটাক হবার উপক্রম হয়েছিলো
অভিঃ আমার ও
আয়াতঃ এই মেয়ে সবাই কে হার্ট অ্যাটাক করার ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছে ভাই না জানি ওর বরের কপালে কি আছে
অভিঃ আচ্ছা তাহলে আমরা অফিসে যায় ও আসলে আমাদের কল দিও সায়ন আয়াত চল
সায়নঃ হুমমম চল
মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে শ্রাবনী আর নীর শ্রাবনীর দিকে কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সামনেই মাহিরা তিনজন দাঁড়িয়ে আছে। নীরবতা ভেঙে মাহিরই বলে উঠে,,,
মাহিরঃ তা এই রুমে তোমরা এভাবে লুকিয়ে ছিলে কেনো
শ্রাবনীঃ এই ব্যাঙ আমরা লুকিয়ে থাকবো কেনো হুমম আম আমরা তো একটা দরকারে এসেছি
মাহিরঃ তা দরকার টা কি আমার ভোট কারচুপি করা
শ্রাবনীঃ ম মানে
মাহিরঃ তুমি খুব ভালো করেই বুঝতে পারছো আমি কি বলছি ওকে নো প্রবলেম এসেই যখন পড়লে তখন না হয় ভোট শেষ না হওয়া অবধি থেকে যাও
শ্রাবনীঃ আ আমরা বাড়ি যাবো
মাহিরঃ উহু এসেছো তোমাদের ইচ্ছায় যাবে আমার ইচ্ছায় খুব বেশি চালাক ভাবো নিজেকে তাই না
নীরঃ ভাইয়া আমাদের প্লিজ যেতে দেন ( কাচুমাচু হয়ে)
মাহিরঃ যদি ও জানি এতে তোমার দোষ নেয় তবু ওই যে সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে সো গাইস ইনজয় ডে বাই
শ্রাবনীঃ আমি ছোড়দা কে ফোন করবো কিন্তু
মাহিরঃ হুম আচ্ছা করো তারপর আমিও বলবো তুমি এসে আমাকে প্রপোজাল দিচ্ছো, ভালোবাসো বলছো হেনতেন ৮৭০ ওই যে হটের সাথে নটি ফ্রী আই মিন হটিনটি মাইন্ড বুঝলে
শ্রাবনীঃ খারাপ হচ্ছে কিন্তু ফাউ কথা বলবেন না
নীরঃ আমি বাড়ি যাবো ( কাঁদো কাঁদো হয়ে)
শুভঃ যেমন কর্ম তেমন ফল এবার ভোগ করো এই চল তো
মাহিরা শ্রাবনীদের বাইরে থেকে আটকে দেয় শ্রাবনী রাগে দরজায় এক লাথি দিয়ে চেঁচিয়ে বলে,,,
শ্রাবনীঃ হুতুমপেঁচা একবার খালি বের হয় তখন বুঝবেন আমি কি
মাহিরঃ ওকে বাই এখন আসঋি নেক্সট টাইম মিষ্টি নিয়ে আসবো কেমন
শ্রাবনী রাগে ভেতর থেকে ছিটকিনি দিয়ে দেয় নীর একপাশে গুটিশুটি হয়ে দাঁড়িয়ে শ্রাবণীর কার্যকলাপ দেখতে থাকে।
দুপুর একটা বেজে যায় শ্রাবনী নীর দুজনের ই পেটে ক্ষিদে চুই চুই করছে শ্রাবণী ক্লান্ত কন্ঠে বলে,,
শ্রাবনীঃ বেস্টু ছোড়দা কে একটা কল কর
নীরঃ পারবো না
শ্রাবনীঃ আরে কর না ওই তিনটা কে কেস খাওয়াবো দে তো ফোন টা
শ্রাবনী নীরের ফোন নিয়ে সায়নের নাম্বারে কল দেয় সায়ন তিয়াস আর জানভির সাথে কেবিনে বসে কথা বলছিলো হঠাৎ ফোন বেজে ওঠাই তিয়াস সায়নের ফোনের স্কিনে ” রাগিনী ” অবাক হয় সায়ন খট ফোন নিয়ে রিসিভ করে অন্যপাশে চলে যায় জানভি সরু দৃষ্টিতে সায়নের দিকে তাকায়।
সায়নঃ হুমম বলো
শ্রাবনীঃ ছোড়দা এ্যাঁ এ্যাঁ
নীরের নাম্বারের শ্রাবনীর কন্ঠস্বর শুনে সায়ন ভড়কে যায় সায়ন কান থেকে ফোন সরিয়ে নাম্বার টা দেখে আবার ফোন কানে নেয়,,,
সায়নঃ বনু তুই নীরের নাম্বারে ফোন দিলি আর কাঁদছিস কেনো কি হয়েছে
শ্রাবনীঃ ছোড়দা মাহির ভাইয়া
সায়নঃ মাহির কি করেছে ও
শ্রাবনীঃ মাহির ভাইয়া আমাকে আর বেস্টু ভার্সিটির স্টোররুমের দিকে একটা রুমে আটকে রেখেছে
সায়নঃ ওয়াট মাহির তোদের আটকে রেখেছে কিন্তু হুয়াই
শ্রাবনীঃ এ্যা এ্যা আমার খুউব ক্ষিদে পেয়েছে তাড়াতাড়ি আয় আমাকে নিয়ে যা
সায়নঃ আসছি আমি তুই একটু ওয়েট কর
জানভিঃ কি হলো কোথায় যাচ্ছো
সায়নঃ জানভি তোমরা আজ চলে যাও আমি একটু বনুর ভার্সিটি যাচ্ছি পরে সব বলছি
জানভিকে প্রতিত্তোরে কিছু বলতে না দিয়ে সায়ন দৌড়ে চলে যায় তিয়াস আর জানভি সন্দিহান দৃষ্টিতে সায়নের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে।
মাহিররা কাজ করছিলো হঠাৎ সায়নের কন্ঠে মাহিররা পেছন ফিরে সায়নকে দেখে অবাক হয় না কারণ ওরা জানতো সায়ন আসবে তবুও অবাকের রেশ মুখে এনে বলে,,,
মাহিরঃ একি ভাইয়া আপনি এখানে
সায়নঃ শ্রাবনী আর নীর কোথায় তোমরা নাকি ওদের আটকে রেখেছো
শুভঃ নাউজুবিল্লাহ কি বলেন ভাই আপনার বোন আমাদের বোন
সায়নঃ শ্রাবণী তো বললো
মাহিরঃ আমরা কি এসব পারি শ্রাবনী আর নীর তো সেই কখন থেকে নিজেরাই রুম বন্ধ হয়ে আছে আমরা অনেকবার বের হতে বললাম কিন্তু কথার উত্তরই দেয় না চলুন আমাদের সাথে
মাহিরা সায়নকে নিয়ে শ্রাবনীরা যে রুমে আছে ওই রুমের সামনে যায় তারপর তিনজনই একসাথে দরজার ছিটকিনির দিকে সায়নকে ইশারা করে সায়ন দীজার ছিটকিনির দিকে তাকিয়ে দেখে বাইরে থেকে দরজা খোলায় সায়ন রেগে দরজায় ধাক্কা দিয়ে রাগান্বিত সুরে বলে,,,,
সায়নঃ দরজা খোল
শ্রাবনীঃ ছোড়দা দরজা বাইরে থেকে লাগানো ভেতর থেকে খুলবো কিভাবে
সায়নঃ দরজা টা খোল বলছি বাইরে থেকে দরজা খোলায় আছে
সায়নের কথা শুনে শ্রাবণী ভেতরের ছিটকিনি খুলে দেয় সাথে সাথে সায়ন ভেতরে আসে পেছন পেছন মাহিরা ও আসে। সায়নকে দেখে নীর শ্রাবনী দুজনই ভয় পেয়ে যায় সায়নের মুখ পুরো লাল হয়ে আছে চোখে মনে হচ্ছে আগুন জ্বলছে। সায়ন কিছু না বলে শ্রাবণী আর নীরের দুই হাত ধরে টানতে টানতে বাইরে দিকে নিয়ে যায় দুজনই ঘাবড়ে যায়। দুজনকে ভার্সিটি থেকে টানতে টানতে বের করে গাড়ির সামনে এনে দরজা খুলে গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে ঢুকিয়ে দরজা লক করে ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি স্টার্ট দেয় নীর মিনমিনিয়ে বলে,,,,
নীরঃ আজ আমি ও শেষ
হঠাৎ নীর রাস্তার দিকে তাকিয়ে দেখে এটা নীরের বাড়ির রাস্তা নয় বরং শ্রাবনীদের বাড়ির রাস্তা দেখে নীর চেঁচিয়ে বলে,,,,
নীরঃ আরে আরে এটা তো আমার বাড়ির রাস্তা না আপনি গাড়ি থামান আমি বাড়ি যাবো
সায়নঃ_______
নীরঃ ভাইয়া গাড়ি থামান আমি বাড়ি যাবো
সায়নঃ চুপ একদম চুপ আর একটা কথা বললে ঠোঁট সেলাই করে দেবো ( ধমকে)
সায়নের ধমকে দুজনই চুপসে যায় বাড়ির সামনে গাড়ি থামিয়ে আবার দুজনকে টানতে টানতে বাড়িতে নিয়ে সোফায় ছুড়ে মারে দুজন কোমড়ে কিছু টা ব্যথা পায়। দুজনকে এভাবে টেনে আনতে দেখে বাড়ির সবাই অবাক হয়ে সায়নের দিকে তাকায় শ্রাবণী তো অলরেডি কেঁদে দিয়েছে শ্রাবনীকে কাঁদতে দেখে সায়ন রাগে নিজের চুলে হাত চালাতে চালাতে চোখ বন্ধ করে চিৎকার দিয়ে বলে,,,,,,
সায়নঃ স্টপ ক্রায় শ্রাবনী
সায়নের ধমকে বাড়ির সবাই ভয় পেয়ে যায় শ্রাবণী নীরের একটা হাত খামছে ধরে। সায়ন চেঁচিয়ে বলে উঠে,,,,,
সায়নঃ আজ তো ভার্সিটি অফ তাহলে ভার্সিটি কেনো গিয়েছিলি তোরা
প্রতিত্তোরে দুজনই মৌন
সায়নঃ আজ যদি কিছু একটা হতো ওখানে মাহিরা না থেকে অন্য কোনো ছেলে থাকলে কি হতো বুঝতে পারছিস তোর
এবার ও দুজনই চুপ সায়ন ওদের চুপ থাকতে দেখে নীরের হাত ধরে উঠিয়ে হাত জোরে চেপে ধরে নীর ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে সায়ন আরো জোরে চেপে বলে,,,,
সায়নঃ ও না হয় অবুঝ এখনো বাচ্চামো ছাড়তে পারেনি কিন্তু তুমি তুমি ইমম্যাচুয়েড না তাহলে ও যখন যেতে চাইলো তখন আটকাতে পারলে না
নীরঃ আ আমার লাগছে ছাড়ুন
সায়নঃ চুপ একদম চুপ এখন লাগছে আজ কি হতো বুঝতে পারছো তুমি তো ছোট না মাহি নেহাৎ ভালো ছেলে তাই
শ্রাবনীঃ ছোড়দা মাহি,,
সায়নঃ তুই চুপ একটা কথা বলবি না ( ধমকে)
নীরঃ আমি বাড়ি যাবো
সায়নঃ এক থাপ্পড়ে তোমার বাড়ি বাড়ি ছুটিয়ে দেবো ফাজিলের দল বড় হচ্ছে আর একেকটা বিগড়ে যাচ্ছে আজকের পর থেকে এমন কিছু হলে পুরো ঠ্যাং ভেঙে রেখে দেবো
অভিঃ সায়ন নীরকে বকছিস কেনো ওরা কোনো ভুল করলে নীরের মা-বাবা কে বল ওকে বকার কোনো রাইট নেই তোর আর নীর শ্রাবনী দুজনই সেইম বয়সের
অভির কথার প্রতিত্তোরে সায়ন নীরকে আরো জোরে চেপে ধরে চিল্লিয়ে বলে,,,,
সায়নঃ অধিকার আছে আমার ওকে বকার অধিকার আছে আর বড় ছোট শ্রাবনী আর ও সেইম এজের হলেও নীরই বড় তাই প্লিজ তোরা আজ চুপ থাক
শ্রাবনীঃ ছোড়দা এবারের মতো মাফ করে দে আর কখনো এমন করবো না
সায়নঃ তোকে আমি পরে দেখছি আর এই যে এই মেয়ে তুমি না ওর বেস্টফ্রেন্ড এটাই তার নমুনা তাই না
নীরঃ আমার ফ্রেন্ডশীপ নিয়ে কথা বলবেন না ( ছলছল চোখে)
সায়নঃ দুইজনের একজন যদি এখন চোখের পানি ফেলিস তোদের চোখ আমি উপড়ে নেবো ( রেগে)
শ্রাবনীর বাবাঃ সায়ন ছেড়ে দে বাবা ছোট মানুষ ভুল করেছে আজ করবে না মেয়েটার হাত টা ছাড় রক্ত জমে গেছে তো
শ্রাবনীর বাবার কথায় সায়ন নীর কে ছেড়ে সোফায় বসে জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে রাগ কমানর ট্রাই করে। শ্রাবনী মা বলে উঠে,,,,
শ্রাবনীর মাঃ কেউই তো খাসনি নীর যা শ্রাবনীর রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে আয় তারপর সবাই মিলে খেতে বোস আমি খাবার রেডি করছি
শ্রাবনীর মা’র কথায় নীর হাত জোড় করে বলে,,,,
নীরঃ না গো আন্টি আমি আর খাবো না অনেক খেয়েছি তোমার ছেলে এতো এতো কথা শুনিয়েছে আমার গলা অবধি ভরে গেছে আমি এখন বাড়ি যাবো
অভিঃ ওর হয়ে আমরা তোমাকে সরি বলছি কিছু মনে করো না আসলে ও টেনশনে পড়ে গিয়েছিলো
নীরঃ ইট’স ওকে আমি আসছি
সায়নঃ খেয়ে যাও নয়তো ঠ্যাং কেএে ফেলবো
নীরঃ যা খুশি করুন পারলে পুরো মেরে ফেলুন তবুও আমি খাবো আমি আসছি বাই
সায়ন রেগে তেড়ে আসে নীর একছুটে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।
শ্রাবনীঃ আরে বেস্টু তোর পাসব্যাগ
এষাঃ বেচারি ভয় পেয়ে গেছে এমন কেউ করে
সায়নঃ বেশ করেছি এদের ভাগ্য ভালো গায়ে হাত দেয় নি
সায়ন ও রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে চলে যায় মাঝখানে সবাই মুখটা লটকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
চলবে,,,,
(ভুলক্রটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)