#Out_Of_Bounds
#Ishrat_Jahan_Jarin
#part_10
দুপুর ২ টা। ইউনিভার্সিটির ইনডোর বাস্কেটবল কোর্টের ভেতরের পরিবেশটা আজ অন্যদিনের চেয়ে একদম আলাদা। সাধারণত প্র্যাকটিস সেশনের সময় কোচ চিৎকার করেন, প্লেয়াররা একে অপরকে চিয়ার আপ করে। কিন্তু আজ পুরো গ্যালারি আর কোর্ট জুড়ে শ্মশানের মতো নীরবতা। জ্যাক্সন মিলার আজ ক্ষুধার্ত জানোয়ারের মতো খেলছে। সে ডিফেন্ডারদের কোনো পাস দিচ্ছে না, নিজেই বল নিয়ে রিংয়ের দিকে ছুটে যাচ্ছে।
“জ্যাক্সন! পাস দ্য বল! তোমার লেফট সাইডে জর্ডান ফাঁকা আছে!” কোচের চিৎকার ইনডোর হলের ছাদে গিয়ে ধাক্কা খেল। জ্যাক কোচের কথা শুনতেই পেল না। তার চোখের সামনে তখনো ঘুরছে সকালের করিডোরে ক্লারার সেই মিষ্টি হাসি, যা সে মার্কাসের দিকে তাকিয়ে হাসছিল। সেই মুক্তোর মতো হাসিটা সে একটা সেকেন্ড লাইনের সস্তা প্লেয়ারকে অনায়াসে বিলিয়ে দিল? এই চিন্তাটা জ্যাকের মগজের ভেতরের প্রতিটা নিউরনে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে। ঠিক তখনই মার্কাস ডিফেন্স লাইনে এসে জ্যাকের সামনে দাঁড়াল। মার্কাস দুই হাত বাড়িয়ে জ্যাকের বলটা ইন্টারসেপ্ট করার চেষ্টা করতেই জ্যাকের ঠোঁটের কোণে একটা কুৎসিত হাসি ফুটে উঠল। জ্যাক বলটা ড্রপ করতে করতে খুব নিচু গলায় মার্কাসকে বলল, “তুমি বড্ড বেশি হাসো, মার্কাস। আর আমার জিনিস স্পর্শ করার একটা খেসারত আছে, যা তোমার এই বাস্কেটবল কেরিয়ার দিয়ে শোধ করতে পারবে না।”
“কী?” মার্কাস কিছু বুঝে ওঠার আগেই জ্যাক এক তীব্র গতিতে তার শরীরটা দিয়ে মার্কাসকে একটা সাইড পুশ করল। বাস্কেটবলের ভাষায় এটা ফাউল, কিন্তু জ্যাকের গায়ের শক্তি এতটাই বেশি ছিল যে মার্কাস নিজেকে সামলাতে পারল না। জ্যাকের শক্ত কনুইটা সরাসরি গিয়ে আঘাত করল মার্কাসের মুখের চোয়ালে। একটি চটাশ শব্দ হলো। মার্কাস মেঝের ওপর সজোরে আছাড় খেয়ে পড়ল। তার মাথাটা কোর্টের কাঠের মেঝের সাথে ধাক্কা খেল এবং তার নিচের ঠোঁটটা ফেটে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হয়ে এল। বাস্কেটবলটা মেঝেতে গড়াতে গড়াতে রক্তের ওপর দিয়ে গিয়ে সাইডলাইনে থামল। বলটার গায়ে একটা লাল রক্তের দাগ লেগে গেল।
“স্টপ! স্টপ দ্য গেম!” কোচ হুইসেল বাজাতে বাজাতে কোর্টের ভেতরেু দৌড়ে এলেন। বাকি প্লেয়াররা মার্কাসকে ধরার জন্য ছুটে গেল। জ্যাক কিন্তু এক মূহুর্তের জন্যও থামল না বা মার্কাসের দিকে ফিরেও তাকাল না। সে খুব অলস ভঙ্গিতে কোর্টের কোণায় রাখা নিজের তোয়ালেটা তুলে নিল এবং ঘাড়ের ঘাম মুছতে মুছতে বেঞ্চের দিকে হেঁটে গেল। সে মনে মনে বলল, ‘আমার পাখির দিকে যে হাত বাড়াবে, সেই হাত আমি এভাবেই ভেঙে গুঁড়ো করে দেব।’
–
বিকেল চারটে। প্র্যাকটিস সেশন শেষ হয়ে যাওয়ার পর ইউনিভার্সিটির সায়েন্স বিল্ডিংয়ের পেছনের করিডোরটা একদম ফাঁকা হয়ে যায়। ক্লারা নিজের প্রজেক্টের কিছু খাতা বগলদাবা করে লাইব্রেরির দিকে যাচ্ছে। মার্কাসের ঠোঁট ফেটে যাওয়ার খবরটা সে অলরেডি লিলির কাছ থেকে শুনেছে, আর সে খুব ভালো করেই জানে এই কাজটা কে করেছে এবং কেন করেছে। তার মনের ভেতরের ক্ষোভটা এখন একটা জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির মতো ফুটছে। ঠিক তখনই করিডোরের একটা অন্ধকার বাঁকে একটা বিশাল হাত এসে ক্লারার জ্যাকেটের হাতাটা খপ করে ধরে ফেলল। ক্লারা কিছু বলার আগেই তাকে টেনে নিয়ে দেয়ালের সাথে সজোরে চেপে ধরা হলো। চশমাটা নাকের ওপর একটু নড়ে উঠল, আর ক্লারা দেখল তার থেকে মাত্র এক ইঞ্চি দূরত্বে দাঁড়িয়ে আছে জ্যাক্সন মিলার। তার পরনে এখন একটা হুডি। তার দুই হাত ক্লারার দুই পাশে দেয়ালের ওপর রাখা, ক্লারাকে পুরোপুরি নিজের শরীরের খাঁচায় বন্দি করে ফেলেছে সে। ক্লারা নিজের নীল চোখ দুটো বড় বড় করে সরাসরি জ্যাকের চোখের দিকে তাকিয়ে তীব্র গলায় বলল, “আপনার এই নোংরা হাতটা সরান, মিস্টার মিলার! আপনি আজ কোর্টের ভেতর মার্কাসের সাথে যা করেছেন, তা একটা কাপুরুষের কাজ। আপনার গায়ের জোর শুধু দুর্বলদের ওপরই খাটে, তাই না?”
জ্যাক একটুও রাগল না। সে নিজের মুখটা আরও একটু নামিয়ে আনল, তার তপ্ত নিঃশ্বাস ক্লারার চশমার কাঁচটাকে ঝাপসা করে দিচ্ছে। সে খুব ধীর গলায় বলল, ” মার্কাস? ও তো স্রেফ একটা মাছি। আমার জিনিসের ওপর কেউ হাত রাখলে, আমি সেই হাতটা কেটে ফেলে দিই। ও তো তাও শুধু ঠোঁট ফাটিয়ে বেঁচে গেছে।”
“আপনার জিনিস মানে কী?” ক্লারা রাগে কাঁপতে কাঁপতে জ্যাকের বুকে নিজের দুই হাত দিয়ে ধাক্কা দিল, কিন্তু জ্যাকের শরীরটা যেন একটা আস্ত পাথরের দেয়াল, এক চুলও নড়ল না। ক্লারা বলল, “আমি আপনার কোনো জিনিস নই! আমি একটা চুক্তিতে সই করেছি মানে এই নয় যে আপনি আমার জীবনটাকে নিয়ন্ত্রণ করবেন!”
“আই ওন ইউ, ক্লারা।” জ্যাকের গলার স্বর এবার বড্ড বেশি তীব্র শোনাল। সে তার ডান হাতের একটা আঙুল আলতো করে ক্লারার নরম গালের ওপর স্লাইড করে নামিয়ে আনল, “এই কাগজের প্রতিটা লাইনে তোমার ওই সুন্দর আঙুলের সই আছে। আজ থেকে তোমার এই নীল চোখ দুটো শুধু আমার দিকে তাকাবে। তুমি হাসলে শুধু আমার সামনে হাসবে। ওই সস্তা মার্কাস বা দুনিয়ার অন্য কোনো পুরুষ যদি তোমার এই ফর্সা চামড়া ছোঁয়ার চেষ্টা করে, তবে তার পরিণতি কেমন হতে পারে, তা তো আজ কোর্টেই দেখে এলে। নিজের ওই ম্যাথমেটিক্যাল মগজটা খাটানো বন্ধ করো, আর চুপচাপ আমার শর্ত মেনে চলতে শেখো।”
ক্লারা নিজের মুখটা একপাশে সরিয়ে নিয়ে বলল, “আমি আপনাকে ঘৃণা করি, জ্যাক্সন মিলার। আমার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমি আপনাকে শুধু ঘৃণাই করে যাব।”
“ঘৃণা করো, যত ইচ্ছে করো।” জ্যাক ক্লারার কানের লতির খুব কাছে নিজের ঠোঁট দুটো ঠেকিয়ে ফিসফিস করে বলল, “তোমার ওই তীব্র ঘৃণাই আমার রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে, মিস বেনেট। আমি তোমার ভালোবাসা চাইনি, আর চাইও না। আমি তোমার এই অবাধ্য শরীর আর মনটার ওপর আমার একক সাম্রাজ্য চাই। আর সেটা আমি অলরেডি পেয়ে গেছি।” সে এক ঝটকায় ক্লারাকে ছেড়ে দিয়ে পকেটে হাত রেখে করিডোর দিয়ে হেঁটে চলে গেল। ক্লারা দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে ধপ করে মেঝেতে বসে পড়ল, তার পুরো শরীর তখন এক অজানা উত্তেজনায় আর অপমানে কাঁপছে।
–
মিলার হাউজের ড্রইংরুম। সোফায় বসে আছেন আর্থার মিলার এবং তার মুখোমুখি বসেন স্পেনের সবচেয়ে বড় বিজনেস টাইকুন সেবার্থিয়ান লরেঞ্জো এবং তার মেয়ে ভ্যালেরিয়া। ভ্যালেরিয়ার পরনে একটা ডিজাইনার ড্রেস। সে আর্থার মিলারের দিকে তাকিয়ে তীব্র গলায় বলল, “আঙ্কেল! সেদিন রাতে ইনফর্নো ক্লাবে জ্যাক্সন আমার সাথে যা করেছে, তা আমি কোনোদিন ভুলব না। সে সবার সামনে আমাকে অপমান করে ক্লাব থেকে বের করে দিয়েছে। সে একটা সস্তা অনাথ মেয়ের জন্য আমার মতো লরেঞ্জো পরিবারের মেয়েকে রিজেক্ট করল?”
আর্থার মিলার কফির কাপটা টেবিলের ওপর রাখলেন। তার মুখটা এক মূহুর্তের জন্য কঠিন পাথরের মতো হয়ে গেল। মিলার বংশের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের ভবিষ্যৎ এই স্পেন-আমেরিকার চুক্তির ওপর নির্ভর করছে, আর তার নিজের ছেলে একটা সাধারণ মেয়ের জন্য সেই ডিলটা নষ্ট করতে যাচ্ছে, এটা তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেন না। তিনি সেবার্থিয়ানের দিকে তাকিয়ে খুব গম্ভীর গলায় বললেন, “সেবার্থিয়ান, আমি জ্যাক্সনের এই আচরণের জন্য অত্যন্ত দুঃখিত। ও এখনো তরুণ, বাস্কেটবলের সাকসেস ওর মাথাটা একটু বিগড়ে দিয়েছে। তবে তুমি নিশ্চিন্ত থাকো মিলার বংশের উত্তরাধিকারী কার সাথে সংসার করবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধু আমারই আছে। এই মাসের শেষেই জ্যাক্সন আর ভ্যালেরিয়ার অফিশিয়াল এনগেজমেন্ট হবে।”
ভ্যালেরিয়া একটু বাঁকা হেসে বলল, “কিন্তু আঙ্কেল, আমি শুনেছি জ্যাক একটা মেয়েটাকে পেন্টহাউসে নিয়ে গিয়েছিল।মেয়েটার নাম ক্লারা বেনেট। ও একটা সাধারণ ফিনান্সের স্টুডেন্ট আর একটা জার্মানির সস্তা অনাথ আশ্রমের মেয়ে। জ্যাককে যদি আমি নিজের লাইফে ফেরত চাই, তবে ওই মেয়েটাকে আগে বোস্টন থেকে সরাতে হবে। কারণ আমার জানামতে জ্যাক এক মেয়ের সাথে এক রাতের বেশি কখনো সময় কাটায় না। কিন্তু আমার কাছে খবর আসছে আজকাল সারাদিন জ্যাক ওই মেয়ের সাথেই ঘুরঘুর করে।”
টেবিলের অন্য মাথায় বসে থাকা লেডি এলিনর এতক্ষণ চুপচাপ ছিলেন। তিনি এবার তার চশমাটা ঠিক করে নিয়ে খুব ঠান্ডা গলায় বললেন, “আর্থার, জ্যাক্সন কিন্তু মিলার বংশের রক্ত। ও কোনো কিছু সহজে ছাড়ে না। ও যদি ওই মেয়েটাকে নিজের খাঁচায় পুরে থাকে, তবে বুঝতে হবে মেয়েটার ভেতর এমন কিছু আছে যা জ্যাককে আকর্ষণ করছে। জোর করে ওকে সরাতে গেলে জ্যাক কিন্তু পুরো সাম্রাজ্য ধ্বংস করে দিতে পারে।”
“ও কিচ্ছু করবে না!” আর্থার মিলার টেবিলের ওপর হাত চাপড়ে নিচু কিন্তু ভয়ংকর গলায় বললেন, “ওর বাস্কেটবল ক্যারিয়ার, ওর পেন্টহাউস, ওর এই রাজকীয় লাইফস্টাইল সবকিছুর চাবি আমার সইয়ের ওপর চলে। আমি যদি ওর মাথার ওপর থেকে মিলার সাম্রাজ্যের ছায়াটা সরিয়ে নিই, তবে সে এক সেকেন্ডে রাস্তায় এসে দাঁড়াবে। ভ্যালেরিয়া, তুমি বিয়ের প্রস্তুতি নাও। আর ওই ক্লারা বেনেট নামের মেয়েটাকে কীভাবে তার নিজের জায়গায় ফেরত পাঠাতে হয়, তা আমি খুব ভালো করেই জানি।”
–
রাত তখন প্রায় একটা। পেন্টহাউসের বিশাল বেডরুমের ভেতর ক্লারা বেনেট খাটের এক কোণায় হাঁটু দুটো বুকের সাথে চেপে ধরে বসে আছে। সে ডর্মে ফিরে যেতে চেয়েছিল, কিন্তু বিকেলের সেই ঘটনার পর জ্যাকের বডিগার্ডরা তাকে জোর করে এই পেন্টহাউসের ব্যালকনিতে এনে বসিয়ে রেখে গেছে। ঘরের সব আলো নেভানো, শুধু ফায়ারপ্লেসের লালচে আলোটা দেয়ালের ওপর নাচানাচি করছে। ঠিক তখনই বেডরুমের দরজাটা খুলে গেল। জ্যাক ভেতরে ঢুকল। তার পরনে এখন কোনো শার্ট নেই, শুধু একটা ব্ল্যাক ট্রাউজার। তার সুগঠিত, চওড়া বুকের ওপর ফায়ারপ্লেসের লাল আলোটা পড়ে তাকে একটা সত্যিকারের গ্রীক ডেভিলের মতো দেখাচ্ছে। তার হাতে একটা বরফ ভর্তি হুইস্কির গ্লাস। সে ক্লারার কোনো বাধা বা কথার তোয়াক্কা না করে সরাসরি বিছানায় উঠে এল এবং ক্লারার খুব কাছাকাছি এসে বসল। ক্লারা নিজেকে আরও এক পাশে সরিয়ে নিতে চাইল, কিন্তু জ্যাক এক ঝটকায় তার কোমরের নরম চামড়াটা নিজের শক্ত হাত দিয়ে চেপে ধরে নিজের বুকের সাথে লেপ্টে নিল।
“ছাড়ুন আমাকে! আপনার শরীর থেকে মদের গন্ধ আসছে!” ক্লারা মুখটা ঘুরিয়ে নিয়ে বলল।
জ্যাক একটু নিচু স্বরে হাসল। সে হুইস্কির গ্লাসটা সাইড টেবিলের ওপর রেখে ক্লারার দুই চিবুক নিজের আঙুলের চাপে উঁচিয়ে ধরল। সে বলল, “মদের গন্ধ নয় ক্লারা, আমার শরীরে এখন তোমার ওই তীব্র ঘৃণার গন্ধ মিশে আছে। তুমি ভাবছ সব শেষ করে দেবে? তুমি ওই মার্কাসের সাথে লাঞ্চে যাবে? উঁহু। জ্যাক্সন মিলার বেঁচে থাকতে তা কোনোদিন হবে না।”
ক্লারা নিজের চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে বলল, “আপনি জোর করে কোনোদিন কারো মন জয় করতে পারবেন না, মিস্টার মিলার। এটা আপনার সবচেয়ে বড় পরাজয়।”
“মন?” জ্যাকের ঠোঁট দুটো এবার ক্লারার ফর্সা, তপ্ত ঘাড়ে আলতো করে চেপে বসল, তার সেই ছোঁয়ায় ক্লারার পুরো শরীরে একটা তীব্র কাঁপুনি উঠে গেল। জ্যাক ফিসফিস করে বলল, “আমি তো আগেই বলেছি ক্লারা, আমি কোনো রোমান্টিক ডিল করতে আসিনি। আমি তোমাকে রাগ থেকে আমার এই বিছানায় বন্দি করেছি। দেখো আমি খারাপ তবে এতটাও না। যদি খুব বেশি খারাপ হতাম তাহলে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তোমাকে বিয়ে করতাম যাতে তুমি প্রতিদিন সকালে উঠে এই ডাম্পস্টারের মুখটা দেখতে বাধ্য হও। এটাই তখন তোমার শাস্তি হতো মিস ক্যালকুলেটর। শুকরিয়া করও আমি একটু কম খারাপ।” জ্যাক ঘরের ফায়ারপ্লেসের আগুনটাও এক ফুঁক দিয়ে নিভিয়ে দিল। পুরো ঘরটা এখন এক কুচকুচে অন্ধকারে ডুবে গেল। সে ক্লারার কাঁপতে থাকা দুর্বল শরীরটাকে নিজের চওড়া, শক্ত বাহুর মাঝে একদম আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ল। ক্লারা অবচেতন মনেই জ্যাকের চওড়া পিঠের চামড়াটা নিজের নখ দিয়ে আঁচড় কেটে সরানোর চেষ্টা করল। একটা সই এর মাশুল তাকে আর কতভাবে দিতে হবে?
চলবে?

