Secret Lover Part-08

0
715

Story – Secret Lover
Writer – Tafsirah Islam
Part – 8

রুহান : বেশি বলে ফেললাম নাকি..

রুহান ল্যাপটপ অন করে দেখে তিথি রাগে লাল হয়ে গেছে..আর রুহানকে ইচ্ছে মতো বকছে..

তিথির ফোনে ম্যাসেজ আসলো

** hey sweetheart তুমি এতো রাগ কর কেন গো..রাগলে তোমাকে অনেক বেশি কিউট লাগে… আর তখন নিজেকে কন্ট্রোল করতে কষ্ট হয়…পরে কিন্তু কোন দিন কন্ট্রোল হারিয়ে ফেললে আবার আমার দোষ দিতে পারবেনা হুম **

তিথি তো এবার রেগেমেগে আগুন.. পারেনা ফোনের মধ্য থেকে একে বের করে চিবিয়ে খেয়ে ফেলে

তিথি : ??? ওওওওহ…মন তো চাচ্ছে শালার বজ্জাত স্যার এর মাথায় আগুন ধরায় দিই..
আমার পারসোনাল ব্যাপারে উনি নাক গলানোর কে??
ওনাকে কে দিছে এই অধিকার ?
উনি আমার বস এই পর্যন্তই শেষ.. ?
বেশি বাড়াবাড়ি করলে এই জব এরই দরকার নেই হুহ..

রুহান দেখছে আর হাসছে ??
রুহান : তোমার উপর সবচেয়ে বেশি অধিকার তো আমারই তিথি..

লাঞ্চ টাইম হয়ে গেছে রুহান দেখে তিথি রাগে এখনো লাঞ্চ করেনি ফাইল নিয়ে বসে আছে .. তাই রুহান তিথির কাছে যায়…

রুহান : মিস. তিথি এখন লাঞ্চ টাইম আপনি এখানে বসে আছেন কেন যান লাঞ্চ করুন

তিথি : আমার ইচ্ছে নেই আমি এখন লাঞ্চ করবো না এনি প্রব্লেম

রুহান : হুম অনেক প্রব্লেম.. যান লাঞ্চ করুন

তিথি : যাবো না..আর স্যার আপনি আমার বস বসের জায়গায় থাকুন বেটার হবে নাহলে…

রুহান : নাহলে কি হবে বলুন
( তিথির দিকে এগোতে এগোতে)

তিথি : নাহলে আমি এই জবটাই ছেড়ে দিব ( বলেই তিথি যাওয়ার জন্য উঠে দাড়ালো)

তিথি রুহানের পাশে দিয়ে যেতে নিলেই রুহান তিথির হাত চেপে ধরে
রুহান তিথির হাত ধরে এক টানে নিজের কাছে নিয়ে আসে আর টেবিলের সাথে চেপে ধরে

রুহান : ভুলেও এই চিন্তা আর কোনো দিন মাথায় আনবেন না..

তিথি : আমি বাধ্য নই আপনার কথা মানতে আর না আপনার এখানে জব করতে

রুহান : হ্যাঁ আপনি বাধ্য এখানে জব করতে.. আপনি হয়তো কন্ডিশনস গুলো ভুলে গেছেন

তিথি : না ভুলিনি.. আর আপনি যে আমার পারসোনাল লাইফে ইন্টার ফিয়ার করবেন এমন কোনো কন্ডিশন যে ছিল না সেটা হয়তো আপনার জানা আছে

তিথির কথা শুনে রুহানের প্রচুর পরিমানে রাগ হচ্ছে
তিথিকে আরও জোরে চেপে ধরে

রুহান : হ্যাঁ জানি আমি.. আর আপনার পারসোনাল ব্যাপারে ইন্টার ফিয়ার করতে আমার কোনো কন্ডিশন এর প্রয়োজন নেই

তিথি : কেন কে আপনি শুনি

রুহান : আ’ম ইউর বস

তিথি : বসের কাজ তার এমপ্লয়িদের লাইফে ইন্টার ফিয়ার করা না

রুহানের এবার ইচ্ছে করছে তিথিকে ধরে এক আছার মারতে

রুহান আর কিছু না বলে রেগে অফিস থেকে চলে যায়

তিথি : কি মনে করে উনি নিজেকে… উনি বস বলে যা খুশি তাই করবেন নাকি ??

সন্ধ্যায় রুহানের হঠাৎ মনে পরে কালকের মিটিং এর ফাইল অফিসেই রয়ে গেছে তাই রুহান অফিসে যায় ফাইল আনতে..

রুহান গিয়ে দেখে সবাই চলে গেছে শুধু শিহাব আর তিথি বসে বসে কাজ করছে.. তাও আবার শিহাব তিথির কেভিনেই বসে কাজ করছে..
শিহাবকে দেখেই রুহানের মাথায় আগুন..

রুহান : মি. শিহাব অফিস টাইম শেষ আপনি এখনো এখানে কি করছেন
শিহাব : স্যার একটু কাজ বাকি ছিল তাই ভাবলাম শেষ করেই যাই

রুহান : এগুলো আপনি বাসায় গিয়েও করতে পারবেন.. এখন আসুন

শিহাব : আসলে স্যার মিস. তিথি মেয়ে মানুষ এতো রাতে একা কিভাবে যাবে.. তাই ভাবলাম যাওয়ার সময় ওনাকে বাসায় ড্রপ করে দিয়ে যাই

রুহান : লিসেন মি. শিহাব আপনাকে এখানে কজের জন্য রাখা হয়েছে কারো গার্ড হিসেবে রাখা হয়নি..আর আপনাকে এতো ভাবতেও হবে না..সো আপনি আসতে পারেন

শিহাব : কিন্তু স্যার
রুহান : ? কি হলো ( রাগী লুক নিয়ে)

শিহাব আর কিছু না বলে চলে যায়..

রুহান ফাইল নিয়ে যাওয়ার সময় দেখে তিথি এখনও বসে আছে

রুহান : এই মেয়েটা সবসময় আমাকে রাগায়
রুহান : মিস. তিথি আপনি এখনো বসে আছেন কেন আপনাকে আলাদা করে বলা লাগবে

তিথি উঠতে গেলেই মাথা ঘুরে পড়ে যেতে নেয় আর রুহান ধরে ফেলে

রুহান : তিথি.. এই তিথি
রুহান তিথিকে চেয়ারে বসিয়ে চোখে মুখে পানি দেয় কিন্তু তিথির জ্ঞান ফিরে না দেখে তিথিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়

রুহান : ডক্টর আমার তিথির কিছু হয়নি তো..

ডক্টর : don’t worry..উনি ঠিক আছেন..
শরীর খুব দুর্বল আর না খেয়ে থাকার কারণে এমনটা হয়েছে..
উনি যেন ঠিক মতো খাবার খায় সেই দিকে খেয়াল রাখবেন..
আর দু এক দিন একটু রেস্ট নিলেই ঠিক হয়ে যাবেন

রুহান : জি আমি খেয়াল রাখবো

রুহান : চলুন আপনাকে বাসায় দিয়ে আসি ( তিথিকে)
তিথি : আমি নিজেই পারবো ( বলে হাটা শুরু করে)
রুহান তিথির হাত ধরে ফেলে..
রুহান : আপনি এতো বেশি বুঝেন কেন
তিথি : আপনি…….
রুহান : হুশ……কোনো কথা নয় ( তিথির ঠোঁটে আঙুল দিয়ে আলতো করে ছুঁয়ে দিয়ে)

তিথিকে কোলে তুলে নিয়ে গাড়িতে বসিয়ে দেয়

রুহান ড্রাইভ করছে আর আড়চোখে তিথিকে দেখছে

রুহান : এই রাত যেন তোমার সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে.. ইচ্ছে হচ্ছে মনের কথা গুলো তোমায় বলে দেই যে কতটা ভালোবাসি তোমায় ( মনে মনে)
রুহান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ড্রাইভিং এ মন দিল

রুহান : পৌঁছে গেছি…

রুহান তিথির দিকে তাকিয়ে দেখে তিথি ঘুমিয়ে পড়েছে
তাই আর তিথিকে না ডেকে কোলে তুলে নেয়..
কোলে নিতেই তিথির ঘুম ভেঙে যায়

তিথি : আরে আরে কি করছেন.. আমি যেতে পারবো.. নামান আমাকে
রুহান : উহু..বড্ড বেশি কথা বলো তুমি

রুহান তিথিকে নিয়ে বাসায় যেতেই তিথির মা তিথির অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে যান

রুহান : আপনি চিন্তা করবেন না আন্টি.. আমি সব বলছি আপনাকে.. কিন্তু তিথির এখন রেস্ট দরকার

রুহান তিথিকে রুমে শুইয়ে দিয়ে এসে তিথির মাকে সব খুলে বলে

রুহান : আন্টি ওর খাওয়া দাওয়ার একটু খেয়াল রাখবেন আর দু দিন রেস্ট নিলেই ঠিক হয়ে যাবে

তিথির মা : তোমাকে অনেক ধন্যবাদ বাবা..কিন্তু তুমি কে তা তো বললে না

রুহান : আন্টি আমি একটু তিথির সাথে দেখ করে আসি এখন যেতে হবে

তিথির মা : সে কি খেয়ে যাও
রুহান : না আন্টি অন্য দিন.. আজ যেতে হবে

রুহান তিথির রুমে গিয়ে দেখে তিথি ঘুমিয়ে আছে
রুহান তিথির মাথায় হাত রাখতেই তিথি উঠে যায়.. তিথি উঠে বসতে নিলেই

রুহান : আরে উঠতে হবে না শুয়ে থাকুন আপনি
আর হ্যাঁ দু দিন আপনার ছুটি, আপনাকে অফিসে যেতে হবে না, আর ভার্সিটিতেও না

তিথি : না স্যার আমি ঠিক আছি,আর আজই তো অফিস জয়েন করলাম

রুহান : মিস. তিথি আপনি না খুব বেশি বুঝেন…
লিসেন মিস. তিথি আমার কথা না শুনলে কিন্তু এখনই আপনাকে তুলে নিয়ে যাবো, আর আপনার ওই মিসেস. তিথি চৌধুরী সত্যি করে দিব.. ( কানের কাছে মুখ নিয়ে)
এখন আসি.. good night and take care☺
কপালে আলতো করে চুমু দিয়ে চলে গেলো

তিথি : কি হলো এটা ??

সকালে…
তিথি ঘুম থেকে উঠতেই ডোরবেল বেজে উঠলো…

দরজা খুলে যেন তিথি একটা বড়সড় ধাক্কা খেল ??
।।
।।
চলবে….