Secret Lover Part-09

0
664

#Story – Secret Lover
Writer – Tafsirah Islam
Part – 9

সকালে…
তিথি ঘুম থেকে উঠতেই ডোরবেল বেজে উঠলো…

দরজা খুলে যেন তিথি একটা বড়সড় ধাক্কা খেল ??

একজন লোক বড় একটা ফুলের তোড়া নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,, তোড়ার জন্য মুখটা দেখা যাচ্ছে না…
আর কয়েকজন লোক অনেক গুলো বক্স নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে

রুহান : good morning মিস. তিথি ☺

তিথি : স্যার আপনি এখানে এই সময়ে ?? আর ওনারা কারা…এসব কি? ?

রুহান : কেন আসতে পারি না নাকি..আর এখানেই সব জিজ্ঞেস করবেন নাকি, ভিতরে আসতে বলবেন না, নাকি এখানেই দাড় করিয়ে রাখবেন

তিথি : ??

তিথির মা দরজার কাছে এসে দেখেন রুহান…
আরে বাবা তুমি এসো এসো ভিতরে এসো
রুহান : জি আন্টি.. কেমন আছেন আপনি?
তিথির মা : হ্যাঁ বাবা ভালো..আর এসবের কি দরকার ছিল
আচ্ছা তোমরা কথা বলো আমি আসছি

তিথি কিছু না বলেই রুমে চলে গেলো রুহানও তিথির পিছনে পিছনে গেল

রুহান : মিস. তিথি আমি আপনার বাসায় এসেছি আর আপনি আমাকে একা রেখে চলে এলেন, আর আপনি এখনো সুস্থ হননি তাই এদিক ওদিক ঘুরাঘুরি না করে রেস্ট নিন

তিথি : স্যার এটা আপনার অফিস না এটা আমার বাসা, সো আমার যা খুশি তাই করবো

তিথি রুহানকে আর কিছু বলতে না দিয়েই বারান্দায় চলে গেলো..

রুহানও বারান্দায় গিয়ে তিথির পাশে দাড়ালো..
তিথি রুহানকে দেখে যেতে নিলেই রুহান তিথির হাত ধরে এক টানে নিজের কাছে নিয়ে আসে…

তিথি : কি করছেন স্যার ছাড়ুন

রুহান তিথিকে আরো কাছে টেনে নিল…
একহাত তিথির কোমড়ে আরেক হাত দিয়ে তিথির সামনে আসা চুল গুলো কানে গুজে দিচ্ছে

তিথি এখনো নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে

রুহান : উফফ এতো রাগ… মিস. তিথি আপনি কি জানেন রাগলে আপনাকে কতটা কিউট লাগে.. পুরো টমেটোর মতো লাগে… ইচ্ছে তো করে খেয়েই ফেলি
তিথি : ? ছাড়ুন বলছি
রুহান : উহু এতো সহজে ছাড় ছিনা

তখনই তিথি রুহানের হাতে জোরে চিমটি কেটে পালিয়ে যায়
রুহান : তিথিইইইইই…
আজতো খবর আছে তোমার

রুহান রুমে এসে দেখে তিথি নেই আর তখনই
তিথির মা : তুমি এখানে একা একা কি করছো বাবা খেতে এসো
রুহান : না আন্টি যেতে হবে
তিথি : হুম আম্মু ওনার অনেক কাজ আছে যেতে দাও
তিথির মা : তুই চুপ থাক..আর আজ কিছু শুনছি না..আজ তোমাকে না খেয়ে যেতে দিচ্ছি না..
তিথি ওনাকে নিয়ে আয় আমি খাবার সার্ভ করছি
তিথি : চলুন স্যার ?

তিথির মা, তিথি আর রুহান একসাথে নাস্তা করছে..
রুহান একটু পর পরই পা দিয়ে তিথির পায়ে খোঁচা দিচ্ছে.. তিথি তো রাগে শেষ..

রুহান : আচ্ছা আন্টি একটা ইম্পর্ট্যান্ট মিটিং আছে এখন যেতে হবে

তিথির মা : আচ্ছা আবার এসো..

অফিসে…

রুহান মিটিং শেষ হতেই তিথিকে call দেয়…
তিথি তো পরে পরে ঘুমাচ্ছে…
কয়েকবার কল দেয়ার পর তিথি ফোন রিসিভ করে

তিথি : হ্যালো
রুহান :……….. ( চুপ )
তিথি : ওই কেরে ফোন দিয়া আমার এতো সুন্দর ঘুমের ১২ টা বাজাইয়া এখন চুপ করে আছে…
রুহান : তিথিইইইইইইই….
তিথি : ওই আস্তে চিল্লান… আমি বয়রা না…আর কে আপনি হুম
রুহান : মিস. তিথি আপনার মাথা কি ঠিক আছে… কি আবোলতাবোল বকছেন…

এতক্ষণে তিথির হুশ আসছে… তিথি ফোন সামনে এনে দেখে রুহান

তিথি : এই রে… এই বজ্জাত স্যার তো এখন আমার ১২ টা বাজাবে

তিথি : স্যার সরি আসলে ঘুমাচ্ছিলাম তো তাই খেয়াল করিনি
রুহান : ক’টা বাজে এখন?
তিথি : স্যার আপনি সামান্য টাইম জিজ্ঞেস করতে আমার এতো সুন্দর ঘুমটা নষ্ট করলেন ?
রুহান : শুধু যা জিজ্ঞেস করেছি তার উত্তর দিন
তিথি : ৩ টা বাজে ?
রুহান : হুম ৩ টা বাজে আর আপনি এখনো লাঞ্চ করেননি কেন ?
তিথি : স্যার ঘুমাচ্ছিলাম তো তাই ?
রুহান : এক্ষুনি যান লাঞ্চ করুন ??
তিথি : আমি এখন ঘুমাব ?
রুহান : তিথিইই… এক্ষুনি যান বলছি
তিথি : হুহ…এটা আমার বাসা এখানে আপনার কোনো হুকুম চলবে না ?
রুহান : আপনি যাবেন না আমি আসবো.. আমি আসলে কিন্তু খুব খারাপ হবে
তিথি : হুহ..আমি দরজা খুলবো না ?
রুহান : ওকে..

তিথি ফোন রেখেই ঘুম…

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ তিথির মনে হলো ও দুলছে…
ঘুমের মধ্যেই বলে উঠলো
তিথি : আম্মুউউউউ… ভুমিকম্প
সাথে সাথেই তিথিকে খাটে নামিয়ে দিলো
তিথি চোখ খুলেই
তিথি : আ…..
তিথি চিৎকার দেয়ার আগেই তিথির মুখ চেপে ধরলো
রুহান : উফফ এতো জোরে কেউ চিৎকার দেয়.. আরেকটু হলেই তো কান শেষ হয়ে যেত
তিথি : ?? তাহলে তো ভালোই হতো..
রুহান : কি….? আমার কানের ১২ টা বাজিয়ে বলা হচ্ছে ভালো হতো..তবে রে
তিথি : স্যার স্যার স্যার.. আমি কিন্তু আবার চিৎকার দিব..আর বয়রা হলে কিন্তু বউ পাবেন না?
রুহান : নো প্রব্লেম মিস. তিথি আপনি আছেন তো, আপনাকেই নাহয় মিসেস. চৌধুরী করে নিব
তিথি : ?..
রুহান : এখন খেতে চলুন, নাহলে খুব খারাপ হবে ?
তিথি : আচ্ছা স্যার আপনি আসলেন কিভাবে? আম্মু তো বাসায় নেই আর আমিও তো দরজা খুলিনি
রুহান : রুহান চৌধুরীর জন্য এটা কোন ব্যাপার না ?
তিথি : ঢং ?
রুহান আর কিছু না বলে তিথিকে কোলে তুলে নিল
তিথি : আরে স্যার আমার পা আছে আমি যেতে পারবো
রুহান : হুম জানি তো কতোটুকু পারবেন

রুহান তিথিকে চেয়ারে বসিয়ে দিল..
রুহান : নিন হা করুন
তিথি : স্যার আমার হাত আছে
রুহান : ? ( রাগী লুকে তাকাতেই)
তিথি : স্যার কখন থেকে হা করে আছি.. ?
রুহান : গুড গার্ল..
রুহান তিথিকে খাইয়ে ঔষধ খাইয়ে দিল..
রুহান তিথির গালে হাত দিয়ে
নিজের খেয়াল রাখবেন.. এখন আসি
বলে যেই মুখটা তিথির কাছে নিলো ওমনি তিথি হাত দিয়ে কপাল ঢেকে নিল
..
রুহান মুচকি হেসে তিথির গালে চুমু খেয়ে বেরিয়ে গেল
তিথি : ?..কি হলো এটা.. এখন থেকে মাস্ক পরে সামনে যাবো…

সন্ধ্যায় তিথি বসে বসে টিভি দেখছে…
তিথির মা : তিথি কিছু খেয়ে নে…
তিথি : উহু না..এখন কিচ্ছু খাব না

তখনই তিথির ফোনে call আসলো..
তিথি ফোন হাতে নিয়ে দেখে রুহান ফোন করেছে..
তিথি : উফফ এই বজ্জাত টা এখন ফোন দেয় কেন..
তিথি : হ্যালো
রুহান : কি হ্যালো.. এখানো কিছু খাননি কেন.. ডক্টর কি বলেছেন মনে নেই.. এক্ষুনি খেয়ে ঔষধ খান নয়তো…. আর দুপুরের ঘটনা নিশ্চয় মনে আছে
তিথি : জি স্যার যাচ্ছি.. নিজের বাড়িতেও শান্তি নেই ?

তিথি খেয়ে ঔষধ খেয়ে নিলো..

দু দিন পর কলেজে…

রিয়া : আরে তিথি এই দুই দিন কলেজে এলিনা যে
তিথি : আরে একটু অসুস্থ ছিলাম
রিয়া : জানিস এই দু দিন রুহান স্যার ও আসেননি..
তিথি : হুম আসলে আমারে জালাইতো কে ( মনে মনে)
আলিয়া : হ্যাঁ রে আমি তো স্যার কে খুব মিস করছি ?
তিথি : তোদের আজাইরা বকবক শেষ হলে ক্লাসে যাওয়া যাক ?
আলিয়া : হুম চল.. আজতো রুহান স্যার ও এসেছেন ☺..মনে হয় যেন কতো বছর পর স্যারকে দেখলাম
তিথি : ওই তুই স্যার রে চিনস কয়দিন ধরে..
যত্তসব লুচ্চা পাবলিক ?স্যার দেখলেই ক্রাশ খাইতে মন চায় ?

ক্লাস শেষে রুহান তিথিকে তার কেভিনে ডেকে পাঠায়

তিথি : may i come in sir?
রুহান : come in
তিথি : স্যার আপনি ডেকেছিলেন?
রুহান : ইয়েস মিস. তিথি বসুন
তিথি বসে পরলো..
রুহান : মিস.তিথি আপনি স্টুডেন্ট তাই আপনাকে ক্লাস টাইম দেয়া হয়েছে কিন্তু ক্লাস শেষে আপনি সরাসরি আমার সাথেই অফিসে যাবেন
তিথি : কিন্তু স্যার

রুহান তিথির দিকে চোখ বড়ো করে তাকাতেই তিথি ভয় পেয়ে যায়
রুহান চেয়ার থেকে উঠে তিথির সামনে গিয়ে দাড়ায়
তিথির দিকে ঝুকে অনেকটা কাছে গিয়ে
রুহান : এনি প্রব্লেম
তিথি : ন..ন..নো স্যার
রুহান : ? গুড
চলুন তাহলে যাওয়া যাক
তিথি : স্যার আপনি না সরলে আমি উঠবো কিভাবে ?
রুহান : ওহ সরি..চলুন

রুহান ড্রাইভারকে পাঠিয়ে দিছে তিথির সাথে একা যাওয়ার জন্য
রুহান ড্রাইভ করছে আর আড় চোখে তিথিকে দেখছে

রুহান : যতই দেখি ততই তোমার প্রেমে পড়ি?? (মনে মনেই বললো)

রুহান : চলে এসেছি নামুন

তিথি আর রুহান অফিসে ঢুকে গেল
।।
।।
চলবে…..