অনুরাগের ছোঁয়া পর্ব-১৬

0
621

#অনুরাগের ছোঁয়া
#নবনী-(লেখনীতে)
#পর্ব-১৬
||

ওপাশ থেকে কল কাঁটলেই আরিফ চৌধুরী সোফায় ধপ করে বসে পরেন।তার মাথায় কাজ করছে না। অনুরাগ জানলে কী করবে এটা ভেবেই তিনি কপালের উপর হাত রেখে সোফায় মাথা এলিয়ে নেয়।

অনুরাগ তার মায়ের সাথে কথা বলতে বলতে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছে।নিচে নামতেই তাদের চোখ গেলো সোফায় বসে থাকা তার বাবার দিকে।তার বাবা যে কোন বিষয় নিয়ে চিন্তিত আছে তারা দুজনেই ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছে।তারা গিয়ে অনুরাগের বাবার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।তারপর অনুরাগের মা গলা খাকড়ি দিয়ে বলে…

–কি গো এভাবে কপালে হাত দিয়ে বসে আছো কেন?

অনুরাগের মার গলার আওয়াজ পেয়ে তার বাবা কপাল থেকে হাত সরিয়ে চোখ তুলে সামনের দিকে তাকায়।সামনের দিকে তাকিয়ে তিনি আরও চিন্তায় পরে যায় কেননা তার স্ত্রীর সাথে তার ছেলে ও দাঁড়িয়ে আছে।সে তার ছেলের সামনে কীভাবে ছোঁয়ার বিয়ের কথা বলবে। আর তার ছেলে শোনলেই কীরকম রিয়েকশন করবে এটা ভেবেই তার কপালে কয়েকটা বাজ পরে যায়।তিনি নিজেকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক করে বলে…

–এমনিতেই বসে আছি।

–তুমি কথা ঘুরাচ্ছ কেন?আমরা দেখতে পাচ্ছি তুমি কোন কিছু নিয়ে টেনশন করছো।

–বলছি তো তেমন কিছু না।

এবার অনুরাগ মুখ খুলে।সে তার বাবাকে বলে..

–বাবা কি হয়েছে তোমার। তোমাকে এত টেন্স দেখাচ্ছে কেন?

এবার আরিফ চৌধুরী কিছুটা রাগী ভাবে বলল,

–বলছি না আমার কিছু হয়নি।তোমরা দুজন আমাকে একই প্রশ্ন বার বার জিজ্ঞেস করছো কেন।

অনুরাগ ও দমে যাওয়ার পাত্র নয়।সে তার বাবার রাগী ভাবকে পাত্তা না দিয়ে তার বাবাকে জিজ্ঞেস করেই যাচ্ছে।সাথে তার মা ও যোগ দিয়েছে।তাদের দুজনের জোরা জুরিতে অবশেষে আরিফ চৌধিরী না পেরে তাদের ছোঁয়ার বিয়ের ঠিক হওয়ার সব ঘটনা একের পর এক সব খুলে বলল।সব শোনে অনুরাগের মা ভীষন ভাবে আৎকে উঠে কেননা,তার ছেলে যদি কিছু করে বসে।এটা ভেবে তিনি মনে মনে অনেক ভয় পেয়ে যায়।তিনি যদি এই ব্যাপারে আগে জানতেন তাহলে তার স্বামীকে অনুরাগের সামনে বলার জন্য জোরাজুরি করত না।তিনি ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তার স্বামীর দিকে তাকিয়ে দেখেন তিনি রাগী চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছেন।তিনি এবার বুঝতে পেরেছেন কেন তার স্বামী সবটা বলতে চাননি।অনুরাগের বাবা-মা দুজনেই অনুরাগের দিকে তাকিয়েছেন।এবার শুধু দেখার পালা তাদের ছেলে কিরকম রিয়েকশন দেয়।

হঠাৎ তাদের দুজনকে অবাক করে দিয়ে অনুরাগ জোরে জোরে হেসে উঠে।অনুরাগের এমন ব্যবহারে তার মা বাবা দুজনে ভীষন চিন্তায় পরে যায়।অনুরাগের হাসার কারন তারা দুজনে খুঁজে পায় না।তারা ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকিয়ে আছে তার কথার শোনার অপেক্ষায়।

অনুরাগ হাসি থামিয়ে বলে, বাবা ছোঁয়ার বিয়ে ঠিক হয়ে যাচ্ছে বলে তুমি আমার জন্য টেনশন করছো তাই না।তুমি হয়তো ভাবছো আমি এটা শোনার পর নিজের কিছু একটা করে ফেলব তাই তো।শোন বাবা,আমি আমার মনকে অনেক বুঝিয়েছি,আমি তোমাকে আবার ছোঁয়ার বাবার সাথে কথা বলতে বলেছিলাম তখনই আমি মনে মনে ঠিক করেছি যদি তারা আমাকে আরেক বার সুযোগ দেয় তাহলে আমি ছোঁয়াকে বিয়ে করে নিজের রানী করে রাখবো। তাকে কোন কষ্ট পেতে দিবো না।আর যদি আমাকে আর কোন সুযোগ না দেয় তাহলে আমি আর ছোঁয়ার কাছে যাবো না।এখন তো ছোঁয়ার বিয়ে ঠিকই হয়ে গেছে তাহলে আমি আর তাকে ডির্স্টাব করবো না।তাই তুমি ও কোন টেনশন করো না।আমরা অনেক আনন্দ করব ছোঁয়ার বিয়েতে গিয়ে।তোমরা দুজনে আমার জন্য কোন কষ্ট পেয় না।

অনুরাগের কথাগুলো যেন তাদের দুজনের মাথার উপর দিয়ে গেলো।তারপর আরিফ চৌধুরী ভাবলেন তার ছেলে এখন মনে হয় বুঝতে পেরেছে।তাই তিনি অনুরাগের কাছে গিয়ে তাকে জরিয়ে ধরে বলে,তুই বুঝতে পেরেছিস এই বেশী।পাশ থেকে তার মা তাদের কাছে এসে বলে,আমি তোর জন্য ছোঁয়ার থেকে সুন্দর বউ এনে দেব।অনুরাগ তার বাবা মাকে জরিয়ে ধরে হেসে দেয়।তারপর তাদের সাথে কিছুক্ষন গল্প করে উপরে চলে যেতে নেয়।সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে সে পেছন ফিরে তার মা বাবার দিকে তাকিয়ে একটা ডেবিল স্মাইল দেয়।তার হাসি দেখে বুঝা যাচ্ছে যে, সে বড় কোন রকম প্লেন করছে।

_________________________

আবিরকে ইদানিং একটু বেশী খুশি থাকতে দেখা যায়।খুশি থাকবেই বা কেননা,সে তার মনের মানুষকে নিজের করে পেতে চলেছে এর থেকে বেশী পাওয়া তার জীবনে আর কিছুই নেই।সে পেশেন্ট দেখে তার কেবিনে গেলো।কেবিনে গিয়েই দরজা ঠেলে ভিতরে ডুকতেই দেখতে পেল সেখানে রিয়া বসে ডায়রীতে।কিছু একটা লিখছে।দরজা খোলার শব্দ শোনে রিয়া ঘাড় বাঁকিয়ে পেছন ফিরে তাকালো।পেছন ফিরে আবীরকে দেখতে পেয়ে সে লিখা অফ করে ডায়রীটা বন্ধ করে ফেলল।রিয়াকে ডায়রীটা বন্ধ করতে দেখে আবীর ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকালো।তারপর সে সেদিকে পাত্তা না দিয়ে তার জায়গায় গিয়ে বসল।তারপর রিয়াকে বলল…

–মিস রিয়া কখন এসেছে তুমি।

–কিছুক্ষন ধরে স্যার।

–ওহ।এসে আমার সাথে দেখা না করে এখানে বসে কি করছে।

রিয়া মাথা নিচু করে,

–সরি স্যার।আসলে আমি ভেবেছি আপনি নিজের কেবিনে আছেন তাই এসেই এখানে এসে পরেছি।এসে দেখি আপনি কেবিনে নাই। তাই এখানেই আপনার জন্য ওয়েট করছি।

–ঠিক আছে।

আবীর আর কথা বাড়ালো না।সে নিজের টেবিলের ড্রয়ার থেকে একটা কার্ড বের করে রিয়ার দিকে এগিয়ে দিলো।রিয়া কার্ড টা হাতে নিয়ে জিজ্ঞেস করল..

–এটা কিসের কার্ড স্যার।

–আমার আর ছোঁয়ার বিয়ের কার্ড।

–কথাটা শোনা মাত্র ছোঁয়ার মনের ভেতর তোলপাড় শুরু হয়ে গেলো।সে জানত ছোঁয়াকে স্যার ভালোবাসে।তাই বলে এত তারাতারি বিয়ে ঠিক হয়ে যাবে সে ভাবতে পারে নাই।তার বুঁকটা কষ্টে ফেঁটে যাচ্ছে।তার চোখ থেকে দুফোঁটা জল গড়িয়ে পরল।আবির দেখার আগে রিয়া সেটা মুছে ফেলল।তারপর কাঁপা কাঁপা গলায় বলল..

–কংগ্রাজোয়েলেশন স্যার।

–রিয়ার কথায় আবির মুচকি হাসল।তারপর তাকে বলে,জান রিয়ো আমি ভাবতেই পারিনি আমি ছোঁয়াকে এক সহজে পেয়ে যাবো।আমি অনেক হেপি রিয়া।আমার বিয়ের প্রত্যেকটা রিচুয়ালে তোমাকে থাকতে হবে।আর তোমার ফ্যামিলিকে অবশ্যই সাথে করে নিয়ে আসবে।

সে কোন রকম কান্না আটকে বলল,

–অবশ্যই থাকব স্যার আপনি কোন চিন্তা করবেন না এটা বলে সে আবিরের কাছ থেকে জরুরি একটা কাজে আছে বলে ছুটি নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে আসল।আসার সময় সে ভুল করে তার ডায়রীটা আবিরের কেবনে রেখে আসল।

হঠাৎ রিয়ার বেড়িয়ে যাওয়া কারন আবীর বুজতে পারল না।সে সেটা নিয়ে তেমন কিছু ভাবলো না।তারপর তার চোখ গেলো রিয়ার রেখে যাওয়া ডায়রীটার উপর।সে দাড়িয়ে ডায়রীটা হাতে নিলে। তার কোন কাজ না বিদায় সে ঠিক করল ডায়রীটা পরবে।যদি ও কারো পার্সোনাল জিনিস হাত দেওয়া ঠিক নয়।তবুও গোপন জিনিসে আগ্রহ বেশী থাকে।যেমন ভাবা তেমন কাজ সে ডায়রীটার প্রথম পাতা খুলে আৎকে উঠল।



#চলবে?