#অবশেষে তুমি আমার
# পর্ব:3+4
#লেখনিতে: রিদিকা আফরোজ রোজা
আস্থা রুমে কফি নিয়ে ডুকে দেখে আভি এখনো ঘুমে । আস্হা আভি কে বলে এই যে শুনছেন উঠোন আপনি। আভি ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে মম আজ এগারোটাই মিটিং দেরিতে যাবো একটু ঘুমাই প্লিজ। আস্থা বলে মিঃ আভি আমি আপনার মম না আমি আস্থা আপনার এক বছর এর বউ । আভি বলে দূর কিসের বউ আমি বিয়ে করিনি বউ আসবে কোথা থেকে পাজলামি করবি না সকাল সকাল আরশি। আস্থা এবার গরম কফিতে আভির আঙ্গুল ডুবাই আভি এক লাফে উঠে পরে আর বলে এসব কি আস্থা দিলে তো হাতটা পুড়ে এই ভাবে কেউ ঘুম ভাঙ্গাই নাকি? আস্থা বলে কি করবো এতো কোন দরে ডাকছি আপনার কফি। আভি বলে তুমি বানিয়েছো? আস্থা বলে জি না আমি পারি না মম করে দিয়েছে আর আপনি না বললেন হেপি কাপাল এর অভিনয় করতে তাই নিয়ে এলাম আমি কফি। আস্থার কথা শুনে কেনো যানিনা আভির মন টা খারাপ হয়ে যাই সেটা আভি বুজতে পারে না। আস্থা আভি কে উদ্দেশ্যে করে বলে ফ্রেশ হয়ে নিছে আসুন নাস্তা করবেন মম ডাকছে বলেই বেরিয়ে যাই।
আস্থা শ্বশুর এর রুমে কফি নিয়ে ডুকে দেখে আস্থার শ্বশুর ম্যাগাজিন পড়ছে। আস্থা কফি রেখে বলে ডেড তোমার কফি। আভির বাবা বলে আরে মামুনি তুমি কষ্ট করছো কেনো কাজের লোক থাকতে যদি হাতে গরম কফি টা পরতো কি হতো। আস্থা আভির বাবা কে জরিয়ে ধরে বলে ডেড আমি এই বাড়ির বউ তাই শ্বশুর কে কফি দেওয়ার দায়িত্ব তো আমার আজ থেকে আমি তোমাকে কফি দিবো বুজলে। আভির বাবা বলে ঠিক আছে মামুনি এই নাও তোমার চকলেট বলেই একটা বক্স হাতে দেই আস্হা খুশি হয়ে বলে লাভ ইউ ডেড তখনি মনে হয় আস্হার বাবার কথা সাথে আস্থার মন খারাপ হয়ে যাই আস্থা মনে করতে থাকে সে তার বাবার খোঁজ নেই নি তার বাবা ও এমন করে রোজ চকলেট আনতো কিছু একটা ভেবে আস্থা বলে আমি রুমে যাচ্ছি ডেড বলেই নিজের রুমে ডুকে যাই ফোনটা হাতে নিয়ে যেই বাবা কে ফোন করবে ওমনি মনে হয়ে যাই ওর বাবা ওকে জোর করে বিয়ে দিয়েছে আস্থা আর ফোন দেই না।
ডাইনিং এ বসে এক সাথে নাস্তা করছে সবাই আস্থা বসেছে আভির পাশে। আস্থা খাবার রেখে বলে মম তুমি বসো আমি দেই সবাই কে। আভির মা বলে না তুই খা আমি দিচ্ছি আস্থা বলে তাহলে আমি ও দেই তোমার সাথে ওরা গেলে আমরা দুই জন এক সাথে খাবো বলেই উঠে পরে আস্থা আর একদম বউ এর মতো করে আভি কে খাওয়াচ্ছে আর আভির সাথে হাঁসছে । এটা দেখে আভির বাবা মা মনে মনে বলে যাক আমার ছেলে টা কে নিয়ে চিন্তা নেই আর ওরা খুশি আছে। এই দিখে আভি মনে মনে বলে বাহ আস্থা ভালোই অভিনয় যানে বলেই খাওয়া শেষ করে আভি বলে আসছি মম আসছি আস্থা । আস্থা আভি কে উদ্দেশ্যে করে বলে সাবধানে যাবেন । আস্থার কথা শুনে আভি মনে মনে বলে ভালোই অভিনয় বুজে কখোন কি বলতে হবে। এই দিখে আভি যানেনা আস্হা এটা মন থেকে বলেছে অভিনয় না। আস্থা মনে মনে বলে কি হচ্ছে আমার সাথে আমি আভি কে বলছি সাবধানে যেতে আমি তো আর সারা জীবন এর বউ না আভির তাহলে এই ভাবে বলছি কেনো না আস্থা এই আভির আসে পাশে থাকলে তুই পাগল হয়ে যাবি।
আস্থা আর আস্থার শাশুরি এক সাথে খেতে বসে আভি আর ওর বাবা চলে গেছে অফিস এ আভির বোন আরশি চলে গেছে ভার্সিটিতে। আস্থা কে তার শাশুরি বলে আস্থা কাল থেকে তুই ভার্সিটিতে যাবি আভি দিয়ে যাবে অফিস এ যাওয়ার পথে ওকে । আস্থা বলে এটা বলতে চাইছিলাম মম তুমি বলে দিলে। আস্থা শাশুরি বলে মেয়ের মনের কথা মা কে বলতে হয় না এই নে হা কর দেখি। আস্থা হা করে আর তার শাশুরি থাকে খাইয়ে দেই আস্থার চোখে জল চলে আসে। আভির মা বলে কাঁদছিস কেনো তুই। আস্থা বলে এতো বছর পর মায়ের হাতে এই প্রথম খেলাম মনে হচ্ছে মা খাইয়ে দিচ্ছে । শান্তি চোধুরি বলে আজ থেকে তিন বেলা আমি খাইয়ে দিবো কেমন এবার খা খাওয়ার সময় কাঁদতে নেই মা ।
আস্থা বসে আছে ব্যালকনিতে তখনি দেখে আভির ফোন। আস্থা বলে কিছু হয়েছে আভি । আভি বলে না আসলে তুমি ঔষুধ খেয়েছে তো ।আভির কথা শুনে মনে পরে আস্থার ওর বাবা মনে না করলে ওষুধ খাই না মনে করে। আস্থা মনে মনে বলে বাবার পর আভি খেয়াল রাখলো কয় রিশাব তো এসব কখনো জিজ্ঞাসা করে নি। আভি বলে আস্থা তুমি শুনতে পাচ্ছো? আস্থার হুঁশ আসে আস্থা বলে না খাই নি। আভি বলে কি বাচ্চা দের মতো করো এখনি ঔষুধ খাও দেখো কাটের পাশে টেবিলে রাখা আছে খেয়ে নাও বলেই ফোন কেটে দেই। আস্থা ঔষুধ খেয়ে নেই। আর ভাবতে থাকে দুই দিন হয়নি বিয়ে হয়েছে আভি ওর সব দিখ খেয়াল রাখছে আর তিন বছর এ রিশাব কখনো জিজ্ঞাসা করে নি খেয়েছে কি না । আস্থা বলে রিশাব আজ চার দিন ফোন দেই না যে আমার সাথে কথা বলা ছারা এক মিনিট থাকতে পারতো না সে চার দিন দরে আমাকে একটা ফোন ও দিলো এতোই বিজি থাকে।
সন্ধ্যার দিখে আভি বাসাই আসে আস্থা দরজা খুলে দেই। আভি হাসি মুখে বলি গুড ইভিনিং। আস্থা ও বলে গুড ইভিনিং। এরপর এক সাথে দুই জন রুমে যাই। আস্থা আভি কে ওর টাউজার আর টাওয়াল দেই। আভি বলে বাহ আস্থা দেখছি ভালো অভিনয় পারে বাপরে সত্যি আস্থা আমাদের দেখলে সবাই হেপি কাপাল ভাববে বলেই ওয়াশ রোমে চলে যাই। আস্থার যেনো আভির এই কথাটা একটুও ভালো লাগেনি আস্থা বলে আচ্ছা আমি কি সত্য অভিনয় করছি নাকি সত্যি মন থেকে যদি অভিনয় করি তাহলে তো আভির কথায় খারাপ লাগার কথা না এসব ভাবতে থাকে। এই দিখে আভি ওয়াশ রুম থেকে বের হয়ে দেখে আস্থা কি ভাবছে আভি বলে ভাবনা কুমারী কি ভাবছো । আস্থা আনমনে বলে আপনাকে নিয়ে। আভি বলে কিইইই তুমি ঠিক আছো আস্থা জ্বর আসেনি নি তো। আস্থা বলে কেনো? আভি বলে এই যে মাএ বললে আমাকে নিয়ে ভাবছো তাই বললাম । আস্থা কথা পাল্টাতে বলে ওই সব কিছু না আপনার দিন আজকে কেমন কাটলো? আভি বুজতে পারে আস্থা কথা পাল্টাতে চাচ্ছে আভি বলে ভালোই কাটলো ।
চলবে….
#অবশেষে তুমি আমার
#পর্ব : 4
#লেখনিতে: রিদিকা আফরোজ রোজা
রাতের বেলায় সবাই এক সাথে খেতে বসে তখনি শান্তি চোধুরি বলে আভি কাল থেকে আস্থা ভার্সিটিতে যাবে তুমি ওকে দিয়ে আসবে। আভি বলে তোমাকে আর ডেড কে এটাই এখন বলতাম কাল থেকে আমি আস্থা কে নিয়ে যাবো এরপর যার যার রুমে চলে যাই। রুমে গিয়ে আভি লেপ্টপ নিয়ে বসে অফিস এর কাজ করে। আস্থা আভি কে উদ্দেশ্যে করে বলে বলে রাত এগারোটা এখন কিসের কাজ সারা দিন অফিস এ কি করেন? আভি বলে কালকের কাজ শেষ করছি। আস্থা বলে কালকের টা তো কালকে ও করা যাবে। আভি বলে তো কি করবো বলো আমার তো আর বউ নেই যে রোমান্স করবো । আস্থা বলে আমি তাহলে কে? আভি বলে তুমি তো আর আমার সারাজীবন এর বউ না এক বছর এর বউ তাও বিয়েটা মানোনা তাহলে কি করে রোমান্স করি তাই কাজ করছি। আচ্ছা তোমার ইচ্ছা করছে নাকি রোমান্স করতে? আস্থা বলে অসভ্য বাজে লোক আর কিছুই বলবো না আপনার কাজ আপনি করেন আমি গেলাম বলেই শুয়ে পরে আভি হাঁসতে থাকে।
রাত বারো টাই আভি কাজ শেষ করে আস্থার পাশে ঘুমিয়ে যাই। সকাল বেলা আস্থা ঘুম থেকে উঠে আভি কে তুলে কফি দেই এরপর দুই জন রেডি হয়ে বের হয় নিছে যাওয়ার জন্য। নিছে গিয়ে সবাই এক সাথে খাই এরপর আস্থা তার শ্বশুরির কাছে বিদায় নিয়ে আভির সাথে চলে যাই। আভির পাশে বসে আছে আস্থা আভি চালাচ্ছে কিছু কোন পর আস্থার ভার্সিটিতে পৌছায় আস্থা নামতে আভি বলে সাবধানে থেকো আর আমি আসবো নিতে যদি না আসি ঠিক সময় তাহলে গাড়ি পাঠিয়ে দিবো তুমি একা যেও না ওকে। আস্থা বলে ঠিক আছে। আভি আস্থার হাতে এক হাজার টাকা একটা নোট দেই। আস্থা বলে এটা কেনো। আভি বলে তোমার হাত খরচ ভার্সিটিতে এসেছো দরকার লাগতে পারে রেখে দাও বলেই গাড়িতে উঠে চলে যাই আর আস্থা ভাবতে থাকে আভি তার সব দিখ খেয়াল রাখে। এরপর আস্থা ক্লাসে চলে যাই।
এই দিখে আভির অফিসে এসেছে আস্থার বাবা। আভি বলে আরে বাবা আপনি আসবেন বললেন না। আস্থা বাবা বলে এই দিখে যাচ্ছিলাম তাই ভাবলাম তোমাকে দেখে যাই। আস্থা বাবা বলে আমার মেয়ে কেমন আছে। আভি বলে ভালো । আস্থার বাবা বলে খারাপ ব্যবহার করে তোমার সাথে বা পরিবার এর কারো সাথে? আভি বলে না বাবা ও সবার সাথে মিশে গেছে আর আমার সাথে ভালোই আচরন করে । আস্থার বাবা বলে আমার মেয়েটা ভুল বুজে আছে আমাকে । আভি বলে সব ঠিক করে দিবো আমি বাবা চিন্তা করবেন না আর খুব তারা তারি।
ভার্সিটি ছুটি হতেই বের হয়ে আভির জন্য দারিয়ে থাকে আস্থা তখনি দেখতে পাই আভির গাড়ি আসছে। আস্থা গিয়ে গাড়িতে উঠে আভি গাড়ি চালাতে থাকে। আস্থা আভি কে উদ্দেশ্যে করে বলে আপনি যে চলে এলেন কোনো কাজ নেই? আভি বলে না এখন ফ্রি আছি এক ঘন্টা পর একটা মিটিং তোমাকে বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে যাবো আমি অফিসে। আস্থা বলে ও তা দুপুরে খেয়েছিলেন না মানে আপনি তো আমার খোঁজ নেন আমি ও নিলাম। আভি বলে হুম খেয়েছি আমি আর কিছু কথা হয়নি নীরবতা দুইজনে এর মাজে কখোন যে বাসাই এসে গেছে কোনো খেয়াল নেই। আস্থা কে নামিয়ে দেই আভি । আস্থা আভি কে উদ্দেশ্যে করে বলে সাবধানে যাবেন বলে ভিতরে চলে যাই আভি ও মুচকি হাসি দিয়ে অফিস এ চলে যাই।
সন্ধ্যা বেলায় কাজ করছে আভি পাশে পড়তে বসেছে আস্থা । একটা টপিক আস্থা বার বার দেখছে বুজতে পারছে না যেটা আভি খেয়াল করেছে। আভি এবার আস্থা কে উদ্দেশ্যে করে বলে কোনো সমস্যা আস্থা হেল্প লাগবে বলো আমাকে । আস্থা বলে এই একটা টপিক বুজতে পারছি না। আভি এবার আস্থার কাছে গিয়ে বসে সুন্দর করে বুঝিয়ে দেই। আস্থা বলে বাহ দারুন বুজালেন কতো সহজে ধন্যবাদ আভি। আভি বলে ধন্যবাদ লাগবে না এটা দায়িত্ব আমার বলেই নিজের জায়গাতে বসে কাজ করে আর আস্থা পড়তে থাকে।
আভি কাজ শেষ হতে হতে রাত দশটা বাজে আভি দেখে আস্থা এখন ও পড়ছে। আভি আস্থা কে বলে চলো ডিনার করি বলেই দুই জন বেরিয়ে যাই এরপর খেয়ে রুমে আসে। আস্থা যেই শুতে যাবে ওমনি আভি বলে স্টপ আস্থা তোমার মেডিসিন খাও নি এরপর আভি মেডিসিনে খুলে আস্থার হাতে দেই আর পানি দেই আস্থা খাই আভি ওষুধ আর গ্লাস গুছিয়ে রাখে। আস্থা শুধু ছেয়ে ছেয়ে দেখছে আভি কে কতো টা কেয়ারিং প্রতিটা মেয়ে তো এমন স্বামী চাই যেটা আস্থা না চাইতে ও পেয়েছে এক বছর এর সম্পর্ক তবুও আভি তার কতো খেয়াল রাখছে সে এই মানেনা না তাও যদি আভি কে ভালোবাসতো আর বিয়ে মানতো তাহলে আভি কি করো এই সব ভাবছে আস্থা। আস্হা আনমনে বলে রিশাব এর আগে আপনি কেনো এলেন না আভি আমার জীবনে তাহলে হয়তো গল্পটা অন্য রকম হতো আমি রিশাব কে ভালোবাসি এখন আপনি চাইলে ও সেই জায়গা নিতে পারবেন না। আস্থা যানে ও না যে এই তিন দিনে মনের অজান্তে সে আভি কে জায়গা দিয়ে দিয়েছে। এরপর এসে লাইট নিবিয়ে দুই জন শুয়ে পরে।
সকাল বেলা সবাই এক সাথে বসে আছে ডয়িং রুমে আজ শুক্রবার সবাই বাসাই। আভির বাবা সবার উদ্দেশ্যে বলে আমি চাইছি আভি আর আস্থার রিসিপশন টা করে নিতে কি বলো সবাই। আভির মা বলে এটা তো ভালো কথা। আভি আস্থার দিখে থাকাই এরপর আভি মা কে বলে মম আমি একটু আস্থার সাথে কথা বলে আসছি বলেই আস্থা কে নিয়ে ওপাশে গিয়ে বলে তোমার কি কোনো আপত্তি আছে আস্থা না করলে বাবা মা কষ্ট পাবে তবে তোমরা আপত্তি থাকলে আমি অন্য ভাবে বলবো যাতে পরে করে। আস্থা বলে আমার কোনো সমস্যা নেই মম ডেড এর খুশির জন্য আমি সব করতে পারি কারন ওরা আমার ও মম ডেড। আভি বলে ধন্যবাদ আস্থা তাহলে ডেড করে বলি দুই দিন পর ডেট দিতে। আস্থা বলে ওকে। এরপর আভি ওর বাবা কে উদ্দেশ্যে করে বলে ডেড দুই দিপ পর ডেট দাও বাড়ি সাজানো লোক দাওয়াত করা দেরি তো লাগবে। আভির বাবা বলে তোমার ইচ্ছা তোমার শ্বশুর কে তাহলে বলে দেই উনার সাথে দেখি করে।
আস্থা শ্বশুর আর বাবা এক সাথে বসে আছে। আস্থা শ্বশুর বলে দুই দিন পর রিসিপ শান এর আয়োজন করেছি আপনি কি বলেন । আস্থা বাবা বলে কি বলবো আপনার ইচ্ছা । আস্থা শ্বশুর বলে তাহলে পরশু চলে আসবেন কেমন আর যেনো বলতে না হয় । আস্থার বাবা বলে অব্যশয় মেয়ের শ্বশুর বাড়ি বলে কথা আসতে তো হবেই।
চলবে…….