Home "ধারাবাহিক গল্প তুমি বৃষ্টি হয়ে নামলে তুমি বৃষ্টি হয়ে নামলে পর্ব-১৫

তুমি বৃষ্টি হয়ে নামলে পর্ব-১৫

0
473

#তুমি_বৃষ্টি_হয়ে_নামলে
#পর্বঃ১৫
#লেখনীতে_তানিয়া

নিয়াজ আর জাফরিনের একটা ছবি ফে”সবুকে রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গেছে। পদ্মার গল্পকথন নামে এক অনলাইন পেইজ থেকে নিয়াজ আর জাফরিনের সুন্দর মুহুর্তের একটা ছবি পোস্ট করা হয়েছে। যেখানে জাফরিন কদম ফুল হাতে নিয়ে লাজুক চোখে নিয়াজের দিকে তাকিয়ে আছে। নিয়াজও তার দিকে একটা প্রানবন্ত হাসি দিয়ে তাকিয়ে আছে। ছবিটির সাথে মিলিয়ে সুন্দর একটা ক্যাপশনও দেওয়া হয়েছে পোস্টে। ছবির ক্যাপশনে লিখা,

” লাজুক মুখে তোমার অবনত দৃষ্টিতে আমি বারবার হারিয়ে যাই প্রিয়তমা “।

ছবিটা পোস্ট করার সাথে হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে আরও ছোট বড় বিভিন্ন পেইজে। সবাই ছবিটাকে পছন্দ করে নিজেদের মতো ক্যাপশন সাজিয়ে পোস্ট করছে। লাইক, শেয়ার এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। এরকম হতে হতে ছবিটি সবার নিউজফিডে ঘুরপাক খাচ্ছে। ছবিটা এতো বেশি শেয়ার হয়েছে সবাই কমেন্ট করেই নিয়াজ আর জাফরিন এর নাম পরিচয় বের করে ফেলেছে। নিয়াজের মেডিকেল কলেজ এর ছাত্রছাত্রীদের তৈরী করা পেইজ থেকেও ছবিটা পোস্ট করে একটা ক্যাপশন দিয়েছে তারা। নিয়াজের বন্ধুরা সহ পরিচিতদের মুখে একটাই প্রশ্ন

” নিয়াজ কি আবার বিয়ে করেছে নাকি আবার নতুন করে প্রেমে পড়েছে”?

নিয়াজের আর জাফরিনের ব্যাচমেইট দের একটা মেসেঞ্জার গ্রুপ আছে। সেখানেও জল্পনা কল্পনা করছে সবাই। দুজনের ফোনেই একের পর এক টেক্সট আসছে। কেউ নিয়াজের জীবনে ঘটে যাওয়া অতীত নিয়ে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে আবার কেউ তার প্রশংসা করছে। তার নতুন জীবনের জন্য শুভ কামনা জানাচ্ছে। এইদিকে দুজনেই বেখবর যে তাদের ছবি নেট দুনিয়ায় একপ্রকার ভালোবাসার আন্দোলন শুরু করে দিয়েছে। দুজনের ফোনই সাইলেন্ট করা। ভালোবাসাময় মুহুর্তগুলো উপভোগ করছে তারা। এই মুহুর্তে দুনিয়াতে কি হচ্ছে সে খেয়াল নেই তাদের। পদ্মার পাড়ে নিয়াজের কাঁধে মাথা দিয়ে রাতের আলোয় নদী দেখছে জাফরিন। নিয়াজ বললো,

” ভালো লাগছে এখানে এসে? খুশি হয়েছিস”?

জাফরিন বললো,

” হ্যাঁ অনেক খুশি হয়েছি। তুমি আজকে একের পর এক সারপ্রাইজ দিয়েই যাচ্ছো। আমি ভেবেছিলাম তোমার হয়তো আমাকে মেনে নিতে অনেক সময় লাগবে। সহজ হতে পারবে না “।

নিয়াজ বললো,

” কেনো পারবো না সহজ হতে? তুই কি আমার অপরিচিত কেউ? হ্যা বউ হিসেবে পেয়েছি এইতো গতকালকে। তুইতো আমার চেনা মানুষই”।

জাফরিন স্বামীর কাধঁ থেকে মাথা উঠালো। নিয়াজের দিকে তাকিয়ে রইলো স্থির হয়ে। নিয়াজ বললো,

” কি হলো? হঠাৎ মাথা উঠালি কেনো?

জাফরিন নিয়াজের হাত ধরে বললো,

” তুমি কি মনের সাথে জোর করে আমার সাথে সহজ হওয়ার চেষ্টা করছো? যদি আমাকে মেনে নিতে তোমার সময় লাগে তুমি সময় নাও কিন্তু এভাবে নিজেকে জোর করোনা। আমি চাইনা তুমি আমাকে বাধ্য হয়ে মেনে নাও। আমি চাই তুমি আমাকে মন থেকে কাছে টেনে নাও। আমি তোমাকে আধা আধুরা চাই না। পুরোটাই চাই। আমার আত্নার সাথে তোমাকে পুরোপুরি মিশিয়ে নিয়ে বাকি জীবন পাড়ি দিতে চাই “।

নিয়াজ জাফরিনের হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে শক্ত করে ধরলো। নিয়াজ বললো,

” আমি যখন গতকালকে তোর নামে তিন কবুল বলেছি তখন থেকে আমার বাকি জীবনটা তোর নামে করে দিয়েছি। কাল রাতে তুই যখন আমাকে স্পর্শ করে আমাকে আদরে আদরে ভরিয়ে দিয়েছিলি তখনই আমি তোর কাছে আমার শরীর, মন আর আত্না পুরোপুরি আত্নসমর্পণ করেছি। তুই যখন আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাস তখন মনে হয় জীবনের সবচেয়ে সুখের ভারটা আমার বুকের উপর এখন ঘুমিয়ে আছে। আমার কোনো কিছুতেই অস্বস্তি হচ্ছে না। তোর সাথে থাকলে কোনো প্রকার প্রশ্ন আসছে না মনে। খচখচ করছে না। হাইপার হচ্ছিনা। ঘাবড়ে যাচ্ছি না। বুকের মধ্য কোনোরকম ব্যাথা হচ্ছে না। আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয় কি জানিস”?

জাফরিন এতোক্ষন মন দিয়ে নিয়াজের কথা শুনছিলো। কৌতুহল হয়ে প্রশ্ন করলো

” কি?

নিয়াজ হেসে বললো,

” আমি সারাদিনে একটা সি”গারেটও খাইনি। ছুঁইনাই আজকে “।

জাফরিন হেসে বলে,

” বিয়ে করে তাহলে তোমার উন্নতিই হয়েছে। ওইসব ছাইপাশ তোমাকে যেনো আর ছুঁতে না দেখি। খাওয়াতো দূরেই থাকলো। খেতে হলে আমাকে চু”মু খাবে বেশি বেশি। আমি সবসময় রেডি। আমার কোনো ওজর আপত্তি নেই এই নিয়ে। তুমি কাছে থাকলেই আমার নিজেরইতো আদর আদর লাগে। মনে হয় সারাক্ষণ তোমাকে বুকের মধ্য নিয়ে থাকি। মানুষজন শুনলে আমারে পাবনায় মেন্টাল হসপিটালে পাঠাতে বলবে। আমার বলতে কোনো দ্বিধা নেই আমি তোমার প্রতি আগেও অবসেসড ছিলাম এখনো আছি। এইজন্যই জীবনে পাচঁটা বছর অনেক কষ্ট পেয়েও তোমাকে ভুলে অন্য কোনো কিছু ভাবতে পারিনি। মনের মধ্য এই ভ”য়টা নিয়েই আমি দেশে এসেছিলাম। একটাই কথা মনে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছিলো তোমাকে দেখে যদি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি তখন কি হবে? কিন্তু দেখো ভাগ্যের কি লিখন তোমার থেকে পালাই পালাই করতে করতে সেই তোমার সাথেই জীবন জুড়ে গেলো “।

নিয়াজ বললো,

” তার মানে তুই এইজন্যই আমার সাথে কথা বলতে চাইতিস না। এড়িয়ে যেতি। দূরে দূরে থাকতি। দশটা কথা বললে একটার উত্তর দিতি। এতো কিছু মাথায় নিয়ে তুই ঘুমাতি কি করে জাফরিন?

জাফরিন নিয়াজের হাতটা নিজের গালে ঠেকিয়ে বললো,

” ঘুমাতাম নাতো। তুমি জানো গত পাচঁটা বছর আমি রাতে ঠিকঠাক ঘুমাইনি। কত রাত দিন যে কিভাবে গেছে নিজেও জানিনা। এইতো বিয়ের আগেররাতেও ঘুম হয়নি। সারারাত পুরনো কথা মনে করে কেঁদেছি। তবে এখন ঘুম পায়। তোমার বুকে মাথা রাখলেই তুমি যখন দুহাত জড়িয়ে নিয়ে আগলে আরও বেশি বুকের মধ্য টেনে নাও তখন অনেক শান্তি লাগে৷ মন চায় তোমার বুকের মধ্য একদম ঢুকে যাই”।

নিয়াজ বলে,

“আমারও এমনই একটা কিছু মনে চায় “।

জাফরিন বলে,

” কি মন চায়?

নিয়াজ জাফরিনের গাল টেনে দেয়। তারপর বলে,

” তুই যখন আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিজের বুকের মধ্য নিয়ে থাকিস আমারও মন চায় তোর বুকের মধ্য এইভাবেই লুকিয়ে পড়তে। সাধ্য থাকলে লুকাতাম “।

জাফরিন বলে,

” তাহলে একটা চুক্তি করি চলো “।

নিয়াজ বললো,

” কিসের চুক্তি “?

জাফরিন বলে,

” অর্ধেক রাত আমি তোমার বুকে মাথা দিয়ে ঘুমাবো আর বাকি অর্ধেক রাত তুমি আমার মধ্য৷ বলো ডিল?

নিয়াজ বলে,

” আচ্ছা ডান “।

নিয়াজ আর জাফরিন আরও কিছুটা সময় একান্ত মুহুর্ত কা” টালো নিজেদের মধ্য। আজকে তাদের এই বেড়াতে বের হওয়াটা খুব দরকার ছিলো। দুজনের মধ্য অনেক কথা ছিলো যেগুলো খোলাসা হওয়া দরকার ছিলো। এখন দুজনকেই অনেকটা নির্ভার লাগছে। বেশ অনেকটা সময় বাহিরে ছিলো তারা। এদিক ওদিক ঘুরে ফিরে বাড়ির দিকে রওনা হলো তারা। এদিকে তারা জানেও না কি হয়ে গেছে আর কি হতে যাচ্ছে। বাড়ির দরজায় এসে ডোরবেল দিতেই জাফরিনের মা দরজা খুলে দিলো। জাফরিনের মায়ের মুখটা চিন্তিত দেখাচ্ছে। জাফরিনের মা বললো

“ফোন কোথায় তোদের? কখন থেকে কল দিচ্ছি “।

জাফরিন বললো,

” আমার ফোনটা ভুল করে বাসায় রেখে গেছি”।

নিয়াজ বললো,

” আমার ফোন সাইলেন্ট করে রেখেছিলাম হসপিটালে। আর চেইঞ্জ করতে মনে নেই। কিছু হয়েছে মা”?

নিয়াজের মুখে মা ডাক শুনে জাফরিনের মায়ের মনটা ভরে গেলো। তার দুই মেয়ে জামাইই হীরের টুকরো পেয়েছে সে। নিয়াজ আর জাফরিন ভেতরে ঢুকেই দেখলো বসার ঘরে জাফরিনের মায়ের বান্ধবী সোফায় বসে আছে। নিয়াজের মা অন্য সোফায় একপাশে বসে আছে। জাফরিন ভ্রু কুঁচকে ফেললো। বিরক্তি নিয়ে তার মায়ের দিকে তাকালো যার অর্থ এই মহিলা এখানে কি করছে? কি চায় সে? মায়ের সাথে মেয়ের চোখাচোখির মধ্যেই জাফরিনের মায়ের বান্ধবী জাফরিবকে উদ্দেশ্য করে বললো,

” গতকালকে আমার ছেলের সাথে তোমার বিয়ের প্রস্তাব এনেছিলাম। তুমি বলেছিলে তুমি এখনো মানসিকভাবে বিয়ের জন্য প্রস্তুত নও এজন্য বিয়েতে রাজি না। আবার তোমার মায়ের কাছে শুনলাম গতকাল রাতেই তোমাদের দুজনের বিয়ে হয়ে গেছে। মাঝে কি এমন হলো যে কয়েক ঘন্টায় মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে গেলে? একটা ডিভোর্সী ছেলেকে বিয়ে করার এতো শখ হয়েছিলো যে আমার ছেলেকে বিয়ে করতে রাজি হলে না? অবিবাহিত মেয়ে হয়ে বউ ছেড়ে দেওয়া এক পুরুষকে বিয়ে করেছো যে তোমার আগে অন্য আরেকজনের সাথে চার পাচঁ বছর সংসার করেছে। শুধু তাই নয় শুনেছিলাম লাভ ম্যারেজ। বিয়ের আগে অনেকদিন প্রেমও করেছে। তাকেই বিয়ের জন্য মনে ধরলো তোমার? দুজনের মধ্য কি ইয়ে টিয়ে চলছিলো নাকি?

জাফরিনের মা কিছু বলতেই যাবে তার আগে জাফরিনের মা বললো,

” জাফরিন নিয়াজকে অনেক আগে থেকেই পছন্দ করে। নিয়াজের বিয়েরও অনেক আগে থেকেই ভালোবাসে কিন্তু সময় তখন সহায় হয়নি। এতোগুলো বছর পরেও সে নিয়াজকে ভুলতে পারেনি। সে আমাদের এই কথা জানানোর পর আর সময় ন”ষ্ট করতে চায়নি ওর বাবা৷ আমাদের ঘরের ছেলেকে আমরা চিনি। ওর প্রথম বিয়েটাতে যা কিছু হয়েছে সেটাতে ওর কোনো দোষ ছিলো না তাহলে ও কেনো একটা সুস্থ সংসার বা জীবনসঙ্গী পেতে পারে না? আর জাফরিনকে শুধু তোর ছেলে না অন্য কোথাও বিয়ে দিলেও একই সমস্যা হতো। আমি মানছি তুই অনেক আশা করেছিলি এই বিষয় নিয়ে কিন্তু নিয়তি অন্য কিছু ভেবে রেখেছিলো। তাই তুই মনে আর কিছু রাখিস না। তুই ওদের গুরুজন মানুষ। ওদের আগামী দিনগুলোর জন্য দোয়া করে দিস”।

জাফরিনের মায়ের বান্ধবী এসব কথা শুনে থিতু হলো মনে হয়। সে জাফরিন আর নিয়াজের দিকে তাকালো। দুজনকেই ভালো লাগছে। মানিয়েছে বেশ। গতকাল জাফরিনের চোখে মুখে যে অস্বস্তি আর বিরক্তি দেখেছিলো আজকে তার বদলে নতুন নতুন বিয়ে হলে যেরকম চোখে মুখে উজ্জলতা দেখা যায় তেমন দেখাচ্ছে। জোরাজুরি করে মেয়ে যদি নিজের মতের বাহিরে গিয়ে তার ছেলেকে বিয়ে করতো তাহলে বোধ হয় একটা বোঝাপড়ার সংসার হতো আবার হতোই না। ভালোই হয়েছে। জাফরিনের মায়ের বান্ধবী বললো,

” তুই ঠিকই বলেছিস বন্যা। জাফরিন ওর নিজের মতের বাহিরে গিয়ে বিয়ে করলে আজকে এরকম হাসি খুশি থাকতো না। আমারই ভুল হয়েছে এরকম জোরাজুরি করে সমন্ধ নিয়ে কথা বলা। ওদের ভালো থাকাটাই বেশি জরুরি”।

বান্ধবীর মুখে এই কথা শুনে জাফরিনের মা বেশ খুশি হয়। খুশি হয় নিয়াজের মা, নিয়াজ আর জাফরিনও। মহিলাটার মন থেকে ক্ষোভটা বের হওয়া দরকার ছিলো। মনে মনে বলে জাফরিন। আরও কিছুক্ষণ গল্প করে জাফরিনের মায়ের বান্ধবী বিদায় নিয়ে চলে যায়। এদিকে নিয়াজ আর জাফরিন ফ্রেশ হতে নিজেদের রুমে যায়। জাফরিন অনেক ক্লান্ত বোধ করায় ও আগে ফ্রেশ হতে যায়। নিয়াজ ফোন হাতে নেয়। সাইলেন্ট করা ছিলো বিধায় বুঝতে পারেনি। ফোন হাতে নিয়েই দেখে প্রায় পঞ্চাশটার মতো মিসড কল। সেই সাথে শত শত টেক্সট জমা হয়েছে সিনিয়র জুনিয়র বন্ধু বান্ধব কলিগদের। সবাই তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছে৷ নিয়াজ কিছু বুঝতে পারলো না প্রথমে। ফোনে ওয়াইফাই অন করে ফে”সবুকে গিয়ে যা দেখলো তাতে তার চক্ষু চড়ক গাছ। তার আর জাফরিন এর একটা ছবি দিয়ে শত শত পোস্টে ফিড সয়লাব। সবাই ধুমায়ে শেয়ার দিচ্ছে। কেউ বলছে নতুন প্রেমের গুঞ্জন আবার কেউ বলছে ডাঃ নিয়াজ নতুন বিয়ে করেছে। কেউ আবার আরও সুন্দর ক্যাপশন লিখে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট দিচ্ছে। মেসেঞ্জার ওপেন করে দেখে এখানেও একই অবস্থা। টেক্সট এর উপর টেক্সট। মূল পোস্টটা দেখে নিয়াজের ভালো লাগলো। পিকটা আসলেই সুন্দর এসেছে। জাফরিনের হাতে কদমফুলের তোড়া মানিয়েছেও।

আজকের সন্ধ্যাটা জাফরিনের সাথে অনেক ভালো গিয়েছে। আসলেই তার কাছে মনে হয়েছে সে আবারও নতুন নতুন প্রেম করছে। এবারের প্রেমটা ভিন্নরকম। বিয়ের পরে নতুন বউয়ের সাথে প্রেম। বিবাহিত প্রেমিক সে। এইটা মনে করে অজান্তেই মুখে হাসি ফুটলো। কারো টেক্সট বা কলের উত্তর সে করলো না। ফোনটা সাইডে রেখে চোখ বন্ধ করে পাচঁ মিনিট কি যেনো ভাবলো। তারপর ফোনটা আবার হাতে নিলো। গ্যালারি থেকে তার আর জাফরিনের আজকে সন্ধ্যায় তোলা বেশ কিছু ছবি থেকে যেটা সবচেয়ে ভালো সেটা সিলেক্ট করলো। তারপর প্রোফাইলে গিয়ে নিজের রিলেশনশীপ স্ট্যাটাস আপডেট করে ছবিটা দিয়ে কয়েক লাইনের একটা পোস্ট লিখলো সে। তারপর পোস্ট করলো নিজের আইডিতে। পোস্ট করার সাথে সাথেই শুরু হলো আরেক ঝড়। কয়েক ঘন্টায় মানুষের সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিয়াজ এর এই পোস্ট একদিকে যেমন সব শান্ত করলো সেই সাথে মানুষ পেলো নতুন কিছু শুরুর গল্প। একের পর এক টেক্সট আসতেছে আর পোস্টে কমেন্টের সুনামি চলতেছে। এসব দেখে নিয়াজের ভালো লাগছে। বিষয়টা সে ইনজয় করছে। এর মধ্য জাফরিন বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বের হলো। নিয়াজ তার দিকে তাকালো। একটা অফ শোলডার ঢিলেঢালা কুর্তি পড়েছে সে। পাজামাটাও অনেক ঢোলা। দেখতে কিউট লাগছে জাফরিনকে। মনে হচ্ছে স্কুল শেষ করে সদ্য কলেজে পা দেওয়া টিন এইজ একটা মেয়ে। নিয়াজ ফোনটা রেখে ধীর পায়ে জাফরিনের দিকে আগায়। জাফরিন তোয়ালে দিয়ে ভেজা চুল মুছছিলো। নিয়াজকে আগাতে দেখে তার হাত থেমে যায়। নিয়াজ খুব কাছেই চলে এসেছে তার। ভেজা চুল থেকে পানি টপ টপ করে জাফরিনের ফর্সা ঘাড়ে পড়ছে। গলায় বিন্দু বিন্দু পানি লেগে আছে। নিয়াজ অনেকটা কাছে চলে আসে জাফরিনের। বউয়ের কোমড় জড়িয়ে ধরে ঘনিষ্ঠ হয়। জাফরিনের থুতনিতে হাত দিয়ে মুখটা উচুঁ করে। জাফরিন মৃদু কেঁপে উঠে। বুকের মধ্য উঠানামা করছে খুব তার। নিয়াজ জাফরিনের গলায় আর ঘাড়ে মুখ ডুবিয়ে লেগে থাকা বিন্দু বিন্দু পানিটুকুতে আদর করে ঠোঁট ছোয়ায়। কয়েক মিনিট পর জাফরিনের কানের কাছে ঠোঁট ছুঁইয়ে ফিসফিস করে বলে,

” বউ হওয়ার পর তোকে আরও বেশি সুন্দর লাগছে কেনো এতো? এরকম হলেতো সমস্যা জাফরিন।

জাফরিন ক্ষীন গলায় বলে,

” আমি ডাঃ নিয়াজের বউ এজন্য আমাকে আরও সুন্দর লাগছে”।

নিয়াজ জাফরিনের কপালে শব্দ করে গভীরভাবে আদর দিয়ে বললো,

” তুই আরও এমনই সুন্দর হয়ে থাক সবসময়। তোর মুখের হাসিটা আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তুই ভালো থাকলে আমিও ভালো থাকবো। আমাকে বেসামাল করতে এর চেয়ে বেশি কিছুর দরকার নেই “।

জাফরিন বলে,

” আচ্ছা মনে থাকবে “।

নিয়াজ হাতের বাধঁন আলগা করে জাফরিনকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য। ছেড়ে দিতেই জাফরিন আবারও নিয়াজের শার্টের কলার ধরে নিজের দিকে টেনে আনে। নিয়াজের পায়ের পাতার উপর ভর দিয়ে আরেকটু উচুঁ হয় সে। নিয়াজ ধরে রেখেছেও তাকে শক্ত করে। জাফরিন নিয়াজকে নিজের মতো আদর করছে। কপালে, গালে, চোখে, নাকে আর ঠোঁটে বেসামাল করা গভীর আদর৷ শার্টের আরও দুটো বোতাম খুলে নিয়াজের বুকে ছোট ছোট ছোট আদরের স্পর্শে নিয়াজকে বেতাল করার অবস্থায় সে এখন। জাফরিন মুখটা তুলে নিয়াজকে বললো,

” আমি ধার রাখি না। সব সুদে আসলে ফেরত দেই”।

নিয়াজ শব্দ করে হেসে উঠে। দুজন অনেকক্ষন চেয়ে থাকে একে অপরের দিকে। তারপর জাফরিন হাতের তোয়ালেটা নিয়াজকে দিয়ে বলে,

” যাও ফ্রেশ হয়ে আসো এখন”।

নিয়াজ বাধ্য স্বামীর মতো কাপড় চোপড় নিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়। এইদিকে নিয়াজের ম্যারিড পোস্টে সবাই যখন কমেন্ট করছে, শেয়ার করছে তখন পৃথিবীর আরেক প্রান্তে হসপিটালের সাদা রঙের বিছানায় শুয়ে থাকা এক রমনী ফোনে এসব দেখছে। নিয়াজের পোস্ট তার বুকে হাহাকার তৈরী করে দিলো। অনুতাপ অনুশোচনানায় বুকের মধ্য খাঁ খাঁ করছে। নিজের হাতে নিজের জীবন অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে সে। সময় থাকতে ভালোবাসার মুল্য দেয়নি। স্বামী আর সংসারকে গুরুত্ব দেয়নি। সারাজীবন নিজের জেদ আর রুপের অহং”কারে নিজেকে ডুবিয়ে রেখেছিলো সে। যে চেহারাটা সারাক্ষণ আয়নায় দেখতো আজ কতদিন সে আয়নায় নিজের মুখটাও দেখে না। সেই সাহসই হয়না। নিজের দিকে তাকালে বড্ড আফসোস হয় তার। সে নিয়াজের পোস্ট করা পিক দেখছে৷ বউটা সুন্দর সেই সাথে মায়াবী গড়নের। ফোস করে একটা শ্বাস ফেললো সে। আজকাল শ্বাস ফেলতেও অনেক কষ্ট হয়। এসব ভাবতে ভাবতেই একজন নার্স ভেতরে ঢুকলো। মেডিসিন আর পানির গ্লাস হাতে দিতে দিতে বললো,

“ম্যাম টেইক ইওর মেডিসিন প্লিজ “।

চলবে………….