#তুমি_বৃষ্টি_হয়ে_নামলে
#পর্বঃ১৬
#লেখনীতে_তানিয়া
তুরফা ব্রেইন টিউমার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটা হসপিটালে ভর্তি আছে এখন। তার দিন রাত্রি এখন যায় হসপিটালের শুভ্র সাদা রঙের বিছানায় শুয়ে আর ঘরের ছাদের সাদা সিলিং এর দিকে চেয়ে৷ চার দেওয়ালের মধ্য মাঝে মাঝে দম ভারি হয়ে এলে নার্স হুইলচেয়ারে করে করিডোরে বা বাগানে হাঁটতে নিয়ে যায়৷ এভাবেই তার জীবন চলছে৷ সৃষ্টিকর্তা কোনো শুন্যস্থান রাখেন না। আবার কারো করা নিদারুন নির্ম”মতার ফলাফলও দুনিয়াতেই দেখিয়ে দেন। তুরফার সাথেই এমন কিছু ঘটছে। যে মেয়ে কয়েক মাস আগেও নিজের শরীরের রুপে নিজেই মুগ্ধ হয়ে গর্বে মাটিতে পা মেপে ফেলতো, নিজের কৃতকর্মের জন্য যার মধ্য কোনো অনুশোচনা হতো না আজকে সেই মেয়ের শরীরে বাসা বেঁধেছে এক দুরারোগ্য ম”র”ণব্যাধি। যেটা ব্রেইন থেকে পুরো শরীরে ক্যান”সার এর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। চেহারায় সেই উজ্জলতা নেই। কেমোথেরাপির ইফেক্টে মাথার চুল ঝরে গেছে। শরীর রুগ্ন হয়ে গেছে। তুরফা একমনে ফোনের দিকে তাকিয়ে আছে। নিয়াজ আর তার সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর ছবি দেখছে সে। মানুষের কমেন্ট পড়ছে। অনেকে শুভ কামনা জানাচ্ছে। আবার অনেকে জানতে চাচ্ছে আগের কাহিনী। সেগুলো নিয়েও চর্চা হচ্ছে। কথা হচ্ছে। লেখালেখি হচ্ছে। নিয়াজের প্রাক্তন স্ত্রী তুরফা মানে সে তাকে নিয়ে অনেক বিরুপ মন্তব্য আসছে। একটা কমেন্টে তার চোখ পড়লো। কমেন্টটা ছিলো এরকম,
” নিয়াজ ভাইয়া প্রথমবার ভুল মানুষ এর সাথে জড়িয়ে অনেক কষ্ট পেয়েছে। প্রথম স্ত্রীর চ”রিত্র ভালো ছিলো না। ভাইয়ার সাথে বিয়ের সম্পর্ক থাকা অবস্থাতেই আরেকজনের সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছে। ফিজিক্যাল রিলেশন অবধি চালিয়ে গেছে সমান্তরাল ভাবে। ভাইয়া ভীষণ ভালোবাসতো তাকে কিন্তু ভালো মানুষের কপালে ভুল মানুষই জোটে। এইবার ভাইয়া সুখী হোক নতুন জীবনে”।
আবার আরেকজন লিখেছে,
” আগের বউতো রুপের ঠেলায় পা”ই মাটিতে দিতো না৷ পরে আকাম করে ধরা খাইছে”।
এরকম আরও কিছু মন্তব্য করছে মানুষ যেগুলোতে সবগুলোই তুরফার চরিত্রের দিকে আঙুল উঠে। কিছু কিছু মন্তব্যতো আরও বেশি জ”ঘন্য যেগুলো মুখে নেওয়ার মতো না। তুরফা সেগুলো পড়ছে আর অস্থির হয়ে উঠছে। সে এখন বুঝতে পারে তখন সে কতটা নিচে নেমে গিয়েছিলো। কত বড় একটা পা”প করেছিলো। আজ জীবনের সবচেয়ে কঠিন হয়তোবা শেষ সময়ও বলা যায় তার এই অনুধাবন হচ্ছে সে কি করেছে জীবনে। নিয়াজকে ঠকিয়েছে। নিজের হাতে নিজের স্বামী সংসার সব কিছু তছনছ করেছে। এখন সে নিঃস্ব। তার কাছে কেউ নেই। কোনো ভালোবাসার মানুষ নেই। তুরফা এসব দেখতে দেখতে হঠাৎ প্রচন্ড হাইপার হয়ে গেলো। বিপি বেড়ে গেলো। মাথার মধ্য প্রচন্ড ব্যাথা শুরু হলো তার। শ্বাস ফেলতে কষ্ট হচ্ছে। প্যানিক করছে সে। মুহুর্তের মধ্য চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে গেলো। যে নার্সটা তাকে মেডিসিন নিতে বলছিলো সে তুরফার এমন অবস্থা দেখে হঠাৎ ভ”য় পেয়ে গেলো। কি করবে বুঝতে পারছে না সে। দ্রুত ইমার্জেন্সি বেল বাটন প্রেস করলো সে। এক মিনিট এর মধ্যই একজন ডাক্তার রুমে ছুটে এলো। ডাক্তার এসে দেখে তুরফা প্রচণ্ড মাথা ধরে আছে। প্রচণ্ড প্যানিক করছে। বিপি হাই হয়ে গেছে। মানে যা তা অবস্থা। ডাক্তার তুরফাকে চেক আপ করে শান্ত করার চেষ্টা করলো। কাজ হচ্ছে না দেখে ঘুমের ঔষধ দিলো যাতে প্যানিক করা কমে। ধীরে ধীরে ওষুধের ডোজে চোখ বন্ধ করলো সে। ঘুমানোর আগে তার চোখের সামনে ভেসে উঠলো নিয়াজের সাথে বিয়ের একটা মুহুর্ত। সেদিনতো দুজনেই খুশি ছিলো। তাহলে কেনো সব এলোমেলো হয়ে গেলো? তুরফা ঘুমিয়ে গেলে ডাক্তার আর নার্স দুজনেই একটা লম্বা শ্বাস নিলো। ডাক্তার বললো,
” হঠাৎ করে এরকম হাইপার হয়ে গিয়েছিলো কেনো? এই ধরনের পেশেন্ট এর জন্য হঠাৎ করে এমন হওয়া খুব রিস্কি ব্যাপার। আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। উনি কি কিছু করছিলেন বা কথা বলছিলেন কারো সাথে”?
নার্স বললো,
” আমি ম্যামকে মেডিসিন দিতেই এসেছিলাম। এসে দেখি উনি খুব মনোযোগ দিয়ে ফোনে কি যেনো দেখছিলেন। আমি অনেকবার উনাকে মেডিসিন নেওয়ার জন্য তাগাদা দিচ্ছিলাম কিন্তু উনি কিছুতেই ফোন থেকে মনোযোগ সরাচ্ছিলেন না। ফোনেই কিছু একটা দেখতে দেখতেই উনি হঠাৎ করে এরকম এক্সসাইটেড হয়ে গেলো। তারপরেই উনি অসুস্থ হয়ে গেছেন এমন করে “।
ডাক্তার বললো,
” উনার জন্য যে কোনো ধরনের প্যানিক এখন খুবই ভ’য়ানক একটা বিষয়। লাস্ট স্টেইজ চলছে উনার। শরীরে ওষুধ কাজ করছে না তেমন। যেকোন মুহুর্তে যা কিছু একটা হতে পারে। খুব ভালো করে খেয়াল রাখতে হবে। এখন ঘুমাক। ঘুম থেকে উঠলে বুঝা যাবে কি অবস্থা “।
_______________________
নিয়াজ তখনো ওয়াশরুমে। জাফরিন নিজের ফোনটা বাসাতেই রেখে নিয়াজের সাথে ঘুরতে বের হয়েছিলো। অনেকক্ষন পর ফোনটা হাতে নিতেই সে একের পর এক মিসড কল আর টেক্সট দেখতে পেলো। সে কিছুই বুঝতে পারছে না কি হয়েছে। সবাই তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। বান্ধবীরা তাকে মেনশন করছে টেক্সটে। তাকে ট্যাগ দিয়ে পোস্ট করছে। সুমনা গ্রুপে লিখেছে,
” ডুবে ডুবে জল খাচ্ছিলো আমাদের ব্যারিস্টার সাহেবা। হঠাৎ করে কাউকে না বলেই বিয়ে করে ফেললো। এইটা কোনো কথা?
এক মুহুর্তের জন্য জাফরিন স্ট্যাচু হয়ে গেলো। তার বিয়ে হয়ে গেছে এইটা কিভাবে জানলো তারা। কে বললো তাদের। গ্রুপের টেক্সট চেক করতে করতে দেখলো দুইটা পোস্ট নিয়ে তারা কথা বলছে। নিজের আইডিতে গিয়ে তার ভিমড়ি খাওয়ার মতো অবস্থা। প্রথম পোস্ট খুঁজতে গিয়ে দেখে নিয়াজ তাকে ট্যাগ করে ম্যারিড স্ট্যাটাস দিয়েছে। আজকে তোলা সুন্দর একটা ছবি সহ সাথে লম্বা একটা পোস্ট৷ নিয়াজ লিখেছে,
“এই যে আমার পাশে পরীর মতো দেখতে একটা নারী দেখা যাচ্ছে সে আমার আমার স্ত্রী। এই মেয়েটি আমার মরুভূমির মতো শুস্ক জীবনে এক ঘন বরষা হয়ে এসেছে। যার মায়া আর ভালোবাসার অতল গভীরে আমি প্রতিনিয়ত নিজেকে তলিয়ে ফেলছি। আমি পুরোদস্তুর একটা আহাম্মক কিসিমের মানুষ। ভালোবাসার মতো বিষয়টাতে আমি বারবার ঠকেছি। কাঁচের ফুলের রুপ দেখে বেহুশ হয়ে আসল হীরের মর্ম বুঝতে জীবন থেকে পাচঁটা বছর হারিয়ে গেছে। একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি। এই যে ওর হাতটা ধরেছি জীবনের শেষ মুহুর্ত অবধি এই হাত ছাড়বো না। জাফরিন বউ আমার, তুমি তোমার এই আহাম্মক কিসিমের বরকে একটু মানিয়ে গুছিয়ে আদরে আহ্লাদে ভালোবেসে এমনভাবে নিজের কাছে আগলে রেখো যাতে আমি বারবার এই ভালোবাসার জন্যই তোমার কাছে ফিরে আসতে পারি। আমাদের নতুন জীবন শুরুর পথচলাকে সবাই প্রার্থনায় রাখবেন। আর হ্যাঁ বিষয়টা এমন না যে আগের ছবিটি নিয়ে কথা হচ্ছে দেখে হঠাৎ করে বিয়ের কথা জানালাম। আসলে বিয়ের পর প্রেম করতে বউকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিলাম তাই এইটা জানাতে দেরি হলো। যে ছবিটা নিয়ে এতো প্রশংসা এতো কথা হচ্ছে সেইটা গতকাল বিয়ের পরে আজকে ঘুরতে গিয়েছিলাম সেখানকার ছবি । বিয়ের পর বউয়ের জন্য প্রেমিক হওয়ার অভিজ্ঞতাটাও দারুন হয়েছে। আমাদের জন্য দোয়া করবেন সবাই”।
জাফরিন পোস্ট দেখে থ মে”রে আছে। সে ভেবেছিলো নিয়াজের বিয়েটা মেনে নিতে সময় লাগবে। হয়তো দুটো মানুষ এক ছাদের নিচে পাশাপাশি আছে এজন্য একটা আবেগ অনুভূতি আর শরীরের টান কাজ করে। নিয়াজ হয়তো এখনো আগের বিয়ের সেই নিদারুন জটিলতার ট্রমা থেকে বের হতে পারেনি। সবটা মেনে নিতে তার কিছুটা সময় প্রয়োজন। জাফরিনের সমস্ত চিন্তাভাবনাকে ভুল প্রমাণিত করে নিয়াজের আচরণ তাকে বার বার থমকে দিচ্ছে। যখনই সে নিয়াজকে নিয়ে একটা ভাবনাতে থিতু হতে চাইছে তখনই নিয়াজের কোনো না কোনো আচরণ তাকে আবার নতুন করে স্বামীর জন্য ভাবাচ্ছে। জাফরিন ফোন হাতে নিয়েই অন্যমনস্ক হয়ে এসবই ভাবছে। এর মধ্য নিয়াজ ফ্রেশ হয়ে বের হলো। নিয়াজ জাফরিনকে ফোন হাতে নিয়ে থাকতে দেখে সব বুঝে গেলো। জাফরিন সবই জেনে গেছে। পুরো ব্যাপারটা বুঝে উঠতে ওর সময় লাগবে। নিয়াজ কখন এসে জাফরিনের পাশে বসেছে সেটা টেরই পায়নি। নিয়াজ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বললো,
“জাফরিন আমার চুলটা মুছে দেতো। তোয়ালে দিয়ে আমি চুল মুছতে পারিনা এই এক সমস্যা। গামছা ছাড়া আমার চুল থেকে পানি ঝরতে চায় না “।
নিয়াজের ডাকে জাফরিন হুশে ফেরে। জাফরিন নিয়াজের দিকে তাকিয়ে আছে। ছেলেতো সুদর্শন আগে থেকেই ছিলো। তার সাথে আরও কি কি কারণে নিয়াজকে যেনো আরও হ্যান্ডসাম লাগতো তার। কিশোরী বয়সে তার এই সুদর্শন পুরুষের কাছে অংক পড়তো সে। কত ছুতো ধরে একটা সহজ অংকও বিশ বার বুঝে নিয়েছে সে যাতে বেশিক্ষণ এই মানুষটার কাছে থাকতে পারে। ধৈর্য নিয়ে নিয়াজ বুঝিয়ে দিয়েছেও তাকে। এরকম কত শত টুকরো টুকরো স্মৃতিগুলো জমিয়ে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছিলো এতোদিন। জাফরিন দেখলো নিয়াজের পুরো চুল জবজবে ভেজা। চুল থেকে পানি পড়ে টিশার্ট ভিজে যাচ্ছে। আসলেই তোয়ালে দিয়ে সে চুল মুছতে পারেনা। জাফরিন উঠে গামছা খুঁজতে লাগলো নিয়াজের। বারান্দায় চোখ পড়তেই দেখলো রশিতে গামছা ঝুলছে। গামছা নিয়ে এসে নিয়াজের চুল মুছতে লাগলো সে। আলতো হাতে সুন্দর করে চুল মুছে দিচ্ছে সে নিয়াজের। নিয়াজের বেশ আরাম লাগলো। মনে হচ্ছে বিছানায় শুয়ে পড়লেই সে ঘুমিয়ে যাবে। নিয়াজ বসে থাকার জন্য তার মাথা বরাবর জাফরিনের পেট। নিয়াজের হঠাৎ করে দুষ্টমি পেলো। নিয়াজ জাফরিনের পেটে আলতো করে মাথা ঠেকিয়ে নাক ঘষছে। বউয়ের নরম তুলোর মতো পেটে এরকম আদুরে ভাবে নাক ঘষতে নিয়াজের বেশ আরাম আরাম লাগছে। জাফরিনের হাত থেমে যায়। একটু গায়ে শিরশির অনুভূতি লাগে তার। এদিকে নিয়াজ নাক ঘষতে ঘষতে ঠোঁট স্পর্শ করে ছোট ছোট আদর দিতে শুরু করেছে। জাফরিন নড়ছেও না কিছু বলছেও না। নিয়াজ কোনো প্রকার বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে না দেখে মুচকি হাসলো। জাফরিনকে একটু হাত জড়িয়ে টেনে কোলে বসায় নিয়াজ। জাফরিন নিয়াজের দিকে অনেক মুগ্ধতা নিয়ে তাকিয়ে আছে। নিয়াজ বলে,
” জাফরিন একটা কথা বলি”?
জাফরিন বলে,
“একটা কেনো একশোটা বলো। বারন কোথায়”?
নিয়াজ হেসে বলে,
” এই যে তোকে ছুতো ছাতায় ধরছি, ছুঁয়ে দেখছি, যখন তখন কাছে টেনে তোর অনুমতি ছাড়াই আদর করছি তুই বিরক্ত হচ্ছিস না? তোর মনে কি এই চিন্তা আসছে না যে পুরুষ মানুষ শুধু মেয়েদের শরীর খুঁজে আর কিছু না? বউয়ের ভালো না লাগলে তার গা ছুঁইতেও যে একটা অনুমতি একটা বোধের দরকার হয় সেইটা স্বামী নামক পুরুষ মানুষ বুঝতে পারেনা এমন মনে হচ্ছে না?
জাফরিন এর কপালে কিছুটা ভাঁজ পড়ে। জাফরিন নিয়াজের কপালে আসা ছোট চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে গভীরভাবে চু”মু দেয়। নিয়াজ অবাক হলো। জাফরিন বললো,
” আমিতো বরাবরই এটাই চাই বলতে গেলে এইটা আমার একপ্রকার স্বপ্নই ছিলো স্বামী তার রোমান্টিক হবে। হুটহাট করে এসে জড়িয়ে ধরবে। আদর করবে। তাকে কাছে টানবে। আর সবচেয়ে বড় কথা স্বামী তার বউকে আদর করবে এতে অনুমতি নিতে হবে কেনো? আদর কি অনুমতি পেয়ে আসে? অনুমতি নিয়ে হঠাৎ করে আসা মানুষ এর আবেগ আর চাহিদা নিয়ন্ত্রণ হয়? তবে হ্যাঁ কিছু কিছু সময় আছে বউ এর অসুস্থতা, ক্লান্তি বা পারিপার্শ্বিক মানসিক পরিবর্তন বুঝে স্বামীর উচিত আগানো বা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা। মানুষের মন আর শরীরের কোনো ঠিক নেই। কখন কি হয় কেউতো জানে না। আবার স্বামীর আদর এর একটা মাত্রা আছে। যদি পার্টনার এবি”উসিভ হয় তখন এইটা আসলেই ভাবনার বিষয়। আমি নিজেই তোমার আদর নিতে চাই। আমি তোমার আদরের কাঙাল। আমাকে আদর করতে তোমার অনুমতির প্রয়োজন নেই। আমিও তোমাকে আদর করার জন্য কোনো অনুমতি নিবো না। আমার স্বামীকে আমি যখন চাইবো আদর করবো এতে অনুমতি নিবো কেনো? এসব ফর্মালিটিজ আমার দ্বারা হবে না। বুঝেছো স্বামী মহোদয়?
নিয়াজ আবারো জাফরিনের পেটে মুখ ডুবিয়ে রেখেই বললো,
” বুঝেছি বউ মহোদয়া”।
হঠাৎ নিয়াজের মনে পড়লো তুরফা যখন তার স্ত্রী ছিলো কাজের জায়গা আলাদা হওয়ার জন্য অনেকদিন পর পর তাদের একসাথে থাকা হতো। স্বাভাবিকভাবেই এমনই একরাতে তুরফাকে কাছে টেনে নিয়েছিলো সে। ভীষণ ভালোবাসতো কিনা। তুরফা ঝট করে নিয়াজকে তার কাছ থেকে সরিয়ে দিয়ে বলেছিলো
“সবসময় এতো শরীর ঘেঁষতে চাও কেনো? বউকে আদর করার আগে তার কাছে জানতে চেয়েছো তার সম্মতি আছে কিনা? বউ কাছে থাকলেই ছুঁতে হবে। পুরুষ মানুষ এর কাজই একটা মেয়ে মানুষের শরীর খোঁজা “।
তুরফার কথা শুনে নিয়াজের লজ্জায় অপমানে গা গুলিয়ে এসেছিলো। নিয়াজতো বাহিরের মেয়েকে স্পর্শ করতে যায়নি। নিজের বিয়ে করা স্ত্রীকেই ছুঁয়েছিলো। সে জানতো তুরফার তখন মেয়েলি সময় চলছিলো না। তখন সে বুঝতেই পারেনি সমস্যাটা তুরফাকে স্পর্শ করাতে নয় আসল সমস্যা ছিলো নিয়াজের স্পর্শ তার মন টানেনি কেনোনা তখনতো সে অন্য কাউকে অনুমতি দিয়েছিলো নিজেকে স্পর্শ করার জন্য। নিয়াজকে চুপ করে থাকতে দেখে জাফরিন বললো,
” আচ্ছা আমি আমার স্বামীর বাড়িতে কবে যাবো? মেয়েরা বিয়ে হলে স্বামীর বাড়িতে যাবে এটাইতো নিয়ম “।
নিয়াজ তখনও মুখ তোলেনি৷ ওভাবেই বললো,
” হানিমুনটা সেরে আসি তারপর তোকে তোর স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যাবো “।
চলবে………….

