#তুমি_বৃষ্টি_হয়ে_নামলে
#পর্বঃ১৭
#লেখনীতে_তানিয়া
“জানিস জাফরিন আমার ছেলেটা বাবা হতে চেয়েছিলো কিন্তু তুরফার বেচাল জেদের সাথে পেরে উঠেনি। মেয়েটা কেনো যেনো আমার ছেলেকে সব দিক থেকে শুধু ভেঙেই গেছে। ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে ফিরতি ভালোবাসা পাওয়ার যে সুখ সেইটা আমার ছেলে তুরফার কাছ থেকে পায়নি। আমার ছেলেটা কিন্তু কোনোকিছুতেই কাপর্ন্য করেনি। ভালো প্রেমিক হওয়া থেকে শুরু করে দায়িত্বশীল একজন স্বামী অবধি যা যা করতে আর মানতে হয় সবই সে করেছে। বিয়ের পর নাকি মেয়েরা নিজের স্বামী সংসারে মানিয়ে গুছিয়ে নেয় কিন্তু নিয়াজের বেলায় ছিলো উল্টো। কোনোরকম অশান্তি যাতে না হয় সেজন্য কখনো তুরফার পছন্দের বাহিরে কিছু বলতো না। মেয়েটা যখন যা চাইতো সেটা না করলে মুহুর্তের মধ্য বাড়ি মাথায় তুলে ফেলতো। এক পর্যায়ে নিয়াজ কোনো কিছু না করেও ক্ষমা চাইতো। স্বামী -স্ত্রীর মধ্য তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে কথা বলা শোভনীয় না। তাই চেয়ে চেয়ে ছেলের অসহায়ত্ব দেখা ছাড়া আর কিছু করার ছিলো না”।
জাফরিন আর তার শ্বাশুড়ি মিলে তাদের পারিবারিক আ্যালবাম দেখছিলো। সেখানে নিয়াজের একদম ছোট বেলার ছবি দেখে নিয়াজের মায়ের অতীত এর এসব কথা মনে পড়লো। তখন নিয়াজ সদ্য হয়েছে এমন একটা ছবি দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে গেছে নিয়াজের মা। মনে পড়ে গেছে ছেলের দুঃসহ একটা অতীত স্মৃতি। যেটার শোক ছেলেটা আদতে ভুলতে পারবে কিনা কে জানে। শ্বাশুড়ির চোখে পানি দেখে জাফরিনের মনটা খারাপ হয়ে গেলো। জাফরিন কাঁধে হাত রাখলো শ্বাশুড়ির। জাফরিন বললো,
” আহা!!মা আর কেঁদো না। ভাগ্যে ছিলো এসব। এসব বিপর্যয় হওয়াটা নিয়তির লিখন ছিলো এজন্যই কোনোভাবেই এটাকে এড়ানো যায়নি। সবতো আমাদের হাতে থাকে না। তুমি দোয়া করো আমাদের জন্য। আমি যেনো তোমার ছেলেকে এবার ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখতে পারি”।
নিয়াজের মা জাফরিনের মাথায় হাত দিয়ে বললো,
“দোয়া করি আমার ছেলে যেনো এবার তোকে আগলে রাখতে পারে। জীবন আবারও সুযোগ দিয়েছে সেটা যেনো সে হেলাফেলা না করে “।
জাফরিন বললো,
” আচ্ছা মা তোমার ছেলের সাথে তুরফার প্রায় চার বছরেরও বেশি সংসার জীবন। নিয়াজের কখনো মনে হয়নি একটা সন্তান দরকার বা মনে হলেও সেটা তুরফাকে কি বুঝাতে পারেনি?
নিয়াজের মা ফোস করে একটা শ্বাস ফেললো। মনে হলো অনেক ভারি একটা কিছু বের হয়ে গেলো বুক থেকে। অনেকটা আক্ষেপের সুরে বললো,
” নিয়াজ বাচ্চা বরাবরই ভালোবাসে। সেই শখ আহ্লাদ থেকে বাচ্চাদের ডাক্তারইতো হলো। ওর বাবার ইচ্ছে ছিলো ছেলে কার্ডিওলজিস্ট হবে। মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় নাকি দেখতো কত মায়েরা অসুস্থ বাচ্চাকে নিয়ে ছোটাছুটি করে হাসপাতালে। বাচ্চাকে বাঁচানোর আশায় তাদের কত কাকুতি মিনতি ডাক্তারদের কাছে। সেখান থেকেই বাচ্চাদের প্রতি মন নরম হয়ে উঠে তার। তাই সেদিকেই মন দিলো। বিয়ে হওয়ার প্রায় বছরখানেক পরেই তুরফা হঠাৎ করেই কনসিভ করে। তখন সে বিসিএস পরীক্ষার জন্য প্রিপারেশন নিচ্ছিলো। পড়াশোনা করতো খুব। যখন বুঝতে পারলো সে মা হতে যাচ্ছে সে এটাকে তার ক্যারিয়ারের প্রথম বাধাঁ হিসেবে দেখেছিলো। প্রথম বাচ্চা নতুন মা হওয়ার অনুভূতি তুরফাকে কোনোভাবেই কাবু করতে পারেনি। সে কোনোভাবেই বাচ্চাটা রাখতে চায়নি। সে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলো না এটা বলেছিলো। এখন বাচ্চা নেওয়ার বয়স বা সময় কোনোটাই তার হয়নি। বাচ্চার জন্য পড়াশোনার ক্ষ”তি হবে কত কথা। আমার ছেলেটা এতো খুশি হয়েছিলো বলার বাহিরে। প্রথম বাবা হওয়ার আনকোড়া অনুভূতি অনেক বেশি স্পেশাল কিছু। তুরফাকে এতো অনুরোধ করেছে বাচ্চাটার জন্য। অনেক বুঝিয়েছে। আমি বুঝিয়েছি। সন্তান সৃষ্টিকর্তার রহমত। সন্তান সংসারে রিজিকের বরকত আনে। মা হওয়ার সৌভাগ্য সবার হয়না। অনেকে চেয়েও পায়না। তোমাকে সৃষ্টিকর্তা খুশি হয়ে মা হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। তুমি তার নিয়ামতে অখুশি হইয়ো না। তুরফার মা-বাবাও অনেক বুঝিয়েছে। নিয়াজ পায়ে অবধি ধরেছে তুরফার। বাচ্চাটা রাখার জন্য। সবার এতো বুঝানোর পর সে অখুশি আর অনাগ্রহ করে হলেও বাচ্চাটা রাখলো। কিন্তু কথায় আছে না খোদা দিয়েও পরীক্ষা করে আবার নিয়েও পরীক্ষা করে। মেয়েটার এই নারাজি খোদা কবুল করে নিয়েছিলো। এজন্য পাঁচ মাসের সময় বাথরুমে গোসল করতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যায়। তারপর যা হবার হল। বাচ্চাটা মিসক্যারেজ হয়ে গেলো। আমার ছেলের আর বাবা হওয়া হলো না”।
জাফরিন কথাগুলো শুনেই চোখ বন্ধ করে ফেললো। স্তব্ধ হয়ে গেছে সে। একটা মানুষ কত কি সয়েছে মনে মনে ভাবলো। জাফরিন বললো,
” তুরফার আচরণ কেমন ছিলো?
নিয়াজের মা ফের বলতে শুরু করে,
“ক্ষনিকের জন্য হলেও মেয়েটার মন হয়তো নরম হয়েছিলো। মেয়ে মানুষতো। মায়ের জাত বলে কথা। শরীরের ভেতর থেকে নিজেরই অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে শোক তাপ হবেই। তারও হয়েছিলো। এই অনুভূতিটা শেষমেষ হলো ঠিকই কিন্তু সন্তান হারানোর পর। অসুস্থ থাকার পুরো সময়টা নিয়াজ ছায়ার মতো ওর পাশে ছিলো৷ তুরফাকে এই নিয়ে কোনো প্রকার ছোট করে কথা বলেনি সে। ভাগ্যের লিখন বলে মেনে নিয়েছে। তারপর অনেকদিন তারা ভালোই ছিলো। আসলে সমস্যাটা হয়েছে তুরফার বিসিএস ক্যাডার হিয়ে চাকরিতে জয়েন করার পর। দুজনের দুই জায়গাতে চাকরি। একেতো ডাক্তার হওয়ায় ছুটি মিলতো না তেমন। তার উপর কাজের প্রেশার। দুজনের মধ্য দিন রাত মিলিয়ে কথাও হতো কম। মোট মিলিয়ে দুজনের মধ্য শারীরিক আর মানসিক সব ধরনের দূরত্ব বেড়ে গিয়েছিলো। ফলাফল যা হবার তাতো হলোই। এজন্যই বলে স্বামী স্ত্রী বেশিদিন একে অপরের থেকে দূরে থাকতে নেই”।
জাফরিন মনোযোগ দিয়ে কথাগুলো শুনলো। অনেক খারাপ লাগছে নিয়াজের জন্য। ভালো মানুষকেই সৃষ্টিকর্তা বেশি পরীক্ষায় ফেলে। সারাটাদিন তার এসব নিয়েই ভাবতে ভাবতে গেলো। নিয়াজ বাহিরে একটা কাজের কথা বলে বেড়িয়েছে। ফিরতে নাকি সময় লাগবে। এদিকে জাফরিনের মন অশান্ত হয়ে আছে শ্বাশুড়ির কাছে কথাগুলো শোনার পর থেকেই। মনটাকে শান্ত করতে স্বামীর পছন্দের কয়েক পদ রান্না করলো সে।তারপরেও মন ভার গেলো না। দুপুর দুটোর পরে নিয়াজ বাড়ি ফিরলো। ঘরে ঢুকে দেখে বউ চোখ বন্ধ করে বেডে হেলান দিয়ে আছে। নিয়াজ এসেছে সে বুঝতে পারেনি। নিয়াজ কোনোরকম শব্দ না করে ধীর পায়ে গিয়ে বউয়ের মুখোমুখি বসলো। তারপর কোমড় জড়িয়ে ধরে বুকের উপর ফেললো জাফরিনকে। হঠাৎ এমন হওয়াতে জাফরিন থতমত খেলো। পরে পারফিউম এর ঘ্রাণ পেয়ে বুঝে নিলো যার বুকের মধ্য সে এখন আছে সেটা তার স্বামী। তারপর শরীরের সব আড়ষ্টতা আর ভর ছেড়ে দিলো সে। নিয়াজ পিঠে হাত বুলিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
” কি হয়েছে জাফরিন? শরীর খারাপ?
জাফরিন মুখ না তুলেই বুকের মধ্য আরও জড়াতে জড়াতে বললো,
” শরীর খারাপ না তবে?
নিয়াজ বললো,
“তবে কি”?
জাফরিন ক্ষীন গলায় বললো,
” অসুখ করেছে। মনের অসুখ। তুমি আদর করে সারিয়ে দাও ”
নিয়াজ জাফরিনের হঠাৎ করে মন খারাপ হওয়ার কারণ বুঝতে পারে না। জাফরিনকে অনেকক্ষন এভাবে নিয়েই জড়িয়ে থাকে৷ এভাবে অনেকটা সময় চলে যাওয়ার পর নিয়াজ বলে,
” তোর সাথে গভীর রাতে সমুদ্র বিলাস করতে আর তর সইছে না। সসমুদ্রের পাড়ে তুই আর আমি। সামনে সমুদ্রের আছড়ে পড়া ঢেউ সাথে মেঘে ঢাকা চাঁদ। কেমন হবে জাফরিন?
জাফরিন মুখ তুলে তাকায়। তারপর বলে,
ভালো হবে৷ অনেক ভালো হবে৷ আমারতো বরাবরই সমুদ্র অনেক পছন্দ। তোমার সাথে সমুদ্র বিলাসতো একটা স্বপ্নই ছিলো। ভেবেছিলাম কোনোদিন পূরন হবে না৷ কবে নিয়ে যাবা?
নিয়াজ বললো,
” আগামীকাল রাতের বাসে রওনা হয়ে যাবো “।
জাফরিন বলে,
আগামীকাল!!! তাহলেতো একদমই সময় নেই৷ কত কি গোছানোর আছে। সমুদ্রে বেড়াতে যাওয়ার জন্যতো কিছুতো কেনাই হলো না।
নিয়াজ বলে,
” বিকেলে মার্কেটে নিয়ে যাবো। যা লাগে কিনে নিস। এখন আগে খেতে দে। ক্ষু”ধা লেগেছে। মা বললো তুই নাকি আজকেও আমার জন্য রান্না করেছিস? এটা শুনে আরও ক্ষু”ধা লেগে গেছে।
জাফরিন বললো,
তুমি ফ্রেশ হয়ে আসো। আমি খাবার নিয়ে আসতেছি।
নিয়াজের ফ্রেশ হতে হতে জাফরিন ট্রেতে খাবার নিয়ে ঘরে আসে। সব নিয়াজের পছন্দের খাবার রান্না করেছে। আইড় মাছের ঝাল, পাবদা মাছ দিয়ে টমেটোর টক, কুচোনো ঝুরি করে আলু ভাজা, আলু দিয়ে দেশি মুরগির পাতলা ঝোল, পাচঁ মিশালী ছোট মাছের চচ্চড়ি সাথে মসুরের পাতলা ডাল। মন খারাপ লাগছিলো বলে নিজেকে ব্যস্ত রাখার জন্য একাই সব করেছে। নিয়াজ গোসল সেরে বের হয়ে এসে দেখে বউ খাবার নিয়ে বসে আছে। নিয়াজ চুল মুছতেই মুছতেই খাবার দেখে বললো,
” এতো আইটেম আজকে একসাথে রান্না হয়েছে? একাই করেছিস সব?
জাফরিন নিজের কাধঁটা মৃদু ঝাঁকিয়ে বললো,
” নিজের স্বামীর জন্য বউ ছাড়া আর কে রান্না করবে? অবশ্যই আমি সব রান্না করেছি। সব তোমার পছন্দের খাবার। খেয়ে বলো কেমন হয়েছে?
একটা প্লেটে খাবার বেড়ে রেখেছে জাফরিন। নিয়াজ ভাবলো বেলা যখন অনেক হয়েছে জাফরিন মনে হয় মা”দের সাথে খেয়ে নিয়েছে। নিয়াজ বসতেই বললো,
” একটাই প্লেট নিয়ে এসেছি। মা বললো স্বামী -স্ত্রী এক প্লেটে খাবার খেলে দুজনের মধ্যে ভালোবাসা বাড়ে”।
নিয়াজ কয়েক সেকেন্ড সময় নিলো বুঝতে। তারপর প্লেটের দিকে তাকিয়ে দেখলো প্লেটটা বড় নিয়ে এসেছে জাফরিন। এটাতে অনায়াসে দুজন একসাথেই খাওয়া যাবে৷ নিয়াজ খুশি হলো বেশ। আবার সেই পুরনো তিক্ত অভিজ্ঞতা মনে পড়লো তার। তুরফাকে নিয়ে সে কখনো এক থালাতো দূর একসাথে পাশে বসে খেয়েছে কিনা এমন নজির নেই। খিদে পেলে ও আগেই খেয়ে নিতো। ক্ষু”ধা সহ্য করতে পারতো না। নিয়াজের অনেক ইচ্ছা হতো অন্তত তার খাওয়ার সময়টাতে যেনো তুরফা পাশে বসে থাকুক একটু। তুরফার সেটা ইচ্ছা করতো না। আগ্রহও হতো না। তার এতোক্ষন বসে থাকতে ধৈর্য হতো না। জাফরিনের ডাকে নিয়াজের হুশে ফেরে। কি যে হয়েছে নিয়াজের। বিয়েটা হওয়ার পর থেকে তুরফার সাথে সেই স্মৃতিগুলো মনে পড়ছে যেগুলো শুধুই একেকটা হাহাকার। জাফরিন আবার ডাকলো,
” কি ভাবছো এতো? সেই সকালে খেয়েছি তোমার সাথে। খিদা পাইছেতো। খাওয়াই দাও “।
নিয়াজ ভাত তরকারি মিশিয়ে এক লোকমা জাফরিনকে খাইয়ে দিলো। জাফরিনও একটু আইড় মাছের ঝোল নিয়ে মাখিয়ে নিয়াজকে খাইয়ে দেয়। নিয়াজ মুখে দিতেই অবাক হয়ে যায়। মাছের তরকারিটা অনেক ভালো হয়েছে। নিয়াজ মুখের খাবার শেষ করে বললো,
” এতো ভালো রান্না তুই কিভাবে শিখলি জাফরিন? বিদেশে থেকেও?
জাফরিন হেসে বলে,
” বিদেশেতো নিজেই রান্না করে খেতাম এসবই। রান্না করতে করতেই শিখে ফেলছি সব “।
দুজন দুজনকে কত মায়া ভালোবাসা আদর নিয়ে খাবার খাইয়ে দিচ্ছে। খুনসুটি করছে। দরজার সামনে একটু আড়াল থেকে জাফরিন আর নিয়াজের মা সবটা দেখলো। দুজনকে এভাবে খুশি থাকতে দেখে তারাও অনেক খুশি হলো। দূর থেকে তারা দুচোখ ভরে দোয়া করলো নিজেদের সন্তানের জন্য। খাবার খাওয়া শেষ হলে দুজনে একটু শুয়েছে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য। এই গরমে রান্না করার জন্য জাফরিনের বেশ ক্লান্ত লাগছিলো। সে নিয়াজের বুকের উপরে মাথা রেখেই ঘুমিয়ে গেছে। নিয়াজের আজকে মনটা ভালো নেই। হঠাৎ করে তুরফার কথা মনে পড়ছে তার। আগে যে পড়তো না তা না। ভুলে থাকতে চাইছে কতবার। চেষ্টা করছে। এখনতো জাফরিন তার জীবনে। এখন আরও ঠিক না তুরফার মতো বেই”মানকে মনে করার। নিজের প্রতি বিরক্ত লাগছে তার। তবুও বেলাজের মতন তুরফার কয়েকটা ছবি এখনো ফোনের ফোল্ডারে রেখে দিয়েছে। সেগুলো দেখছিলো আর এসব মনে করছিলো। হঠাৎ করে হোয়াটস আ্যাপে একটা টেক্সট আসে তার। নিয়াজের বন্ধু সেও ডাক্তার। টেক্সটটা দেখে নিয়াজের মাথা যেনো বনবন করে ঘুরে উঠলো। সেখানে লিখা,
“Turfa has a brain tu”mour. It’s in the last stage. She’s currently in New York.”
চলবে……..

