#তোমার_চোখের_অনন্ত_মায়ায়
#গল্পছোঁয়া (Jannatul Ferdous Mahi)
#পর্ব_০৮
–মা কইচে আমায় নাটক করতে,তাইলে তোমার ভাই আমায় খাওয়ায় দিবে,তুমিও তাল মিলাও আমার সাথে বুঝছো (ইয়ানা’র দিকে এগিয়ে এসে ফিসফিস করে বললো শিমলা)
–তোর মায়ের পেটেপেটে এতো বদ বুদ্ধি শিমু,ছিহ্ কেমন মা উনি,নিজের মেয়েকে এসব শিক্ষা দিচ্ছে,আমি সত্যিই লজ্জিত
–এমন করে কও ক্যান,মা তো ভালোর লাইগাই কইছে তাইনা?
–কিরে,ঠান্ডা হয়ে গেলো মুচমুচে থাকবেনা,খাওয়া বাদ দিয়ে দুটোতে কি শুরু করলি,খাওয়ার ইচ্ছে নাই নাকি তোদের, তাহলে আমিই সব খেয়ে নিই কি বলিস (বললো ইন্তিহাজ)
–বলছিলাম যে ভাইয়া,শিমু নাকি হাতে ব্যাথা পেয়েছে,একা খেতে পারছে না,আমিও খাচ্ছি,ওকে কি করে খাওয়াবো বলোতো,কি করা যায় এখন,আমরা খাব আর শিমু চেয়ে চেয়ে দেখবে এটা কেমন দেখায় তাই-না (দৃঢ় স্বরে বললো ইয়ানা)
(আমি জানি,তুমি কিছুতেই ওকে খাইয়ে দিবে না,আমার বিশ্বাস ভুল হতে পারে না,আমার বিশ্বাস আছে তোমার ওপর)
ইন্তিহাজ উঠে গিয়ে বোতলের পানি নিয়ে হাত ধুতে লাগলো, ইন্তিহাজের আচরণে ইয়ানা বড়বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে, শিমলা লজ্জামিশ্রীত হাসি দিয়ে ইয়ানা’র উদ্দেশ্যে বললো,
–থেঙ্কস ইয়ানা,উনিতো হাত ধুচ্ছেন,তারমানে আমারে নিজেই খাওয়ায় দিবে কও,আমার বুকের মাঝে ঢিপঢিপ করতাছেগো।লজ্জা লাগতেছে আমার,ইশশ আমি কিভাবে ওনার হাতে খামু
–লজ্জার কি আছে,জীবনে খাসনি এবার খা না খা, বেশি করে খাস,যতখুশি খা (দাঁতে দাঁত চেপে বললো ইয়ানা)
–কিছু বললে নাকি ইয়ানা?আমি ঠিক শুনতে পাইনিগো।
–নাহ্,কি বলবো আমি,কিছু বলিনি,কিছু বলার নাই আমার।
শিমলা’র প্ল্যানিং-এ এক বালতি পানি ঢেলে দিয়ে ইন্তিহাজ বহ্নি কে ডেকে বললো,
–কিরে,খাওয়া হয়েছে তোর? হয়ে গেলে শিমলা’কে একটু খাইয়ে দিসতো,ওর নাকি হাতে ব্যাথা,খেতে পারছেনা।
–এ্যাহ্,এটা কি ভাত নাকি,পিঁয়াজু খেতে গেলে হাত ব্যথা করে লাইফে ফার্স্ট শুনলাম, জাস্ট হাস্যকর।
হ্যাঁরে শিমু,তোর মধ্যেও তোর মায়ের আত্মা ভর করলো নাকি রে,কিসব আজগুবি কথাবার্তা বলছিস।মায়ের পাল্লায় পরে নিজেকে হাসির পাত্রি বানাসনা বোন,জীবনে বিপদে পরবি।
–একটা কাজ তোর দ্বারা হয়না,তোকে বললাম কি আর করছিস কি,একটা মানুষের প্রবলেম হতেই পারে,এটা নিয়ে এতো কথা বলার কি আছে বহ্নি,না পারলে বলে দে যে তুই পারবিনা,বেশি কথা শিখে গেছিস আজকাল,বেয়াদব একটা।
–ছাইড়া দিননা,আমি তো কয়দিন পরপরই খাই,আপনেরা আজ খান,আমি অন্যদিন খামু,আমার জন্য এরকম কইরেননা আপনেরা।
–এত কথা কিসের,ইন্তিহাজ ভাইয়া,তুমি তো ফ্রী আছো,একে-ওকে না বলে তুমি ওকে খাইয়ে দিলেই তো হয় তাইনা,আজব
–ইয়ানা,কি বলছিস মাথা ঠিক আছে তোর (ধমক দিয়ে)
আমি ওকে খাইয়ে দিব মানে,বাজে বকিসনা ইয়ানা।
শিমলা,শোনো,এককাজ করি বরং,বেশি করে প্যাক করে নিয়ে যাই,তুমি বাড়ি গিয়ে সবার সাথে খেও কেমন।মন খারাপ করোনা,এই সবগুলা অলস,একটা কাজ এদের দ্বারা হয়না।
আর এইযে,তোমার বান্ধবী ইয়ানা।ইনিতো এক নম্বরের অকর্মার ঢেকি,দশ-টা বললে একটা কথা শুনে।ওদের থেকে হেল্প পাওয়ার আশা করাটাও বোকামি।
★
শিমলা’র বাবা শফিক রহমান ঘরে ঢুকতেই মালেকা বেগম দরজায় খিল দিলেন,
–শিমলার আব্বা শুনছো,ওরাতো আইসা গেছে,এইবার আম্মারে পটায়ে বিয়ার কথাটা পারি কি কও তুমি।।
–কখন আসছে ওরা?
–বিকালের দিকে আইছে,এহন তোমার বেটিরে নিয়া সক্কলে বাজারে গেছে,তোনার বেটিও একখানা ঢেরশ।এতো কইরা কচ্ছি পোলাডারে পইটাতে,কিন্তু হেতি তো এককান দিয়া ঢুকাইয়া আরেক কান দিয়া বাইর কইরা দিচ্ছে,একটা কথা শুনেনা আমার,ওনার নাকি লজ্জা লাগে,ঢং যতসব।
–আম্মা কি রাজি হইবো?আর ভাবি?ভাবিতো নিজের একটামাত্র ডাক্তার ছেলের সাথে আমাগো শিমুর বিয়া করাইতে কিছুতেই রাজি হইবোনা।কোথায় আকাশের চাঁদ আর কোথায় আমরা,বামন হয়ে চাঁদে হাত দেওয়ার কি দরকার কওতো,আমার মাইয়াডার কপাল পুড়ায়ওনা মালেকা
–থামো তুমি,বলি তুমি বাপ নাকি শত্তুর কওতো।হাতের কাছে এতো ভালো পোলা থাকতে কেউ হাতছাড়া করে নাকি,সম্বন্ধ ডা পাকা করতে পারলি আমারে শিমলা আর আমাদের সক্কলেরই লাভ বুইঝছো।আমারে সিয়ামের ভবিষ্যৎ টাও পাকাপোক্ত হইয়া যাইবো এই উছলোতে,আর আমার মাইয়াডাও সুখে থাকবো,ট্যাকার গদির ওপরে শুইয়া রাজ করবে রাজ,একঢিলে দুই পাখি মারবো বুঝছো।শুনো শিমলার আব্বা,একদম তালবাহানা করবানা,বিয়ার পর থাইকা নিজেতো আমার কুনো শখ আহ্লাদ পুরা করতি পারলানা,সারাজীবন কলুর বলদের লাকান খাইট্টাই গেলাম,আর না।সুযোগ যখন পাইছি,সেইডা হাতছাড়া আমি কিছুতেই করমু না,আম্মারে পটায়া ফালাইছি,এখন যায়া তেল মারমু।
–যা খুশি করো,কিন্তু একখান কথা মনে রাইখো অতি লোভে তাঁতি নষ্ট,তোমার এইসব লোভ করনের লাইগা শেষে না আমাগো এই বাড়ি ছাইড়া চইলা যাইতে হয়।এই বয়সে বাড়ি ছাড়া হইলে কোই যামু কওতো,দুইডা ছাওয়াল লইয়া পথে ভিক্ষা করন লাগবো
কথাগুলো বলে ঘর থেকে বেড়িয়ে যেতে লাগলে মালেকা বেগম বললেন,
–কতি যাচ্ছাও এখন,শুনো উল্টাপাল্টা কিছু কইরা আমার প্ল্যান ভেস্তে দিবানা,খারাপ হইয়া যাইব কয়া দিলাম কিন্তু।
–যাচ্ছি আম্মার কাছে,ভাইয়েরা এই মাসের ট্যাকাগুলান দিলো নাকি শুনবোনা?পকেট তো ভাড়ে মা ভবানী,কানা-কড়িও নাই,বাজারঘাট করন লাগবো,ছেলেমেয়েরে ঈদের জামা কিইনা দিমু,ট্যাকা লাগবো না?হাত তো একেবারে ফাঁকা
–আমিও যামু চলো,আম্মারে একটু তেল মাইরা আসি,চলো
★
মেঝেতে বসে থেকে জাতি দিয়ে সুপারি কাটছেন আমরূপালি জামান,মালেকা বেগম আর শফিক রহমান এসে দরজায় কড়া নেড়ে বললেন,
–আম্মা,আসমু?
–কে?ওহ্ তোরা,আয় আয়,বস।
কি বলবি বল
–আম্মা কচ্ছিলাম যে ভাই তোমারে এই মাসের ট্যাকা দেয়নি?দু’দিন বাদে কুরবানির ঈদ,আমার হাতে তো কানাকড়িও নাই। ছালপালকে জামা কিইনা দিমু কি কইরা আর বাজারঘাট করমু কি দিয়া কওতো,এই মাসে তো চাষবাস কইরা সেইরকম হাতে ট্যাকাটুকি কিছু হইলোনা,ওরে দুই ভাই-বোইনের পড়ালেখার লাইগা ম্যালা খরচ হইয়া গেছে,এখনতো চলবার মতো ট্যাকাও আমার হাতে নাই,চলমু কি কইরা আম্মা
–চিন্তা করিস না বাপ,ট্যাকা আছে সমস্যা নাই।ইয়াকুব ৩০হাজার দিছে আর আয়ুব ২০হাজার দিছে,চলবোনা?
–হ্যাঁ হ্যাঁ আম্মা,চলবো মানে দৌড়াইবো আম্মা।এই মাস ডা আরামে চইলা যাইবো,কোই ট্যাকা,দেন আমার হাতে দেন, আপনার পোলা হিসাবনিকাশে একদম কাঁচা,কুনদিক দিয়া খরচ কইরা ফ্যালাইবো,ট্যাকাগুলান আমার কাছে দ্যান,আমি গুছাইয়া রাখমুনি। (লাফিয়ে উঠে বললেন মালেকা বেগম)
–আহ্ মালেকা কি হচ্ছে টা কি,থামো তুমি (চোখ রাঙিয়ে)
আম্মা,ওতগুলা ট্যাকার দরকার নাই,তুমি ওই ১০হাজারের মতো দিও,এই মাসটা ভালো কইরাই চইলা যাইবো,আর বাকি টাকাগুলান ভাইজান রে কইয়া ব্যাঙ্কে রাখো,ভালো হইবো।
–পাগল হইছাও তুমি শিমলা’র আব্বা,ট্যাকা ব্যাঙ্কে রাখবো মানে?কয়দিন পর আমারে শিমু’র বিয়া,খরচপাতির ব্যপার আছে না,ম্যালা ট্যাকা লাগবো।
–বিয়ে কিসের বিয়ে,শিমলা’র বিয় ঠিক করে ফেললি তোরা?কোই আমাকে তো বলিসনি কেউ?
–না আম্মা,আমরা ঠিক করমু ক্যা,ঠিক তো আপনি করবেন।আপনিতো কইছিলেন আপনার বড় নাতি ওই ইন্তিহাজের সাথে আমারে শিমলা’র বিয়া দিবেন,ওইডাই কচ্ছিলাম।
তা আম্মা,কবে কবেন বিয়ার কথা,মাইয়াডার বয়স তো ১৮হইয়া গ্যালো,এরপর তো বুড়ি হইয়া যাইবো,তখন তো সমস্যা,ওর সব বান্ধবীদের বিয়া হইয়া গেছে,খালি আপনের আসায় আমার মাইয়াডারেই ফ্যালায় রাখছি,এবার কিছু কন
–ভালো কথা মনে করাইচোস তুই মালেকা,কালকেই কথা বলবোনি ওদের সাথে,তুই এই নিয়ে চিন্তা করিসনা যা
–কালকে কালকে কইরা তো বছর শেষ হওয়ার যোগাড়,আর কতো?নাহ্,কোনো কাইল না,আজ রাতেই কইবেন আপনি
–আচ্ছা খাওয়ার সময় কমুনি,আমার দাদুভাইরা আসুক।
–আচ্ছা আম্মা,কইয়েন কিন্তু।আমি যাই দেখি রান্নাবাড়া কতদূর,আজ তো দুই ভাবি রানতে লাগছে,কি অবস্থা কে জানে
★
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সবাই বাড়ি আসতেই মালেকা বেগম শিমলা’র হাত ধরে টেনে ঘরে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
–কিরে,তোরে যেইডা শিখায়া দিছিলাম,ওইডা করছিলিতো
–হ,করা আর হইলো কোই।তুমি যেরকম তোমার বুদ্ধি গুলানও ওইরকম,কোনো কাম হয়নাই।এই নাও ধরো,এখন পিঁয়াজি খাও বেশি কইরা,তোমার লাইগা এতো মচমচে পিঁয়াজি গুলান খাইতে পারলুমনা,এখন এই ঠান্ডা গুলান তুমি গিলো বইসা বইসা,ইশশ,সবাই খাইলো আর আমি চায়া চায়া দেখলুম,সব হইচে তোমার জন্য,আর বাজে বুদ্ধি দিবানা আমারে
–ওরে ছেমরি রে,তোর মা তোর ভালোর জন্যি এগুলান করতেছে রে,বিয়াডা একবার হইলে এরকম পিঁয়াজি গাদাগাদা খাইতে পারবি।তুই থাক,আমি ওইদিকটা দেখি যায়া।
মালেকা বেগম হেঁশেলে গিয়ে দেখে খাদিজাতুলনেসা চুলায় রান্না করছেন আর আমেনা খাতুন বাটনা বাটছেন,
–ওও কি-লো,আমেনা,তুই এতো কষ্ট করতিচিস ক্যা,আমার শিমলা তো আছেই,ও সব কইরা দিব,সর উঠ দেখি।আমার মাইয়াডা হইলো গিয়া রূপে লক্ষি গুণে সরস্বতী,সব পারে,সব শিখাইছি আমার মাইয়ারে।কুটনো কাটা,বাটনা বাটা,সেলাই ফোর,রান্নাবাড়া,কাজকাম,পড়ালেখা সবকিছু তে একেবারে এসপাট যাকে কয়,যে ঘরে যাইবো তারে খালি সুখই সুখ।
–মেয়ের বয়স তো ১৭চলছে,এখনই বিয়ে নিয়ে পরছিস কেন মালেকা,পড়াশোনা করা মেয়েরে,স্বাবলম্বী হওয়া দরকার।এখনকার কোনো মেয়েই পিছিয়ে নেই,পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে,নিজেই ইনকাম করছে বুঝলি।
–আশেপাশের সব মাইয়ার বিয়া হইয়া গেছে,আমার শিমলাডাই বাকি আছে।বিয়ার পরে কতজনে পড়ালেখা চালায়,তখন পড়বো না হয়।মাইয়ামানুষের পিছনে এতো খরচ কইরা কি করমু,দিনশেষে তো শশুরবাড়ি চইলা যাইবো,এমনিতেই হাত টানাটানি চলছে,আর খরচ করবার পারুমনা,বিয়াডা দিবার পারলে বাঁইচা যাই।
ক্যারে শিমলা,ঘরের পারে কি করিস,এটি আয়,তোর চাচিদের রান্নাবাড়ায় হাতে হাত লাগা,রাইনতে দেরি হইয়া যাইবোতোরে।
★
রাতে খাবার খাওয়ার জন্য বারান্দায় খেজুরপাতার তৈরি কতগুলো পাটি বিছানো হয়েছে,মালেকা বেগমের জোড়াজুড়ি তে সবাই খেতে বসেছে,শিমলা খাবার পরিবেশন করছে। মালেকা বেগম শিমলা’কে উদ্দেশ্য করে বললেন,
–শিমু রে,মাছের মাথা খানা ইন্তিহাজ রে দে,কতো ইংজেরি মোটামোটা বইয়ের পড়া মুখস্থ করা লাগে ক তো,মাছের মাথা খাইলে পারে মাথার বেরেইন মজবুত হয়।পুকরের টাটকা রুই মাছের মাথা,যেমন গন্ধ তেমন স্বাদ,খাইয়া দেখো বাবা।তোমাগো শহরে তো টাটকা কিছু খাইতে পারোনা,এইখানে পেট ভইরা খাও।
আমার শিমলা মাছের ঝোলডা নিজে রানদিচে,তোমার লাইগা বুইঝছো,খাও বাবা খাও,ভালো কইরা খাও,শিমু আরেকটু ভাত তরকারি দে ছেলেডারে,আহারে শুকায় গেছে কত।
কিছুক্ষণ পরে,
–বাবা গরম লাগছে তুমার?থামো..
হ্যাঁরে শিমলা,যা তো মা ঘর থাইকা হাত পাখা ডা নিয়ায়,ওইডা দিয়া বাতাশ কর ছেলেডারে,আহারে ঘাইমা গেছে,শহরের এসি ঘরে থাকা মানুষ,এই গরমে থাইকবো কি কইরা,যা মা বাতাশ কর।
ওগো শিমলার আব্বা,কাল একটা বড় ফ্যান ভাড়া কইরা আইনোতো,একয়দিন ইন্তিহাজ তো গরমে থাকবার পারবোনা।
–কি বলছেন আন্টি,এসবের কোনো প্রয়োজন নেই,আমি ঠিক আছি,আপনাদের এসব করার কোনো প্রয়োজন নেই।
–নাহ্ না,বাবা কি কও।আমি বুঝিতো তোমার অসুবিধা হচ্ছে এইখানে,আমি তো দেখতিছি তোমার কি অবস্থা ঘেমে-নেয়ে।
কিরে শিমলা,কোই তুই,তাড়াতাড়ি আয়,এত দেরি হয় ক্যান?
–(উমম,আদিখ্যেতা,দরদ যেন উতলে উতলে পরছে,ঢং দেখলে বাঁচিনা।মা মেয়ে উঠে পরে লাগছে ভাইয়াকে পটানোর জন্য,জাস্ট ডিসকাস্টিং,এখানে থেকে একবার বাড়ি ফিরি,আর এমুখো হবোনা আমি)—বিরবির করে বললো ইয়ানা।
–আপনি হঠাৎ আমার ভাইকে নিয়ে পরছেন কেন বলুনতো,তখন থেকে দেখছি ভাইয়াকে নিয়ে একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করছেন,কি উদ্দেশ্য আপনার(সন্দেহজনক ভাবে বললো বহ্নি)
–কি কইস ছেমরি,আমার আবার কিসের উদ্দেশ্য থাকবো??
–সেটা আপনিই ভালো করে জানেন,আপনাকে তো আমি চিনি,উদ্দেশ্য ছাড়া এক পা-ও নড়ার পাত্রী অন্তত আপনি নন। কারোর দৃষ্টিগোচর না হলেও আমি ঠিকই খেয়াল করছি আপনাকে,এবার বলুন তো,আমরা শুনি কি উদ্দেশ্য আপনার?
–বহ্নিইই (ধমক দিয়ে বললো ইন্তিহাজ)
–ভাইয়া,আমার ওনার বিহেভিয়ার সুবিধাজনক মনে হচ্ছে না,আই এম ড্যামন শিওর,কিছু একটা উদ্দেশ্য তো ওনার আছেই।ওনার মাথায় কিছু একটা চলছে বুঝলে।
–সবাই খাওয়াদাওয়া শেষ করো,আমার তোমাদের সবার সঙ্গে কিছু জরুরি কথা আছে (বললেন আমরূপালি জামান)
–কি কথা আম্মা,সিরিয়াস কিছু কি?(বললেন আয়ুব জামান)
–ধরে নে সেরকমই কিছু,আশা করি তোরা আমার কথা রাখবি।খাওয়াদাওয়া টা শেষ কর,তারপর বলবো আমি
–এখনই বলো,টেনশন হচ্ছে আম্মা।খেতে খেতেই শুনি
–আচ্ছা বলি শোন,আমার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা শিমলা’রে এই বাড়ির বউ করবো,কিন্তু আমাদের ইন্তিহাজ ছাড়া তো এই পরিবারে বিয়ের বয়সই কোনো ছেলে নাই,তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি শিমলা’র সাথেই ইন্তিহাজের বিয়া দিয়া ওর বউ করমু।
আমরূপালি জামানের কথা শুনে বিষম খেলো ইন্তিহাজ, শিমলা ইন্তিহাজের মাথায় হাত দিতে গেলে ইন্তিহাজ সরিয়ে দিলো,ইয়ানা গ্লাসে পানি ঢেলে ইন্তিহাজের সামনে ধরলো। ইন্তিহাজ ঢকঢক করে গ্লাসের পানি শেষ করে বলে উঠলো,
–আর ইউ জোকিং দিদা,কি বলছো তুমি মাথা ঠিক আছে তোমার।দিদা প্লিজ,এধরনের মজা করা বন্ধ করো তুমি।
–আমি কোনো মজা করছি না দাদুভাই,শিমলা’র সাথেই তোমার বিয়ে হবে এটা আমার শেষ কথা,ওরে আমি আমার মনের মতো করে বড় করেছি,শুধু তোমার বউ করবো বলে।
–আম্মা,এসব কি বলছেন আপনি,আপনার মাথা ঠিক আছে? আমার ইন্তিহাজ বিয়ে করবে এই শিমলা’কে,অসম্ভব। কেনোদিন এটা সম্ভব না,কোনোভাবেই আমি এই বিয়ে হতে দিবোনা,আমার একটামাত্র ছেলের জীবন আমি কিছুতেই নষ্ট হতে দিতে পারিনা,আপনি এই সিদ্ধান্ত ত্যাগ করুন আম্মা,এই বিয়ে কখনো সম্ভব না (বললেন খাদিজাতুলনেসা)
–কিইই,আমি বলছিলাম না।এই মহিলার কোনো উদ্দেশ্য আছে, আমি শিওর এই মহিলাই দাদিমার ব্রেনওয়াশ করেছে,এতখনে বুঝলাম,ভাইয়ার প্রতি এতো আদিখ্যেতা দেখানোর কারণ।কি পরিমাণ চালাক মহিলা ভাবা যায়,পেটেপেটে আমার ভাইকে ফাঁসানোর ছক কষে ফেলেছে (রেগে বললো বহ্নি)
–আমি তোমাদের মতামত জানতে চাইনি,আমার আদেশ এটা।কালকেই ছোটখাটো আয়োজন করে আমি ওদের বিয়ের নিরক্ষন করিয়ে রাখবো, শিমলা’র মাধ্যমিক পরিক্ষা শেষে হলেই ধুমধাম করে বিয়ে হবে (আমরূপালি)
–আম্মা বুঝার চেষ্টা করো,তুমি যেটা বলছো এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়,ইন্তিহাজের নিজেরও একটা মতামত রয়েছে,তুমি জোর করে ওকে বিয়ের জন্য বাধ্য করতে পারোনা।বিয়েটা কোনো ছেলেখেলা নয়,এটা সারাজীবনের ব্যাপার,এটা ওদের দু’জনেরই জীবনের প্রশ্ন (ইয়াকুব জামান)
–কেন,আমার শিমলা’র মধ্যে খারাপ কি আছে,রূপ গুণ সব আছে ওর,তাহলে সমস্যা কি তোদের।আমাদের কি বিয়েশাদি হয়নি,তোর বিয়েওতো আমিই দেখাশোনা করে দিছিলাম, এখনওতো দিব্যি সংসার করছিস,ওদেরও সব ঠিক হয়ে যাবে
–আম্মা,তখনকার জেনারেশন আর এখনকার জেনারেশন টোটালি আলাদা,তুমি বুঝার চেষ্টা করো (আয়ুব জামান)
–কথাটা যখন আমাকে নিয়ে হচ্ছে,তখন আমি বলছি,আমার পক্ষে কিছুতেই এই বিয়ে করা পসিবল না।কিছুমাস পরে আমার ফাইনাল পরিক্ষা,আমাকে ফোর্স করোনা প্লিজ।
–এখন নিরক্ষন করায়া রাখমু,তোমার পরীক্ষা শেষেই নাহয় বিয়ের অনুষ্ঠান হইবো কি সমস্যা,আমাদের কুনো আপত্তি নাই এতে,কি কও শিমলার আব্বা (বললেন মালেকা বেগম)
–ফাইজলামি নাকি,মামার বাড়ির আবদার মনে করছেন।আপনার মেয়ের সঙ্গে আমার ভাইয়ের বিয়ের কথা ভাবেন কি করে,বামন হয়ে চাঁদ ধরার খুব সখ তাইনা,বেয়াদব মহিলা কোথাকার (বহ্নি)
–দিদিভাই,বড়দের মাঝে কথা বলোনা,তোমাদের সকলের গুরুজন আমি,এই পরিবারে আমার কথাটাই শেষ কথা…..
To be continue…..
#তোমার_চোখের_অনন্ত_মায়ায়
#গল্পছোঁয়া (Jannatul Ferdous Mahi)
#পর্ব_০৯
–তোমাদের সকলের গুরুজন আমি,এই পরিবারে আমার কথাই শেষ কথা,এই বিয়েটা হচ্ছে মানে হচ্ছে,আমি এ বিষয়ে আর কিছু শুনতে চাইনা তোদের থেকে (আমরূপালি জামান)
–আমিও সেইডাই কোই,আমাদের কারোর তো আপত্তি নাই,আমার শিমলা ডাও রাজি আছে (মালেকা বেগম)
–সরি দিদা,আমি তোমার এই আবদার রাখতে পারলাম না, পারলে ক্ষমা করো আমাকে,কিন্তু এই বিয়ে করা আমার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়,ইম্পসিবল (বললো ইন্তিহাজ)
–আমার সিদ্ধান্তের ওপর কথা বলার সাহস হয় কি করে তোর?তোর বাবা চাচা জীবনে কোনোদিন আমার কথার হেরফের কেনি,আর তুই আজকে আমার হুকুম নাকোচ করছিস??
–লাইফ আমার,সো আমার লাইফের ডিসিশনটাও আমার।আমার লাইফে আমি কাকে জীবনসঙ্গী করবো কাকে করবোনা সেই ডিসিশনটা আমি নিব,কারণ সংসারটা আমাকে করতে হবে,সারাটা জীবন সাফার করতে হবে তাকে নিয়ে।
–আস্তে আস্তে সবই ঠিক হয়া যায় দাদুভাই,এই-যে আমি।বিয়ার আগে তো তোদের দাদুরে চিনতামইনা,বাসরঘরে ১ম সাক্ষাৎ,ধীরেধীরে আমরা ঠিকই ফিরি হয়া গেছি,কতো যত্ন করতো তোদের দাদা আমাকে,তোদেরও ঠিক হয়া যাইবো।
–ঠিক হোক বা খারাপ,মেইন কথা আমি শিমলাকে বিয়ে করতে পারবোনা,এটা কিছুতেই সম্ভব নয়।ওতটুকু একটা বাচ্চা মেয়েকে বিয়ে করবো আমি,ওর তো ১৮হয়ইনি,এখনই বিয়ের কথা বলে ওর মন-মানসিকতা নষ্ট কেন করছো তোমরা,ওর এখন পড়াশোনা করার বয়স।দিদান,আমি তোমার থেকে অন্তত এমনকিছু আশা করিনি,আমি তোমাকে যথেষ্ট জ্ঞানী ও বিচক্ষণ মনে করতাম,বাট আই এম রং।
–ওরে রয়েসয়ে কথা বল দাদুভাই,দেখতো মেয়েটার মুখচোখ শুকায়া গেছে,কত খুশি ছিল মেয়েটা,ওরে শিমুরে কান্দিস না বইন,তোর দাদি আছে তো তোর সাথে,আমি ব্যবস্থা নিবো।
আমরূপালি জামানের কথা শুনে ইন্তিহাজ শিমলা’র দিকে তাকিয়ে দেখে শিমলা মাথা নিচু করে চোখের পানি ফেলছে,ইন্তিহাজ কড়া গলায় শিমলা’কে উদ্দেশ্য করে বললো,
–কি-রে,তোকে কি কেউ কিছু বলছে,নাকি বকছে?তুই কাঁদছিস কেন?এসব চিন্তাধারা বাদ দিয়ে পড়াশোনা কর মন দিয়ে,সামনে না তোর এসএসসি পরিক্ষা,পড়াশোনা ছাড়া মাথায় অন্যকোনো চিন্তাই নিয়াসবিনা,খারাপ রেজাল্ট যারা করে তাদের আমার মোটেও পছন্দ না,আমার কাছে পড়াশোনা,শিক্ষা এগুলোর প্রাধান্য সবচাইতে বেশি।
কথাগুলো বলেই খাওয়া ছেড়ে উঠে চলে গেলো ইন্তিহাজ, ইয়াকুব জামান নিজের মা আমরূপালির উদ্দেশ্যে বললেন,
–এই কারণে আমাদের ইমার্জেন্সি গ্রামে আসতে বলেছিলে তাইনা আম্মা,সত্যিই আমি আশা করিনি তুমি আমার ছেলের এতবড় ক্ষতি করার কথা ভাববে,তুমি এটা মাথায় নিয়াসলে কি করে আম্মা,আমিতো ভাবতেই পারছিনা,ছিছিছি।
–আচ্ছা এইখানে খারাপের কি আছে ভাই কনতো,আমার মাইয়া কি খারাপ,দেখতে শুনতে তো খারাপ না।জানেন আমার মাইয়ার লাইগা কতো বড়বড় ঘর থাইকা বিয়ার প্রস্তাব আইছে,কিন্তু আমি না কইরা দিছি।আমার মাইয়া সব কাজকাম জানে,আমার মাইয়ারে বিয়া করলি আপনার পোলার খারাপ কি হইবো কনতো দেখি,ভালোইতো হইবো।আমার মাইয়া ঘরের সব কাম কইরা দিব,রানবো বাড়বো,লাখে ১পিচই পাইবেন ভাই,আমার মাইয়ার মতোন মাইয়া সহজে পাইবেননা,আমি সেইভাবেই ওরে মানুষ করচি।
–থামো তুমি মালেকা,বেস অনেক হইছে।আমি বারবার না করচিলাম,এইসব কইরোনা,কিন্তু আমার একটা কথা তুমি শুনলানা,জিদ ধইরা এইসব তামাশা করলা,এইবার তামাশা শেষ হইলে পারে চুপ করো (ধমকে বললেন শফিক রহমান)
–তোমার বউকে সামলাও শফিক,ফারদার আমার ছেলের দিকে চোখ তুলে তাকালে এ বাড়িতে তোমাদের মেয়াদ ফুরাবে বলে দিলাম,এসব চিন্তাধারা তোমাদের মাথায় আসে কি করে।
আমার ছেলের সঙ্গে কোনদিক দিয়ে যায় তোমাদের?শিক্ষাদিক্ষা,চালচলন,কথাবার্তা,আচার-আচরণ, ভদ্রতা, আদবকায়দা কোনোদিক দিয়েই যায়না,তোমার মেয়ে সবে এসএসসি দিবে,এখনই বিয়ের জন্য লাফালাফি করছো?১৭চলছেনা তোমার মেয়ের?পড়াশোনা করাও মেয়েকে,খরচ তো তোমাদের করতে হয়না,আমরাই তো করি (ইয়াকুব জামান)
★
রাত ১০টা,,,
ইয়ানা প্লেটে খাবার সাজিয়ে ইন্তিহাজে’র রুমের সামনে এসে দরজায় টোকা দেওয়া শুরু করলো,কয়েকবার টেকা দিতেই ভেতর থেকে ইন্তিহাজ বলে উঠলো,
–ইয়ানা,আমি জানি তুই এসেছিস,কিন্তু প্লিজ আমাকে এখন একা থাকতে দে,তুই যা,ভালো লাগছেনা আমার।
–ভাইয়া প্লিজ,দরজাটা একবার খোলো,খুব জরুরি,প্লিজ
ইয়ানা’র বারবার করা অনুরোধ ইন্তিহাজ প্রত্যাখ্যান করতে পারলোনা,সে এসে দরজা খুলে দিতেই ইয়ানা ভেতরে ঢুকে দরজা ভিড়িয়ে দিলো,ইন্তিহাজের দিকে তাকিয়ে দেখে ওর শরীর ঘেমে-নেয়ে একাকার অবস্থা,ঘাড়ে সাদা তোয়ালে ঝুলিয়ে রেখেছে,পরনে থ্রী-কুয়াটার জিন্সপ্যান্ট ও সাদা সেন্টু গেঞ্জি, ঘামের কারণে গেঞ্জি ভিজে শরীরের সঙ্গে লেগে গেছে।
ইয়ানা এতক্ষণ ইন্তিহাজ কে পর্যবেক্ষণ করছিলো,ইয়ানা’র হাতে খাবারের প্লেট দেখে ইন্তিহাজ ভ্রূকুটি করে বললো,
–এগুলো কি ইয়ানা?
–খাবার,দেখতে পাচ্ছোনা?
–হুম দেখছি,কিন্তু তুই এগুলো নিয়ে এখানে কেন এসেছিস?
–তুমি কিছু খাওনি,তাই নিয়াসলাম,দুজনে একসাথে খাব।
–কে বলেছে খাইনি,খেয়েছিতো আমি,এসবের মানে কি?
–কতো খেয়েছো দেখলাম তো,তরকারি যে পরিমাণ ঝাল হয়েছিল বাপরেবাপ,এখনও জিহ্বা জ্বলছে আমার।আমি তো জানি তুমি একদম ঝাল খেতে পারোনা,আমিতো দেখলাম কাটা হাত নিয়ে তুমি ভাত একবার মুখে নিয়ে আর একবারও মুখে নাওনি,খুব ঝাল লেগেছিলো তাইনা??
–তুই খাওয়া বাদ দিয়ে আমায় ফলৌ করছিলি নাকি ইয়ানা?
–দেখো আমিও খেতে পারিনি,তুমিও খাওনি।আমিতো সেরকম কিছু জানিনা,তাই আলু আর ডিম ভেজে আনলাম, এটুকুই পারি আমি,এখন ফ্রেশ হয়ে বসো,একসাথে খাবো।
–তোকে কি আমি একবারও বলেছি এসব করতে?ইয়ানা তু…
–বলতেও না জানি আমি,যা হয়ে গেলো আজকে সবাই রেগে যে যার যার ঘরে বসে আছে,কেউ এইবিষয় নিয়ে পরে নাই,ক্ষুধা লাগলে কেমন লাগে জানি আমি,তাই নিজেই করে নিয়াসলাম।ভাগ্যিস এটুকু শিখেছিলাম নাহলে আজকে পেটে গামছা বেঁধে ঘুমাইতে হতো,পেটের মধ্যে ইঁদুর দৌড়াচ্ছে। আর দেরি করোনা,অনেক এক্সারসাইজ করছো,আশা করি মাথা ঠান্ডা হয়েছে,এখন একটু ফ্রেশ হও,রাতে গোসল দেওয়ার দরকার নেই,ঠান্ডা লেগে যাবে,শুধু হাত—মুখ ধুয়ে আসো কেমন?
–আমাকে আদেশ করছিস তুই,সাহস বেড়ে গেছে দেখছি।
–ধুরর,যত কথা পরে বলো,আগে তাড়াতাড়ি হাতমুখ ধুয়ে আসো,এই ঘর্মাক্ত শরীর নিয়ে খাবার খাবে নাকি।খাবারও ঠান্ডা হয়ে যাবে,অনেক কষ্টে রান্না করছি,টেস্ট করে বলবে কিন্তু কেমন হয়েছে,আলুভাজি টা স্পেশালি তোমার জন্যই করেছি,নয়তো আমি শুধু ডিম দিয়েই খেয়ে নিতাম।
–(হ্যাঁ সারাজীবন মনে হয় আলু ভাজি খেয়েই থাকতে হবে)—বিরবির করতে করতে ফ্রেশ হতে বাইরে গেলো ইন্তিহাজ।
কিছুক্ষণ পর রুমে এসে দেখে ইয়ানা বিছানায় বসে ভাজি আর ভাত আলাদা করে কাঠের চেয়ারের ওপরে রাখছে,ইন্তিহাজ কে দেখে মুচকি হাসি দিলো ইয়ানা,ইন্তিহাজ চোখ বুজে বললো,
–উল্টোদিকে ঘুরে বোস,একদম এদিকে তাকাবিনা,আমি গেঞ্জি চেঞ্জ করবো
–তো,করো,না করছে কে,আমার সামনে খুললে প্রবলেম টা কি শুনি,তুমিকি মেয়ে নাকি যে লজ্জা পাচ্ছো হুম
–তোর ভালোর জন্যই বলছি,আমার লজ্জা করবে কেন,বউয়ের সামনে আবার কিসের লজ্জা,কিন্তু বউটারতো মনের মধ্যে অন্য ফিলিংস আসতে পারে,তাই সাবধান করছি
–কি বললে তুমি,আবার বউ বললে মনে হলো?বাদ দাও,আর কিসের ফিলিংস জাগবে হ্যাঁ,মনে হয় ভারুন ধাওয়ালের মতো বডি বানাইছো যে আমি লুচু মেয়ের মতো তাকিয়ে থাকবো,ঢং
–শিমলা’র সঙ্গে থেকে থেকে তোর মাথাটাও গেছে দেখছি,বউ নয় বোন বলছি।আর বডি?তোর ভারুন ধাওয়ালের মতো না হলেও কাছাকাছি আছে,যতটুকুই থাকুক,লুই’চ্চামি করবি শিওর,অন্যদিকে ঘুরে বোস যা
–ঘুরবোনা,চেঞ্জ করলে আমার সামনেই করো নয়তো ওভাবেই থাকো,আমাকে লুই’চ্চা মেয়ে বলা তাইনা,বেক্কল একটা
–ওকে ফাইন,আমার দিকে লুচু মেয়ের মতো তাকালে কিন্তু খবর আছে বলে দিলাম,অনেকদিন পানিশমেন্ট দেওয়া হয়না,ভাবছি এই সুযোগে একটা ছোটখাটো পানিশমেন্ট হয়ে যাক,কি বলিস?
কথাগুলো বলতে বলতেই ইন্তিহাজ গেঞ্জি খুলে ফেললো,অন্য একটা গেঞ্জি পরার জন্য হাতে নিয়েও কিছু একটা ভেবে বাকা হাসি দিয়ে সেটা রেখে দিলো,
–খুব গরম লাগছে বুঝলি,থাক আজ আর গেঞ্জি পরবোনা।
ইন্তিহাজ আড়চোখে ইয়ানা’র দিকে তাকিয়ে দেখে ইয়ানা অন্যদিকে মাথা ঘুরিয়ে নিয়েছে,ফেইস দেখেই বুঝা যাচ্ছে দারুণ লজ্জা পেয়েছে সে।ইয়ানা’র লজ্জা বাড়ানোর জন্য ইন্তিহাজ ইয়ানা’র সামনে গিয়ে বসে বললো,
–নে নে,তাড়াতাড়ি খাইয়ে দে,ক্ষুধা লাগছেতো প্রচুর
–তুমি চেঞ্জ করেছোতো?
–করলাম তো,এবার খাইয়ে দেতো,তাড়াতাড়ি করো বউ
ইয়ানা সামনে ঘুরে চোখ খুলতেই আবার লাফিয়ে উঠে চোখ বন্ধ করে নিলো,
–একি,কিছু পরোনি কেন,যাও তাড়াতাড়ি টিশার্ট পরে নাও।লজ্জা করেনা একটা মেয়ের সামনে এভাবে উদাম বুকে বসে আছো,ছিছিছি ভাইয়া,লজ্জা লাগা উচিত তোমার।
–আমার আবার লজ্জা কিসের,গরম লাগছে তাই আর পরলাম না।তুই খাইয়ে দে,তুইতো ভালো মেয়ে তাইনা
–ভাইয়া,আমি ফুলস্পিডে ফ্যান চালিয়ে দিব,প্রয়োজনে হাতপাখা দিয়ে বাতাশ করবো,কিন্তু প্লিজ এভাবে থেকোনা,কিছু একটা পরে নাও (অসহায় কণ্ঠে বললো ইয়ানা)
–ইয়ানা,তার ঘারের কাছে টিকটিকি
ইন্তিহাজ কথা শেষ করতে দেরি,ইয়ানা চেচিয়ে ইন্তিহাজ কে জড়িয়ে ধরতে দেরি হয়নি,আচমকা এমন ঘটনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলোনা ইন্তিহাজ,ফলাফল ইন্তিহাজ বিছানায় পরে গেলো,ইন্তিহাজের বুকের ওপর ইয়ানা,
–কোথায়,কোথায় টিকটিকি,গেছে?
ভাইয়া আমার টিকটিকি ঘৃণা লাগে,টিকটিকি সাপের জাত,আমায় কামড়ে দিবে,ভাইয়া ওইটা তাড়িয়ে দাও
–পাগলি,আমিতো মজা করছিলাম,সামান্য টিকটিকির কথা শুনে ভয় পাচ্ছিস (হাসতে হাসতে বললো ইন্তিহাজ)
–ঠান্ডা লাগে কেন,আমার নিচে কি,ওমাগো ভাইয়া সাআআপ,সাপের শরীর নাকি ঠান্ডা হয়,এই ঘরে বড় সাপ আছে,আমি সাপের গায়ের ওপর পরেছি,সেদিন নাহিদের গল্পের বইয়ে এরকম সাপের কথা পড়ছিলাম আমি।
–চোখ খুলে দেখ
–না আমি চোখ খুলবোনা,সাপ আমাকে গিলে খেয়ে নিবে
–চোখ খুলতে বলছি,চোখ খোল (ধমক দিয়ে)
ইন্তিহাজের ধমকে পিটপিট করে চোখ খুলতেই চোখের সামনে ইন্তিহাজের মুখটা ভেষে উঠলো,খেয়াল করে দেখে ও ইন্তিহাজের বুকের ওপর রয়েছে,লজ্জা পেয়ে তাড়াতাড়ি করে উঠে বসে নিজের ওড়না ঠিক করে নিলো ইয়ানা,ইন্তিহাজ মুচকি হেসে উঠে বসে বললো,
–উফস,গায়ের ওপর থেকে ১মণ ধানের বস্তা যেন নেমে গেলো,এতো ওয়েট কেন তোর,কম করে খেতে পারিসনা,চ্যাপ্টা হয়ে গেলাম আমি
ইন্তিহাজের কথা শুনে লজ্জায় আড়ষ্ট থাকা ইয়ানা মুহুর্তেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো,
–কি বললে আমি বেশি খাই?তুমি বেশি খাও,আমার ওয়েট কতো জানো,মাত্র ৪৫কেজি,আর তুমিতো শিওর ৯০+ হবে।
–এইতো নিজের ফুল ফর্মে ফিরে এসেছিস,তোকে আমি অনেক ম্যাচুয়ের্ড ভাবতাম,কিন্তু তুইযে এমন ভীতু আর ন্যাকা,আমি সত্যিই জানতাম না।আমার ন্যাকা মেয়ে একদম পছন্দ না
–কি বললে,আমি ন্যাকামি করি? (রেগে বললো ইয়ানা)
–আগে জানতাম না,এখন জানলাম।একটু আগে কি বিহেভিয়ার টাই না করলি বল,ছিহ্,নট এক্সপেক্টেড ইয়ানা
–তোমার দোষ,তুমি মিছিমিছি টিকটিকির কথা কেন বললে?
–আমিতো ফান করে বলছিলাম,তুই এমন রিয়াক্ট করবি জানতামনা,আমিতো জানি তুই অনেক সাহসী,কিন্তু এখনতো..
–আমি মোটেও ভয় পাইনি,একচুয়ালি টিকটিকি জিনিসটা ঘৃণা লাগে আমার,কিন্তু ভয় পাইনা বুঝছো।
–হয়েছে,এবার খাইয়ে দে,খাবার কি শুধু দেখানোর জন্য এনেছিস নাকিখেতেও তো হবে।
খাওয়া শেষে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পরবো,কাল সকাল ব্যাক করবো আমি
–ব্যাক করবে মানে?
–আমি এখানে থাকতে চাইনা,আবার কি কাহিনি করবে জানিনা,দিদান ইমোশনালি ব্লাকমেইল শুরু করলে তখন আব্বুআম্মুও হয়তো দিদানকে সাপোর্ট করবে।আমি এখানে কোনোপ্রকার সিনক্রিয়েট করে সবার ঈদের আনন্দ নষ্ট চাই না,তাই চলে যাওয়াটাই বেস্ট মনে হয়েছে আমার……
To be continue…..
#তোমার_চোখের_অনন্ত_মায়ায়
#গল্পছোঁয়া (Jannatul Ferdous Mahi)
#পর্ব_১০
–আমি এখানে কোনোপ্রকার সিনক্রিয়েট করে সবার ঈদের আনন্দটা নষ্ট চাই না,তাই চলে যাওয়াটাই বেস্ট মনে হয়েছে আমার কাছে।
–প্লিজ এমন বলোনা,তুমি চলে গেলে ঈদের আনন্দ টাই নষ্ট হয়ে যাবে ভাইয়া,তুমি এমন কেন বলোতো,অন্যভাবেও তো দাদিমা কে ম্যানেজ করা যায় তাইনা।
–খাবার শেষ কর,তারপর কথা বলছি।খাওয়ার সময় কথা বলতে নেই,গলায় খাবার আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে
★
পরদিন সকালে…
ব্যাগ গোছাচ্ছে ইন্তিহাজ,ঠিক এই মূহুর্তেই হন্তদন্ত হয়ে ঘরে প্রবেশ করলো শিমলা,ইন্তিহাজে’র উদ্দেশ্যে বললো,
–আপনি চইলে যাচ্ছেন?
–হুম,আমার পক্ষে এখানে থাকা পসিবল না।
–একটা কথা কবেন প্লিজ?
–কি
–আমি কি দেখতে অসুন্দর,আমি কি খারাপ?
–না শিমু,তুই অনেক সুন্দর দেখতে,অনেক ভালো হাজবেন্ড পাবি তুই।
–তাইলে আপনে আমারে বিয়া করবেননা ক্যান,আমার মধ্যি খারাপ কি আছে,যেইডা আপনের পছন্দ না।
–এমন কিছুই নয় শিমলা,আমি এখন বিয়ে করতে চাইনা।আমার একটা লাইফ আছে,ক্যারিয়ার আছে।
–একটা সত্যি কইরে কথা কবেন
–কি?
–আপনে ইয়ানা রে ভালোবাসেন তাইনা,ওর সাথে আপনের সম্পর্ক আছে?
–কি যা-তা বলছিস শিমলা,মুখ সামলে কথা বল।কে বলেছে তোকে এসব (রেগে বললো ইন্তিহাজ)
–আমি নিজের চোখে দেখছি ইয়ানা আপনের বুকের ওপরে শুয়া আছিলো,আপনিও ওরে জড়ায় ধইরা রাখছিলেন।
খালি গায়ে একটা মেয়েরে পুরুষ মানুষ কখন এইভাবে জড়ায় ধরে কনতো,আমি বুঝি সব
শিমলা’র কথা শুনে ঘাবড়ে গেলেও ইন্তিহাজ,নিজেকে সামলে নিয়ে কিছুটা কড়া স্বরে বললো,
–এসব কি আজেবাজে কথা বলছিস তুই,আমার সামনে দাড়িয়ে এভাবে কথা বলার সাহস হয় কি করে তোর।
–আমি কালকে রাইতে আপনের সাথে কথা কওয়ার জন্যি আইছিলাম,দরজা একটু খুলতেই দেখি আপনাদের ওই অবস্থায়…ভালোই কিন্তু দরজাডা লাগায়ে দিতে পারতেন।আমার জায়গায় অন্যকেউ হলি পারে মানসম্মান থাইকতো কনতো?আমি যেনেগা চুপ আছি,কিন্তু আমার মা দেখলি পারে পুরা গ্রাম কইরা দিতো
–ওহ্ শিট
দেখ শিমলা,এরকম কিছুই না,কালকে ইয়ানা আমার জন্য খাবা….
–আপনের পারসোনাল ব্যাপার ভাইয়া,আমি আপনের কাছে কৈফিয়ত চাইবার আসিনাই,শুধু সাবধান করলাম,আর একটা কথা কইতে আইছি,প্লিজ যায়েন্না।সবাই অনেক কষ্ট পাইবো
–আমি তো কাউকে বলিনি আমি চলে যাচ্ছি,তোকে কে বললো এই কথা?
–ইয়ানা কইছে,ও-ই তো রাইতে আমার সাথে ঘুমায়,সারা রাইত আপসেট ছিলো,এখনও মন খারাপ কইরা বইসা আছে। আপনে যাওয়ার সময় সবাইতো দেখতেই পাইবো,কতো কষ্ট পাইবো কন তো।আমি জানি আপনে কেন চইলে যাইতে চাচ্ছেন,কিন্তু বিশ্বাস করেন এরকম কিছুই হইবোনা,আমিও দাদিমারে কমু যা কওয়া লাগে।আমার মা লাফাইলেই তো হইবোনা।আমার মায়ের হয়া আমি আপনের কাছে মাফ চাচ্ছি।
–ঠিক আছে,তুই যা
–আগে কন,কি ভাবলেন,চইলা যাইবেন?
–ভেবে দেখবো
★
সকাল ৯টা…
হাটাহাটি শেষে বাসার কাছে আসতেই বাইরে থেকে চেঁচামেচি শুনতে পেলো ইন্তিহাজ,এতো চিৎকার চেচামেচি শুনে সন্দিহান ভাবে দ্রুত বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে দেখে অনেকগুলো মেয়ে আর ছোটছোট কিছু বাচ্চাও রয়েছে,ওরাই মূলত চেঁচামেচি করছে।ইন্তিহাজ বাড়িতে ঢুকতেই মেয়েগুলো ওর দিকে কেমন করে তাকালো।
কোথা থেকে ইয়ানা দৌড়ে এসে ইন্তিহাজ কে বললো,
–ভাইয়া,তাড়াতাড়ি চলো এখানে থেকে,হাওয়া গরম আছে।
–কি হচ্ছে টা কি এখানে,কারা এরা?
ইয়ানা ইন্তিহাজ এর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগেই ৩-৪জন মেয়ে এগিয়ে এসে বলতে শুরু করলো,
–ক্যারে শিমলা,এইডা তোর ওই ডাক্তার বর নাকি রে?
–ওমা,ছবির হিরোদের লাকান দেখতেছি।
–তোরতো কপাল খুইলা গেলো রে শিমলা,এই পোলারে পাওন তো ভাগ্যের ব্যাপার,তোর কপাল আছে কওয়া যায়।
–ওরে আল্লাহ,আমার রনির বাপ তো এর কাছাকাছিও পরেনা,কি সুন্দর দেখতে রে তোর বর ডা।
–বাপ যে কিসের লাইগা ওই কাইলার সাতে আমার বিয়া করায় দিলো,ছাওয়ালডাও বাপের মতোই কাইলা হইছে।এইরকম একটা বর পাইলে আমার ছাওয়ালডাও ধলা হইতো।
–তোরডা তো তাও একটু পইস্কার আছে,আমারডা তো আরও কাইলা আর ভটকা,জীবনডা ত্যানাত্যানা হইয়া গেলো গো। সারাদিন খাটায়া মারে,ঝি হইছি ওগো বাড়ির ঝি।
–আমারডা তো আরও শয়°তানের জাত বংশ,সবসুমায় পিরিত করবার লাইগা গুঁতাইতেই থাকে।সারাদিন খাইটাখুইটা ঘুমামু কি করমু,সেই জো আছে কি।এইরকম একটা শিক্ষিত পোলা পাইলে জীবন ধন্যি হয়া যাইতো।
–তো বলি,ও দুলাভাই,আপনেতো ডাক্তার মানুষ,আমাগো গেরামে কিন্তু ভালো ডাক্তার নাই,শহরে গ্যালে পারে অনেক খরচ লাগবো,আমারে বর এতো ট্যাকা কোই পাইবো কন,ফিরিতে চিকিৎসা দিয়েন আমারে,হাজার হইলেও আমরা আপনের হবু বউয়ের কলিজার বান্ধবী হই।
–আমাগো কথায় কিছু মনে কইরেননা দুলাভাই,ছোট থাকতে বিয়া দিয়া দিছে তো,তাই আর পড়তে পারিনাই,এত সুদ্ধ ভাষা কইতেও পারিনা,শুনলাম আপনে নাকি আবার অশিক্ষিত দের পছন্দ টছন্দ করেননা
–আরে করবো করবো,আমরা কি দূরের কেউ হই নাকি।
বলি ও দুলাভাই,আমার মাইয়াডারে একটু দেখবেন,ঠিকমতই তো খাওয়াই,তাও এরকম শুকায় যাইতাছে ক্যান
–আমারডার তো পায়*খানার সমস্যা,সেই কবে কষা হইচে ভালোটালোও হয়না কিছুল্যা
এদের একেকজনের কথাবার্তা শুনে ইন্তিহাজের মাথা ভোঁভোঁ করছে,ইয়ানা কিছুটা চেচিয়ে সবাইকে সাইড করে ইন্তিহাজ কে নিয়ে বারান্দায় উঠে দাঁড়ালো।ইন্তিহাজ,ইয়ানা’র বাবা-মা সহ বহ্নি,তৃষা সবাই দাঁড়িয়ে আছে,সবার চোখেমুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট।শিমলা চুপচাপ খুঁটি ধরে দাঁড়িয়ে আছে,শিমলা’র মা মালেকা বেগমের ঠোঁটের কোণে লেগে আছে শয়তানি মিটমিটি হাসি।ইন্তিহাজ চুপ থাকতে পারলো না,শিমলা’কে ধমক দিয়ে বললো,
–এসবের মানে কি শিমলা,এই কারণে তুই আমাকে থেকে যেতে বলেছিলি তাইনা
–না,আমি সত্যিই জানতামনা ওরা এমনে চইলা আইবো,জানলে পারে আপনেরে এইরকম পরিস্থিতিতে ফ্যালাইতাম নাকি কন
–ওরা এতক্ষণ হলো আমাকে হ্যারাস করে যাচ্ছে আর তুই চুপ করে তামাশা দেখছিস তাইনা,এসব তোর সাজানো প্ল্যান রাইট?
–শিমলা,তুই না ওইদিন আমাকে বললি আজ তোর ফ্রেন্ডস রা আসবে,তো নিষেধ করতে পারিসনি?এসেছে ভালো কথা,কিন্তু এগুলো কি ধরনের বিহেভিয়ার,ছিহ্ (ইয়ানা)
–জাস্ট রিডিকিউলাস,এসব আনকালচার্ড লোকজন কোথা থেকে আসে আল্লাহ মাবুদ,জীবনে মনে হয় ছেলে দেখেনি,জীবনে আর কতো কি যে দেখতে হবে,এখানে আসাটাই ভুল হয়েছে আমাদের,একটার পর একটা ঝামেলা লেগেই আছে (রেগে বললো বহ্নি)
–আম্মু,আমি এই মূহুর্তে শহরে ফিরে যাব,তোমরা আসতে চাইলে আসতে পারো নয়তো থেকে যাও,আমি চললাম
–সে কিরে,কি বলিস বাবা,বাড়িতে কেউ নেই,এই অবস্থায় বাড়ি গিয়ে কি করবি,ঈদের ছুটি চলছে,তোর হোস্টেলও তো বন্ধ (আমেনা খাতুন)
–সমস্যা নেই কাকিমা,আমিও ভাইয়ার সাথে চলে যাব,কিন্তু এখানে আর একমূহুর্তও নয়,এখানে থাকলে আমি সত্যি সত্যিই পাগল হয়ে যাব।নাহিদ কি শিখবে বলোতো,এদের একেকজনের আচার-আচরণ জাস্ট অসহ্যকর (বহ্নি)
–১০মিনিট টাইম দিলাম,সব গুছিয়ে নে,আমি বেরোচ্ছি
ইন্তিহাজ নিজের রুমে যাওয়ার আগে ইয়ানা’র দিকে রাগি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে চলে গেলো,ইন্তিহাজের ইঙ্গিত কিছুটা বুঝতে পেরে ইয়ানা বললো,
–আমিও যাব,আমিও থাকবো না,ভাইয়া একাএকা থাকবে,বহ্নি আপুও তো বোর হবে,আমিও যাই
–তুই গিয়ে ঝামেলা করার কি দরকার,ছেলেটা এমনিতেই রেগে আছে,তুই গিয়ে অশান্তি করে ওকে আরও রাগাস না মা,তোর যাওয়ার দরকার নেই (আমেনা বেগম)
–কি বললে আমি অশান্তি করি,এভাবে বলতে পারলে আম্মু?
–আহ্ আমেনা,মেয়েটা যেতে চাইছে যেতে দে,এখানে মন না বসলে থাকার দরকার নেই।ওরা তিনজন ফিরে যাক,আমরা ঈদের পরদিন যাব (খাদিজাতুলনেসা)
★
ইন্তিহাজ লাগেজ নিয়ে বের হয়ে দেখে বহ্নি দাঁড়িয়ে আছে নিজের লাগেজ নিয়ে,ইন্তিহাজ একবার এদিক-ওদিক তাকালো,এরপর হনহন করে বেড়িয়ে গেলো লাগেজ নিয়ে,শিমলা’র বান্ধবী রা নানান কথা বলছে,ইন্তিহাজ সে-সব কথার তোয়াক্কা না করে অটোতে গিয়ে বসলো,অটো করে বাজারে গিয়ে তারপর গ্যারেজ থেকে মাইক্রো গাড়িটা নিয়ে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে।বহ্নি গিয়ে ইন্তিহাজের পাশে বসলো,ইন্তিহাজের চোখদুটো কাউকে খুজে চলেছে,কিন্তু কাঙ্ক্ষিত মানুষটি লাপাত্তা।ইন্তিহাজ কে এমন করতে দেখে বহ্নি বললো,
–ভাইয়া,কাউকে খুঁজছো?
–না
মামা চলুন
অটোওয়ালা অটো স্টার্ট দিতেই ইয়ানা’র সাউন্ড পাওয়া গেলো,ইন্তিহাজ উঁকি দিয়ে তাকিয়ে দেখে ইয়ানা লাগেজ হাতে দৌড়ে আসছে আর চিৎকার করে অটো থামাতে বলছে।
ইয়ানা দৌড়ে এসে অটোতে বসে হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,
–আমাকে রেখে চলে যাচ্ছিলে কেন,আমার আর একটু হলেই দেখছি চলে যেতে
–তুই যাবি বলিসনিতো (বহ্নি)
ইয়ানা কিছু না বলে ইন্তিহাজের দিকে একবার তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলো,ইন্তিহাজ বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে,রাগটা কমছেইনা যেন,শহরে ফিরে একবার জিমে না গেলেই নয়,নিজেকে কষ্ট দিলে নিজেকে আঘাত করতে গেলে রাগটা অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে আসে বলে বিশ্বাস করে ইন্তিহাজ,কারণ ওর ক্ষেত্রে এই কাজটাই প্রযোজ্য।
★
বাড়ি আসতে আসতে দুপুর গড়িয়ে বিকেলের সূচনার সময়,বাহির থেকেই খাওয়াদাওয়া করে এসেছে তিনজন,বাড়িতে ঢুকেই নিজের রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলো ইন্তিহাজ,বহ্নি এগোতে গেলে ইয়ানা থামিয়ে দিলো,
–আপু,এখন তোমার ভাইয়ের কাছে যাওয়া মানে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মা*রা বুঝছো।গ্রামে ছিলাম বলে ভাইয়া আমাদের সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলেছে কিন্তু এখনতো উনি নিজের এলাকায় চলে এসেছেন,ফুলফর্মে আমাদের কপালে শনি নাচাবে।বি কেয়ারফুল
–একদম ঠিক বলেছিস,জেসে থাপ্পড় কে খেতে চায়,ওরে বাবা,কিছুদিন আগে যে জোরে থাপ্পড় দিয়েছিলো না,সাতদিন গাল থেকে ব্যথা যায়নি
–(তোমায়তো শুধু থাপ্পড় দেয়,আর আমার সঙ্গে যেগুলো করে সেসব তোমার সঙ্গে করলে সুইসাইড করতে যেতে।বাবাগো বাবা,মানুষতো নয় যেন আস্ত একটা হৃদয়হীন রোবট,এতো কঠিন কঠিন শাস্তি দিতেও ওনার বুক কাঁপে না)—বিরবির করে বললো ইয়ানা।
–ইয়ানা,জার্নি করে এসেছিস,রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে একটু ঘুমা।ঈদ তো মাটি হয়ে গেলো,সমস্যা নেই,পুরোপুরি আনন্দ মাটি হতে দিবোনা।কালকে ঈদের দিন আমরা অনেক ঘুরবো,মজা করবো ওকে?তারজন্য তো শরীর ঠিক রাখতে হবে,যা ঘুমিয়ে নে,ফ্রেস ফিল হবে
–সত্যিই ঘুরতে বের হবে? (খুশি হয়ে বললো ইয়ানা)
–অফকোর্স,আব্বুআম্মু রা কেউ নেউ,বাঁধা দেওয়ারও কেউ নেই।আছে শুধু আমার হিটলার ভাই,নো প্রবলেম,ম্যানেজ করে নিবো।এখন যা
বহ্নি’র কথায় খুশি হয়ে ইয়ানা দ্রুত নিজের রুমে চলে গেলো,চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে রিল্যাক্সে বিছানায় উপুর হয়ে শুয়ে ফোন হাতে নিলো,ডেটা অন করে ফেসবুক লগইন করলো ইয়ানা,বান্ধবী দেরকে বলতে হবে তো ও ফিরে এসেছে,ওদের সঙ্গেই ঘুরবে,আড্ডা দিবে।
কিন্তু হায়্,ইয়ানা’র খুশি মূহুর্তেই গায়েব হয়ে গেলো নোটিফিকেশন ফুল দেখে।ক্লিক করে দেখে ওর আইডিতে স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে ★Engaged★
কিন্তু রিলেশনশিপ ইঙ্গেজ্ড হলো।কি করে,ওর আইডি পাসওয়ার্ড তো অন্যকেউ জানেনা,তাহলে অটো Engaged হয়ে গেলো নাকি,বাট হাউ ইজ পসিবল।পাবলিকের কংগ্রাচুলেশনস ওয়ালা কমেন্ট,এতো এতো রিয়াক্ট ও ইনবক্স ম্যাসেজের ঠ্যালায় ইয়ানা’র ফোন হ্যাঙ করা শুরু করে দিয়েছে,ফোনটা সাইলেন্ট করে ভাবতে শুরু করলো ইয়ানা,
–আমার ফোন টা লাস্ট নিয়েছিলো ইন্তিহাজ ভাইয়া,এরপর নাহিদ একটু গেম খেলেছে।ওইদিন রাগ করে আমি তো আর নেটে যাইনি,কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনছিলাম।তারপর তো ফোনে এমবি না থাকায় নেটেই যাওয়া হয়নি আমার,তাহলে বায় এনি চান্স এই কাজটা কি ইন্তিহাজ ভাইয়া করেছে,কিন্তু সে কেন করবে,আজবতো।একবার জিজ্ঞেস করবো কি,যদি ঝাড়ি দিয়ে কোনো শাস্তি দেয় আবার,এখনতো ওনার নিজেরই মনমেজাজ ঠিক নেই।
ইয়ানা’র ভাবনার মাঝেই হোয়াটসঅ্যাপে কল আসলো,ইয়ানা ফোন হাতে নিয়ে দেখে আবিরের কল।কল কেটে দিতে গিয়েও কিছু একটা ভেবে কল রিসিভ করলো ইয়ানা,সে কিছু বলার আগেই আবির বলে উঠলো,
–কংগ্রাচুলেশনস ইয়ানা,এইজন্যই সেদিন আমার সঙ্গে ব্রেকআপ করলে তাইনা বলো?তো তোমার উডবি হাজবেন্ড কি করে শুনি
–লিসেন আবির,একদম ফাইজলামি মার্কা কথা বলবেনা,আমার কোনো বিয়েটিয়ে ঠিক হয়নি,কোনো উডবি নেই আমার বুঝেছো
–তাই নাকি,আমি ফাইজলামি করছি তাইনা?তাহলে তোমার ফেসবুক আইডিতে রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসে Engaged কেন দিয়েছো?এমনিএমনি?নাটক করো তাইনা
–এটা এখন ট্রেন্ড চলছে,অনেকেই মজা করে রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসে Married,engaged,divorce,widowed ইত্যাদি দিচ্ছে,এ-র মানে এই নয় যে সত্যি সত্যিই তারা সেটাই,নিজের মন-মানসিকতা ঠিক করো বুঝলে
কথাগুলো বলেই ইয়ানা কল কেটে একটা পোস্ট লিখে আপলোড করলো,এটা জাস্ট ট্রেন্ডের জন্য মজা করে করা স্ট্যাটাস ছিলো।পোস্ট আপলোড করা শেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো ইয়ানা,পোসৃট আপলোড করার কিছুক্ষণ পরেই ডাক পরলো ইন্তিহাজের…..
To be continue……