#দৃষ্টির_অন্তরালে_নিস্তব্ধতা
#লেখনী_মায়মুনা_আক্তার_মারিয়া
#পর্ব:২৪
মাথার উপর পাখা ঘুরছে। শরীর ঠান্ডা কিন্তু মাথা গরম হয়ে আছে।বারবার পড়া নিয়ে কথা শুনতে সে তিক্ত হয়ে গেছে। পড়াশোনায় খারাপ বলে তাকে সবাই কথা শুনায়।সে ইচ্ছে করে রেজাল্ট খারাপ করে না তার পড়ায় মন বসে না তাই পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হয়।পড়ার টেবিলে বই খুলে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে উৎসকে বকতে লাগলো।মুখে যা আসছে তাই বলে যাচ্ছে।কতোগুলো পড়া দিয়েছে এগুলো পড়া কি সম্ভব?মেহেক দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
-“স্কলারশিপ পেয়ে উদ্ধার করে দিয়েছে।উনার জন্য গুষ্টি শুদ্ধো সবাইকে ভালো রেজাল্ট করতে হবে!”
-“তুই ওতো উৎসকে রাগিয়ে দিস।ওর কথা তো শুনতে পারিস।ও যা করতে বলবে তাই করবি।”
-“বড়ো আম্মু”
মালিহা চৌধুরী স্নেহ ভরা স্বরে বললেন,
-“এতো অবুঝ দার হলে চলবে?তোর ভালোর জন্যই তো উৎস বকাঝকা করে।”
মেহেক আহ্লাদী স্বরে বলল,
-“কিন্তু আমাকে বেশি বকে,শাসনও করে।”
-“আর তুই ওর কথা শুনিস?”
-“…..”
-“তোকে যেতে বলেছিলো গিয়েছিলি ওর ঘরে?”
-“আমার উপর তো রেগে আছে।”
-“রাগ করার কারণ তো তুই নিজে।সরি বল দেখবি কিছু বলবে না।জানিস তো ওর রাগ বেশি।তোকে নিয়ে ওর চিন্তা হয় বেশি একটুও তোর কথা ভাবিস কোনটা ভালো হবে তোর জন্য।”
-“এখন কী করবো বড়ো আম্মু?”
-“পড়তে যা ওর কাছে।সরি বলবি।”
-“যাবো?”
-“হুম যা।”
ইয়াফাদের বাসায় আজ মেহমান এসেছে। তার বাবার দুর সম্পর্কের এক বোন হবে।এসে থেকে ইয়াফার দিকে বাজ পাখির মতো নজর রাখছে।কখন কি করছে,কতখন ফোন ঘাটছে এমনকি বাড়ির কাজ কর্ম নিয়েও।এসব কিছুই যে ইয়াফার চোখ এড়ায়নি এমনটা না।সে মহিলাকে তার উপর নজর রাখতে দেখে তার মাকে বলে।
-“তোর ফুপু হয় ইয়াফা।উনার সম্পর্কে বাজে কথা বলছিস তোর বাবা জানলে রেগে যাবে।”
-“তুমি একটু লক্ষ্য করো তাহলেই বুঝতে পারবে।”
-“সময় কাটছে না তাই সবার দিকে তাকাচ্ছে।এসব বাদ দে তো মাথা থেকে।”
তার মা তার কথা উড়িয়ে দিলো।কিন্তু ওই মহিলার চলন বলে দিচ্ছে উনি কোনো উদ্দেশ্যে এসেছেন।ইয়াফা কিছু আন্দাজ করতেই তার ঘরে দরজা লাগিয়ে নিজেকে আবদ্ধ রাখে।সন্ধ্যার পর আর বের হয়নি।পরাশোনায় মেহেকের থেকে ভালো।কেউ তাকে ডাকতে আসলে সামনে পরীক্ষার অজুহাত দিয়ে আর বের হয় না।আগে এই ফুপু যাবে তারপর সে বের হবে।মনে মনে দোয়া করছে যায় না কেনো এই মহিলা।হঠাৎ ইয়াফার ফোন বেজে উঠে।ফোনে ভাসমান নাম্বার দেখে তার মুখে হাসি ফুটে।এই নাম্বার তার মুখস্থ।ফোন করা ব্যক্তিটি তার পছন্দের কিন্তু বুঝতে দেয় না।ইয়াফা কল রিসিভ করে গলা ভারী করে বলল,
-“কি জন্য ফোন করেছেন?”
-“কল ধরেই এমন রিয়েক্ট! এটা আশা করিনি।”
মজা করে ইয়াফা বলেছে কিন্তু এতে যে ফারাজ তার প্রতি খারাপ ভাবনা প্রষন করলো।অনুতপ্ত হয়ে বলল,
-“সরি আমি মজা করে বলেছি।”
-“আমার কথায় সরি বললে!শুনি নাই আরেকবার বলো তো।”
-“সরি।”
-“আমাকে খুশি করতে সরি বললে জান’টা একটু তৃপ্তি পেলো।”
-“আপনাকে খুশি করতে বলি নাই।”
-“সে যতোই কথা ঘুরাও আমার জন্য তোমার মন কাঁদে স্বীকার করো।”
-“এসব আজগুবি কথা বাদ দেন।কি করেন?”
-“জীপে শুয়ে আছি।তুমি কি করছো?”
-“বাসায় এক ডাইনী মহিলা এসেছে তার জন্য ঘর বন্ধী করে রেখেছি।”
-“কে এসেছে?”
-“দূর সম্পর্কের ফুপু।”
-“তাতে তোমার কী?”
-“এসেছে পর থেকেই আমার দিকে নজর রাখছে। কী কী করছি সব দেখছেন।এমন ভাবে তাকাচ্ছে যেনো চোখ দিয়ে গিলে খাবে!”
-“ওই মহিলার মধ্যে ঘাবলা আছে আমার মনে হয় থার্ড লিঙ্গের।তুমি দূর সম্পর্কে ফুপু থেকে দূরে থেকো।”
ফারাজের কথায় ইয়াফা আকাশ থেকে পড়ার মতো অবস্থা হলো।
-“ঠিক করে কথা বলুন।ফুপু আমার।”
-“দূর সম্পর্কে ফেনাকে ফুপু বলছো!”
-“দূর সম্পর্কের হোক আর কাছের হোক একি হলো আর আপনি ফেনা বলছেন কেনো?গুরুজন হয় সম্মান দিয়ে কথা বলুন।”
-“তো আমার ইঁদুর রানি কিভাবে সম্মান দেওয়া যায় বলো।এসেও সম্মান জানাতে পারি।আসবো?”
ইয়াফা মুখ কাচুমাচু করে বলল,
-“এই না না।আসতে হবে না।”
-“ওকে ইঁদুর রানি।”
-“আমি ইদুর রানি হলে আপনি ইদুরদের রাজা।”
-“হতে আমার আপত্তি নাই।তারপর বিয়ে করে ইদুরের বংশ বিস্তার করবো।”
ফারাজের কথা শেষ হতেই কল কাটর শব্দ হয়।ফারাজ হো হো করে হেঁসে দেয়।
——–
দরজায় টোকার আওয়াজ ভেসে এলো।উৎসর গম্ভীর মুখ আরো গম্ভীর হলো।দৃষ্টি ল্যাপটপেই।কোনো কথা বের করলো না।পুনরায় টোকার আওয়াজ হলো।কপালে উৎসর ভাঁজ পরে।গলার স্বর ভারী করে বলল,
-“দরজায় টোকা দিয়ে আমার কাছে ভালো সাজতে হবে না।খোলাই আছে।”
মেহেক চুপসানো মুখ নিয়ে ঘরে ধুঁকে।উৎস ওর দিকে না তাকিয়েই বলল,
-“ডিভানে।”
মেহেক বাধ্য মেয়ের মতো ডিভানে গিয়ে বসলো।উৎস তার উপর প্রচন্ড রেগে আছে।চোখ তুলে একটা বার তাকে দেখছেও না।অভিমান চেপে রেখেই বলল,
-“সরি উৎস ভাই।”
উৎস টাইপিং এ ব্যস্ত।ব্যস্ত হাতেই সে ধমকের স্বরে বলল,
-“এখানে নাটক করতে কেউ আসলে চলে যেতে পারে।কারো নাটক দেখার মতো সময় আমার নাই।পড়তে হলে পড়ুক নয়তো দরজা খোলা আছে চলে যেতে পারে।”
খোলা দরজার দিকে মেহেক তাকায়।রাগ দেখিয়ে তাকে চলে যেতে বলছে!ভালোবেসে তাকে বুঝিয়ে বললেই তো সে শুনতো।সব সময় রেগে রেগে কথা বলে।তার মন উৎসর মতো কঠর নাকি পথর দিয়ে ঘড়া।এই অবুজ,অশান্ত মন কে বকাঝকা কেনো করে এতো?
-“এখন থেকে আমি পড়বো।আপনি যখন যা,করতে বলবেন করবো।কিন্তু এভাবে কথা বলবেন না প্লিজ।আমার কষ্ট হয়।”
-“আমি এমনি তাই আমার মুখ দিয়ে এমন কথাই বের হয়।”
-“ভালোবেসে তো বুঝাতে পারেন।”
-“ভালোবাসার কি বুজিস?”
এবার প্রশ্ন উৎস মেহেকের দিকে তাকিয়ে করলো।
-“আপনার অবহেলা আমি সয্য করতে পারি না।”
উৎস পুনরায় ল্যাপটবে মন দিলো।উৎস স্বাভাবিক ভাবে কথা বলছে না।ওর রাগ ভাঙাতে হবে।এতোক্ষণ সে সাধারণ ভাবেই কথা বলছিলো যদি এতে উৎস ওকে সুযোগ দেয়।কিন্তু উৎসর রাগ ভাঙাতে হলে অন্য রাস্তায় যেতে হবে।তাই তার চঞ্চল বুদ্ধিতে সে উঠে গিয়ে চট জলদি করে দরজা লাগায়।মেহেককে দরজা লাগাতে দেখে উৎস ভ্রু নাচায়।মেহেক তোয়াক্কা না করে।উৎসর কোলে গিয়ে বসে পড়ে।এক হাতে গলা জড়িয়ে ধরে ও অন্য হাতে ল্যাপটপ বন্ধ করে।উৎস বিরক্ত হয়ে বলল,
-“এসব কী?”
মেহেক মুখ বাঁকিয়ে উৎসর দুই গাল ধরে গাইতে লাগলো,
“ফোলা ফোলা ফর্সা গালে
জমেছে জল বর্ষা কালে
ফোটা ফোটা মুক্ত দানা
না না সোনা আর কাঁদে না
থাকো যদি গোমড়া মুখে
কাতুকুতু দেবো তোমাকে”
মেহেক থামলেই উৎস ওর গাল চেপে ধরে।মেহেক উৎসর কোলে বসেই ছটফট করতে থাকে।মুখ দিয়ে শব্দ করতে থাকে।উৎস চাহনী শীতল হয়।কিছুক্ষন আগের রাগান্বিত ভাব পরিবর্তন হয়ে ঠোঁটের কোণায় দুষ্ট হাসি ফুটে উঠে।নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে বলল,
-“আমাকে কাতুকুতু দিতে হবে না অন্য কিছু দিলেই হবে।”
চলবে।
#দৃষ্টির_অন্তরালে_নিস্তব্ধতা
#লেখনী_মায়মুনা_আক্তার_মারিয়া
#পর্ব:২৫
উৎস মেহেকের গান শুনে স্তব্ধ হয়ে গেছে।মেহেক থামলে ওর গাল চেপে ধরে উৎস।মেহেক উৎসর কোলে বসেই ছটফট করতে থাকে।সাথে মুখ দিয়ে শব্দ করে।উৎসর চাহনি শীতল হয়।পূর্বের রাগান্বিত মুখশ্রী পরিবর্তন হয়ে ঠোঁটের কোণায় ফুটে উঠে দুষ্টু হাসি।নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে মেহেকের গলার কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে,
-“আমাকে কাতুকুতু দিতে হবে না অন্য কিছু দিলেই হবে।”
মেহেকের গা শিউরে উঠে।গভীর নিশ্বাস ছাড়ে।মেহেক উঠে যেতে নেয়।কিন্তু উৎস উঠতে দেয় না।
-“বসেছিস নিজের ইচ্ছায় উঠবি আমার ইচ্ছায়।”
-“এখন আপনার ইচ্ছা কী?”
-“তোর ঠোঁটে শর্মা রেখে খাওয়া।”
মেহেক নুইয়ে পড়লো।উৎস মেহেকের লজ্জা রাঙানো মুখ দেখে বলল,
-“জারুল ফুল যদি লজ্জাবতী গাছের মতো নুইয়ে পড়ে তাহলে জারুল ফুলের যে অবমাননা হবে।”
-“আ আমি উঠবো।”
-“তাহলে বসেছিলি কেনো?”
-“আপনার রাগ ভাঙাতে।”
-“তে রাগ ভাঙ্গানো শেষ?”
মেহেক উপর নিচে মাথা নাড়ায়।উৎস শর্মা হাতে নিয়ে মেহেককে বলল,
-“ঠোঁট ফাঁক কর।”
মেহেক অবুঝ বাচ্চাদের মতো করে বলল,
-“কেনো?”
-“যা বললাম তা কর।”
মেহেক ঠোঁট ফাঁক করতেই ওর মুখে শর্মার এক টুকরো ধুকিয়ে দেয়।মেহেকের মাথায় ধুঁকছে না উৎস কি করতে চাইছে?মেহেককে অবাক করিয়ে উৎস ওর ওষ্ঠে তার ওষ্ঠ মিলালো।
ড্রয়িং রুমে বসেছে এক গভীর আড্ডা।দুই দিন বাদেই দুই জুটির বিয়ে আর এখনো কোনো শপিং করা হয় নাই!চৌধুরী বাড়ির দুই মেয়ের বিয়ে ছোটো খাটো করে অনুষ্ঠান সেরে ফেলতে চেয়েছিলো কিন্তু আত্নীয় স্বজন তো আর কম না তাই বড়ো করেই অনুষ্ঠান করতে হবে।এই দুই দিনের মধ্যেই নিমন্ত্রণ সাড়তে হবে।কার্ড ছাপিয়ে সবার বাসায় গিয়ে তো দাওয়াত দেওয়া সম্ভব না তাই তিন ভাই বসে পড়েছে ফোনে দাওয়াত দিতে।যার যার নাম্বার আছে সবাইকে কল করে দাওয়াত দিচ্ছে। তিন গিন্নি বসেছে কী কী খাবার আইটেম করবে তা নিয়ে।নিশাত,রোদসী,মেহেক,এরিদ ও গোল হয়ে বসে লিস্ট করছে তাদের কার কি লাগবে।নিশাত,রোদসী নীরব দর্শকের মতো মেহেক ও এরিদের কথা শুনছে।তাদের বিয়ে নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই।যেভাবে যা হবে সব বড়োদের কথা মতো কিন্তু মেহেক এরিদ ওদের নিয়ে বসেছে ঠিকই কিন্তু ওরা ওদের নিজেদের লিস্ট করায় ব্যস্ত।ফারাজ শার্টের হাতা ভাঁজ করতে করতে নিচে নামলো।তাকে দেখে মালিহা বললেন,
-“ফারাজ ওদের নিয়ে মার্কেটে যা। কার কী লাগবে সব কিনে আন।”
-“আমার সময় নেই।তোমরা যাও।”
-“আমাদের হাতে কতো কাজ পড়ে আছে দেখছিস তো আমরা কিভাবে যাবো। তুই নিয়ে যা ভাই বোনদের।”
-“উৎসকে বলো।”
-“স্রোতের বিয়েতে আমার উপর চাপিয়ে দিয়েছিলে।এখন আমি পারবো না।”
উৎসর গলা পেয়ে মেহেক চট করে চোখ তুলে তাকায়।তাকাতেই উৎসর চোখাচোখি হয়।মেহেক চোখ সড়িয়ে নেয়।উৎসকে নিয়ে সে যা ভাবে তার উল্টোটা উৎস।সব সময় তাকে ভুল প্রমাণিত করে।গতকাল রাতেই কী রাগ টাই না দেখালো পরে এক নিমিষেই সব ভুলে গেলো।তার উৎস ভাই যতোটা তার উপর রাগ দেখায় তার থেকে দ্বিগুণ তাকে ভালোবাসে।কিন্তু রাত বারোটা পর্যন্ত পড়িয়েও ছেড়েছে!যা বলবে তা করিয়েই ছাড়বে।
নাফিসা বললেন,
-“ফারাজ যাবে না,তুই যাবি না তাহলে কে যাবে? বল।বোনদের নিয়ে যেতে এতো সমস্যা তাহলে বিয়ের পর বউদের কিভাবে নিয়ে যাবি?”
-“যার যার বউ তাদের শপিং করতে নিয়ে যেতে বলো।বিয়ে তো করবে ওরা আমি গিয়ে কী করবো?আমার বিয়েতে আমি আমার বউকে নিয়ে যাবো।”
শাহাদাত চৌধুরী ছেলের কথা শুনে ঘুরে বসলেন।বাকিরা উৎসর কথা নিয়ে মজা করলেন।তখনি সেখানে হাজির হয় সিজান ও সাদিফ।তাদের দেখে মেহেক উঠে গিয়ে ওদের পাশে দাঁড়িয়ে বলল,
-“কারো যেতে হবে না।আমার দুই দুলাভাই চলে এসেছে।”
সিজান, সাদফিকে দেখে উৎস অবাক হয়ে কপাল কুঁচকালো।
সাদিফ বলল,
-“তুই তো রাতে মেসেজ দিয়ে বললি আজ শপিং এ যাবি আমাদের আসতে তাই তো আসলাম।”
সিজান মেহেকের কাঁধের উপর হাত রেখে বলল,
-“এমন ভাব করছিস যেনো কিছুই জানিস না।”
-“আমার মনে হয় কি জানো ভাইয়া উৎস ভইয়ের ভুলে যাওয়া রোগ আছে।এই রোগী কিছুক্ষন আগে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখছিলো।তা কে করবে বিয়ে?”
মেহেকের খোঁচা মারা কথায় উৎস বুঝে ফেললো এটা মেহেকের কাজ।রাতে যখন ওর ফোন লক না করে ওয়াশরুমে গিয়েছিল তখনি এই কাজ করেছে।আবার কাজ শেষে ডিলিট করে দিয়েছে।আর এখন দাঁত বের করে তাকে নিয়ে মজা নিচ্ছে।
-“ভালোই তো হলো।উৎস যাবে বলছে তাহলে আমি গিয়ে কী করবো?যা যা তোরা যা।আমি ভাই পার্টি অফিসে গেলাম।”
ফারাজ উৎসর পিঠ চাপড়িয়ে বেরিয়ে গেলো।আর উৎস চুপ করে ওদের কান্ড হজম করে নেয়।তাকে ফাঁদে ফেলেছে সেও ছেড়ে দেওয়ার পাএ নয়।
সুফিয়া বিনয়ী স্বরে বললেন,
-“সাদিফ,সিজান তোরা বস।বিলকিস আফা বাড়ির জামাইদের জন্য নাস্তা নিয়ে আসেন।”
-“জি, মেজো ভাবি আনতাছি।”
সুফিয়ার কাছ থেকে এমন কথা শুনে সবাই হতভম্ব হয়।সাফওয়ান চৌধুরী কল থেকে মনোযোগ সড়িয়ে স্ত্রী দিকে তাকালেন।সাদিফকে মেনে নেওয়ায় সাদিফও খুশি হয়।সবাইকে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে তিনি আবার বললেন,
-“সবাই হা হয়ে তাকিয়ে কী দেখছো?আর এই তোরা রেডি হতে যা।”
মালিহা বললেন,
-“হুম যা।ছেলেগুলোকে কতোক্ষণ অপেক্ষা করাবি।এই তোরা বস।”
নিশাত,রোদসী উঠে ওদের জায়গা করে দেয়।সিজান, সাদিফ বসে।বিলকিস নাস্তা এনে টেবিলে রাখে।নিশাত,রোদসী,মেহেককে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মালিহা পুনরায় রাগি স্বরে বললেন,
-“কিরে তোরা এখনো যাচ্ছিস না!”
নিশাত শান্ত স্বরে বলল,
-“যাচ্ছি বড়ো আম্মু।”
এরিদ বলে উঠলো,
-“আমি যাবো।”
তিন জুটির মধ্যে হবু দম্পতিরা এক সাথে থাকলেও এরিদ গেলে উৎস ও মেহেকের সাথে থাকবে।ফলে ওরা কিছু মুহুর্ত একা কাটাতে পারবে না।কিন্তু ওদের একটু সময় দেওয়া প্রয়োজন যেই পরিমান একে অপরের সাথে লেগে থাকে।মালিহা এরিদকে বললেন,
-“এরিদ তুমি তো ছোটো।ওরা যাচ্ছে নিশাত আর রোদসী আপুর বিয়ের শপিং করতে।ওই খানে তো অনেক মানুষ থাকবে তোমাকে দেখে রাখতেও ওদের অসুবিধা হতে পারে।তোমার লিস্টটা ওদের কাছে দিয়ে দাও এনে দিবে।”
-“তাহলে মেহেক আপু কেনো যাবে?তাকে রেখে যেতে বলো।”
মেহেক কটমট করে তাকায়।রাগি স্বরে বলে,
-“আমি তোর মতো বাচ্চা না যে আমার হাত ধরে রাস্তায় হাতটে হবে নয়তো হারিয়ে যাবো।”
-“আমি ও একা হাঁটতে পারি।”
-“তাহলে বাসার মধ্যেই বিশ বার ঘুরপাক খা দেখবি আমরা চলে এসেছি।”
নাফিসা ধমক দিয়ে বললেন,
-“আহ!দুইটা কি শুরু করলি?এরিদ মেহেককে দিয়ে ব্যাগ টানাবে।উৎস যাচ্ছে সাথে মেহেক কিছু করলেই বকবে তখন তুই সাথে থাকলে তোকেও বকবে।তুই বকা খেতে চাইলে যা।”
এরিদ ভয়ার্ত মুখে উৎসর দিকে তাকায়।তারপর মায়ের দিকে তাকিয়ে দুই পাশে মাথা নাড়ায়।মেহেকের কাছে গিয়ে ওর লিস্ট ধরিয়ে দিয়ে বল,
-“তুমি গিয়ে সবার ব্যাগ টানো,খাটো আর উৎস ভাইয়ার বকা খাও।আমার এই গুলো এনে দিলেই হবে।”
মেহেককে লিস্ট ধরিয়ে দিয়ে মায়ের থেকে ফোন নিয়ে ঘরে চলে যায় এরিদ।নিশাত, রোদসী ও মেহেক চলে যায় রেডি হতে।কিন্তু মেহেক তার ঘরে যাওয়ার আগে উৎসর পাশ ঘেঁষে মিনমিন করে আফসোসের স্বরে বলল,
-“সবার সামনে ফেঁসে যাওয়া ব্যাপারটা কিন্তু যোস।যাই হোক রোগী তো রোগীই, এই রোগীকে কে যে বিয়ে করবে উপর আলাই জানে।খুব মায়া হচ্ছে।কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে আপনার না হওয়া বউর জন্য।”
উৎস তাকাতেই মেহেক এক দৌড়ে চলে গেলো।
*****
-“আমি আমার বউকে নিয়ে আমার গাড়িতে গেলাম তোরা তোদের মতো করে আয়।”
-“সাদিফ ওর বউকে নিয়ে গেলে আমিও যাবো আমার গাড়িতে আমার হবু বউকে।”
নিশাত,রোদসী একে অপরের দিকে তাকায়।ভাইয়ের সামনে বউ বলায় দুই জনই লজ্জা পায়।তাদের সরম বলে কিছু না থাকতে পারে কিন্তু ওদের তো আছে।
উৎস সাদিফ,সিজানকে বউ বউ বলতে দেখে দাতঁ খিঁচে।তার জন্য ওদের বিয়ের রাস্তা সহজ হয়েছে আর তাকেই কি না খোঁচা মেরে কথা বলছে!উৎস স্বাভাবিক ভাবেই বললো,
-“তো যা।আমাকে কেনো শুনচ্ছিস?”
সাদিফ ছোট করে বলল,
-“আসলে বন্ধু মেহেককে…।”
-“আমি বাইকে যাবো।তোমার গাড়িতে নিয়ে যাও ওকে।”
পরের কথাটা উৎস সিজানকে বললো।মেহেক ঠোঁট কামড়ে ধরে।কোমর এক হাত দিয়ে বলে,
-“আপনার মগজে কি আছে?হ্যা।ওরা একটু পার্সোনাল সময় কাটাতে চাইছে আর আপনি আমাকে ঠেলে দিচ্ছেন!তোমরা যাও তো।আমি উৎস ভাইয়ের সাথেই যাবো।”
নিশাত মেহেককে চোখ রাঙ্গিয়ে বলল,
-“মেহেক একদম চুপ করে থাক।তুই আমাদের সাথে জাবি।ভাইয়াকে বিরক্ত করবি না।”
সাদিফ বাঁধা দিতে বলল,
-“না,বউ।এটা ঠিক হচ্ছে না।মেহেক উৎসর সাথে গেলে সমস্যা কোথায়?”
-“তোদের শালি তোরা নিয়ে যা সাথে করে। না হলে শালি তো রাগ করবে।আমার ঘারে চাপানোর কী আছে?”
সিজান বলল,
-“শালিকে বহুত সাথে করে নিয়ে যেতে পারবো এখন তুই নিয়ে যা তো ভাই।”
রোদসী বিরক্ত হয়ে বলল,
-“কী হচ্ছে এসব?পার্সোনাল কারো যেতে হবে না সবাই একসাথে যাই তাই ভালো।”
মেহেক অভিমানী স্বরে বলল,
-“তোমরাই যাও।আমি যাবো না।আমাকে নিয়েই সবার কত্তো সমস্যা তাই না।”
উৎস চাপা নিশ্বাস ছেড়ে বলল,
-“নাটক কম করে তোমাদের শালিকে উঠতে বলে আমাকে উদ্ধার করতে বলো।”
উৎসর কথা শুনে মেহেকের ঠোঁটে এক চিলতে হাসি ফুটে।
সাদিফ অন্যমনস্ক হয়ে বলল,
-“দিনে দিনে কতো কিছু যে দেখবো।কিন্তু কিছু মানুষ সোজা রাস্তায় না গিয়ে বাঁকা রাস্তায় গিয়েও বলবে আমি এই রাস্তায় হাঁটি না।”
#চলবে

