#দৃষ্টির_অন্তরালে_নিস্তব্ধতা
#লেখনী_মায়মুনা_আক্তার_মারিয়া
#পর্ব :৩
ছাদে রোদসী ফুলের আগাছাগুলো পরিষ্কার করছে তখনি তার ফোন বেজে উঠলো।ফোনের দিকে তাকাতেই দেখলো পরিচিত মানুষের থেকে কল এসেছে কিন্তু সে ধরলো না।কল কেটে গেলে আবার কল দিচ্ছে ফোনের ওপাশের ব্যাক্তিটি।রোদসী বিরক্ত হয়ে অবশেষে কল রিসিভ করলো।
-“সমস্যা কী তোর কল ধরছিস না কেনো?”
-“গাছের আগাছা পরিষ্কার করছিলাম।”
-“অজুহাত দিচ্ছিস”
-“না ব্যাস্ততার কারণ বললাম।”
রোদসী চাপা স্বভাবের।তার মন গলানো খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কিভাবে যে এই মানুষটা ওর মনে দখল করলে কে জানে!নিশাত রোদসী দু’বোন শান্তশিষ্ট হলেও রোদসী কিছুটা আলাদা।কম কথা বলবে আর বললেও সেটা তার মুখে যা আসবে তাই বলবে।কারো কথা পছন্দ না হলে মুখের উপর বলে দিবে।কিন্তু নিশাত তার উল্টোটা এই মেয়ে খুবই ভদ্র কেউ কিছু বললে চুপ করে শুনবে কোনো জবাব দিবে না আর না কোনো প্রতিবাদ করবে।তিন বোন তিন ধাতুর গড়া।
-“তুমি তো একটা আস্ত ফুল। তাহলে ফুল চাষ করে কী হবে?”
-“অল টাইম তোমার মতো রোমান্টিক মুডে থাকি না।”
-“কী হয়েছে তোর?আমাকে বলবি তুই।কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছি আমাকে এড়িয়ে চলছিস।”
-“তাহলে তুমিও এড়িয়ে চলতে পারো সমান সমান।”
-“রোদ।এমন করছো কেনো জান।প্লিজ আমার ধর্য্যের পরীক্ষা নিস না।”
-“…..”
-“উৎস এসেছে”
-“জানো না”
-“হুম জানি”
-“তাহলে প্রশ্ন কেনো?”
-“রাতে আসছি তাহলোই বুঝবি প্রশ্ন কেনো?”
-“পেশেন্ট নেই?”
-“আছে তো”
-“তাহলে আসবা কিভাবে?”
-“পেশেন্ট তো চৌধুরী বাড়িতে”
-“একা আসবে”
-“হুম”
-“সাবধানে এসো”
-“আসতে তো বলিস না এখন আবার ডং করে বলতে হবে না সাবধানে এসো।রাখি রাতে দেখা হবে।”
চৌধুরী বাড়ির তিন ভাইয়ের একমাত্র আদরের ছোট বোন রাহিমা শিকদার।তার শ্বশুর বাড়ি বরিশাল।স্বামী,এক মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তার ছোট্ট পরিবার।ছেলে পেশায় ডাক্তার নাম সিজান।তার সাথেই সবার আড়ালে লুকিয়ে প্রেম করছে চৌধুরী বাড়ির মেজো মেয়ে রোদসী চৌধুরী। কঠর মনের মেয়েটির মন জোড় করে কেড়ে নিয়েছে সিজান।তার পাগলামো অস্থিরতা সব কিছুকে হার মেনেছে রোদসীর জেদ।এক প্রকার বাধ্য হয়েই সে সম্পর্কে জড়িয়েছে।কাজিন রিলেশনশিপ তার পরিবার কী মানবে? এটা নিয়ে সে চায় নি সিজানের সাথে সম্পর্কে জড়াতে।তার যে সিজানকে অপছন্দ এমন না তারও ভালো লাগতো কিন্তু ফুপাতো ভাইকে সে কখনো সেই চোখে দেখেনি।কিন্তু সিজানের চোখে ভালো লেগে যায় তার ছোট মামার শান্ত মেয়েটাকে।সাত মাস ওর পিছন পিছন ঘুরে অবশেষে রাজি করাতে পেরেছে।যদি কোনো ঝামেলা হয় তাদের বিয়ে নিয়ে তখন সে সবাইকে বোঝাবে এ নিয়ে রোদসীকে ভাবতে হবে না।আদর করে তাকে রোদ বলে ডাকে সিজান।
রোলেক্স ব্রান্ডের ঘড়ি,নীল রঙের কাঞ্জিভরম শাড়ি পেয়ে মেহেক চকলেটের কথা তো ভুলেই গেছে। উৎস যখনি তার লাগেজ থেকে একটা ঘড়ির বাক্স আর একটা প্যাকেট মেহেককে দেয় তৎক্ষনাৎ সে উৎসের খাটে তরিৎ গতিতে উঠে বসে খুলতে থাকে।তার বাচ্চাদের মতো কান্ড দেখে উৎসের ঠোঁটের কোণায় বাঁকা হাসি ফুটে উঠে। কিন্তু সেটা মেহেক দেখলো না সে তো তার গিফট দেখায় ব্যস্ত।মেহেক নেড়ে চেরে তার গায়ে শাড়ি জড়িয়ে দেখলো কেমন লাগছে তাকে।উৎস তার দুই হাত বুকের কাছে ভাঁজ করে ওর বাচ্চামো কান্ড দেখতে লাগলো।
-“উৎস ভাই”
-“হুম”
-“খুব সুন্দর হয়েছে।”
-“পছন্দ হয়েছে”
-“হুম কিন্তু চ..চকলেট”
-“সেটাও লাগবে!”
-“হুমম”
উৎস তার টেবিলের ড্রয়ার খুলে দুইটা বাক্স মেহেকের সামনে রাখলো।দুইটা বাক্স চকলেটের!অবাক হয়ে মেহেক উৎসের দিকে তাকালো।তার পছন্দের স্নিকার্স(snickers) চকলেট। এই চকলেটটা মেহেকের খুব পছন্দের।মেহেক সব চকলেট আবার খায় না যেমন কিটকেট।কিটকেটে চকলেটের তেমন টেস্ট পায় না সে।কিটকেটের ভেতরের অংশ তার একদমি পছন্দ না। স্নিকার্স চকলেট পেলে সে খুব খুশি হয় যেনো আকাশের চাঁদ পেয়ে গেছে হাতে।তারমধ্যে দুই বাক্স!
-“এগুলো আমার”
-“হুম”
উৎস ফ্রিজ থেকে বড় সাইজের তিনটা ডেইরি মিল্ক বের করে মেহেককে দিলো।উৎসের রুমে ছোট একটি ফ্রিজ রাখা।সে আগেই বলে দিয়েছিলো তার রুমে একটা এক্সটা ফ্রিজ লাগবে তাই শাহাদাত চৌধুরী তার ছোট ছেলের রুমে ফ্রিজ এনে রাখে।উৎসর যখন তখন ঠান্ডা পানি,কোল্ড ড্রিংকস খাওয়ার অভ্যাস সেটা এই ঠান্ডার মধ্যেও।
-“আরো লাগবে”
মেহেক বোকা বোকা হাসি দিয়ে বললো,
-“আপাতত না।”
মেহেক এতোগুলো চকলেট পেয়ে মহাখুশি তাই ভাবলো তার উৎস ভাইকে একটা থ্যাংক্স দিবে।
-“থ্যা.”
-“উৎসর থ্যাংক্স পছন্দ না চাইলে অন্য কিছু দিতে পরিস।”
-“হুম দিবো বলো কী লাগবে?”
-“যখন লাগবো চেয়ে নিবো।”
-“এখন চাও এখোনি দিবো”
উৎস ধমকের স্বরে বললো,
-“এখন আমার রুম থেকে বের হো”
মেহেক তার মুখ গোমরা করে বললো,
-“যাচ্ছি”
মেহেক সব কিছু নিয়ে দাঁড়ায়।
-“শোন”
-“হুম বলো”
-“আমাকে তুমি করে বলবি না আপনি করে ডাকবি”
-“কেনো?”
-“উৎসের প্রশ্ন পছন্দ না যা বের হো।”
মেহেক অবাক হয়ে গেলো এই লোকটা এমন কেনো? আজব প্রাণী একটা!কথায় কথায় উৎসের এটা পছন্দ না ওটা পছন্দ না ফালতু লোক একটা।যাই হোক তার জিনিস তো সে পেয়ে গেছে সেগুলো নিয়ে লাফাতে লাফাতে তার রুমে চলে গেলো।
উৎস তার রুমের দরজা আটকিয়ে বিছানায় টান হয়ে শুয়ে কপালে এক হাত দিলো।তারপর তার প্রিয় একটা গান ছাড়লো,
“তোমার জন্যে সাজানো স্বপ্নে একা দিন যাপন
বলো না কবে শুরু যে হবে প্রেমের আলাপন ||
জুড়ে আছো নিশি দিন,রাখবো বেঁধে চিরোদিন
জুড়ে আছো নিশি দিন,রাখবো বেঁধে চিরোদিন
তাই ক্ষনে ক্ষনে আনমনে তোমায় শুধু খুঁজি বারেবার
জানতে যদি চাও কতোটা তোমার
একটু থেকে যাও এই মনে আমার“
_______
সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে চৌধুরী নিবাসের বাইরের দেয়ালের বাতি গুলো জ্বলে উঠলো।বাড়ির তিন গিন্নি মিলে সন্ধ্যার নাস্তা বানাতে ব্যস্ত।ড্রয়িং রুমে প্রতিদিনের মতো আজও ছেলে মেয়েদের হৈ-হুল্লোড়ে চৌধুরী বাড়ি মেতে উঠেছে।বাহিরে ভালোই ঠান্ডা পড়েছে তাপমাত্রা একদম কম।মেহেক ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে ওর গায়ে শীতের পোশাক তবুও তার কাঁপুনি থামছে না।নিশাত,রোদসী, মেহেক ও এরিদ সোপায় বসে একটা তামিল ছবি দেখছে।ফারাজ সন্ধ্যার আগে পার্টি অফিসে গিয়েছে। ফারাজ রাজনীতির সাথে জড়িত।চৌধুরী পরিবারের সকল সদস্য তাকে সাপর্ট করে।রাজনীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষদের পাশে দাঁড়ানো যায়।সামনে মেয়র পদে সে দাঁড়াবে।তাই তার কাজ নিয়ে সে ব্যস্ত।উৎস তার রুমে ঘুমাচ্ছে।ডিসেম্বর মাস হওয়ায় সবার স্কুল কলেজ বন্ধ। তাই সন্ধ্যা হলে এখন বাড়ির ড্রয়িং রুমে হাট বসে।সেই হাটের লিডার হচ্ছে মেহেক সে নিজেও পরবে না আর কাউকে পড়তেও দিবে না।তার একটাই কথা এখন তো ছুটি চলছে তাহলে কিসের পড়াশুনা!ছুটি মানে পড়াশোনাও ছুটি।তাদের আড্ডায় বাড়ির গিন্নিরা এসে যোগ দিবে আবার বাড়ির কর্তারা আসলেও তারাও গল্প করতে বসে জাবে।
-“এরিদ”
-“হুম বলো”
-“একটা কম্বল নিয়ে আয় না খুব ঠান্ডা পড়েছে।”
-“তুমি যাও মেহেক আপু আমারও ঠান্ডা লাগছে।”
মেহেক বুঝতে পারলো সে ভুল মানুষকে বলেছে।এই বজ্জাত তা তো তার মতোই অলস।তাই করুন চোখে নিশাতের দিকে তাকালো
-“আপু”
শুধু একটা ডাকই যথেষ্ট ছিলো মেহেকের আর কিছু বলতে হলো না তার আগেই নিশাত উঠে গেলো।নিশাত একটা কম্বল নিয়ে আসলো সেটা চার ভাই বোন পা ঢেকে বসে।তারপর তারা ছবি দেখায় মন দিলো।
উৎসর ঘুম ভাঙলো।ফ্রেশ হয়ে নিচে গেলো এক কাপ কফি খাওয়া লাগবে।নিচে নেমেই সে অবাক হয়ে গেলো চার জন মনোযোগ সহকারে কী সুন্দর টিভি দেখছে পড়ালেখা বাদ দিয়ে।এই মনোযোগটা পড়ালেখায় দিলে কতোই না কাজে দিতো।
-“আম্মু এক কাপ কফি দাও।”
ছেলের কন্ঠ পেয়ে মালিহা উদ্বিগ্ন হয়ে বললো,
-“উঠেছিস বস আমি নিয়ে আসছি।”
উৎস এসেছে সেটা নিশাত রোদসী খেয়াল করে নড়ে চড়ে বসলো কিন্তু বাকি দুইটার কোনো খেয়ালি নেই ছবির ভিতরে ধুকে যাচ্ছে মনে হয়! সিঙ্গেল সোপায় গিয়ে বসলো।তার মাও তাকে কফি দিয়ে রান্না ঘরে চলে গেলো।উৎস এক চুমুক কফি খাচ্ছে আর ফোন স্কল করছে।এইদিকে ছবির এক পর্যায় সেড পার্ট এসেছে নায়ক নায়িকার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে কিন্তু ছেলে চাকরি করে যা মেয়ের বাবার পছন্দ না।মেয়ের বাবা বড়লোক ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক করে তার সাথেই নায়িকার বিয়ে দিবে।কিন্তু নায়িকা রাজি না সে নায়ককে ছাড়া কাউকে বিয়ে করবে না।তাকে ঘরে আটকে রাখা হয় সে ঘরের চার দেয়ালের ভিতরে ধুকরে ধুকরে কাঁদছে। মেহেকের এগুলো দেখে বাস্তব মনে হচ্ছে তাই তার খারাপ লাগলো।
-“এইরে এখন নায়িকার কী হবে?আমার খুব খারাপ লাগছে।এরিদ চল আমরা গিয়ে বিয়েতা দিয়ে আসি।”
-“আমারও আপু।”
-“আরে এটা ছবি তোরা কোথায় জাবি।”
-“রোদসী আপু আমার খুব খারাপ লাগছে।”
-“তাহলে পাল্টে দেই।”
-“হুম দাও।মৌসম মুখার্জির একটা হিটস গান লাগাও মনটা ফ্রেশ করি।”
-“এটা কে?”
-“আমার ক্লাশ,গায়ক।দেখতে সেই লেভেলের।”
নিশাত,রোদসী শুকনো ঢোক গিললো।উৎসের সামনে কিসব বলছে এই গদ্দব মেয়েটা।
-“জানো আপু তার চুল গুলো অস্থির আর মুখ তো তো..”
মেহেক আর কিছু বলতে পারলো না থেমে গেলো।এতোক্ষণ পর সে খেয়াল করেছে উৎস যে এখানেই উপস্থিত।তার দিকেই অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে পোলকবিহীন।
-“ইয়ে মা…মানে উৎস ভাই ”
-“মেজো মা,ছোট মা কুইক এখানে এসো।”
উৎসের গম্ভীর কন্ঠে তারা চার জনই ভয় পেয়ে গেলো একে অপরের দিকে তাকালো।
দুই জা নাস্তা নিয়ে হাজির হলো।টেবিলের উপর রেখে নাফিসা বললো,
-“কিছু দরকারি কথা বলবি নাকি”
মালিহাও রান্না ঘর থেকে আসলো।
-“ওদের পড়ালেখা নেই?”
-“সেটা আমাদের না জিজ্ঞেস করে তোর ভাই বোনদের জিজ্ঞেস কর।একটা কথা যদি শুনে।”
এবার সুফিয়া রাগি স্বরে মেহেকের উদ্দেশ্যে বললো,
-“সব দোষ ওর। নিশাত রোদসীকেও পরতে নিষেদ করে প্রতিদিন সন্ধ্যায় আসর জমায়।ওর জন্য এই এরিদটাও খারাপ হচ্ছে।”
-“হুম দাও এখন সব দোষ আমাকে দাও।”
-“নিশাত রোদসী কী ছোট নাকি! ও বললেই তা শুনতে হবে নিজের ভালোটা কি বুঝে না।নাকি ওর মতো ফেল করার ইচ্ছা আছে ওদের।”
নিশাত ও রোদসী উৎসের দিকে তাকিয়ে দুজনেই বললো,
-“সরি ভাইয়া আর হবে না।এখনি যাচ্ছি পড়তে।”
বলেই তারা উঠবে তখনি সদর দরজা থেকে ভেসে এলো,
-“আজ কিসের পড়া?আজ কোনো পড়া চলবে না বরং আড্ডা চলবে।”
সবাই সেদিকে তাকালো।সিজান এসেছে।সবাই খুশি হয়ে যায় সিজানকে দেখে।ছেলেটা আসতেই পারে না কাজের জন্য।সিজান উৎসের কাছে গিয়ে গলা জরিয়ে জিজ্ঞেস করে
-“কেমন আছিস?”
-“এই তো ভালো তুমি?”
-“যে যেমন রেখেছে?”কথাটা সিজান তার রোদের দিকে তাকিয়ে বললো।উৎসর ও বুঝতে বাকি রইল না কিন্তু সে কিছু বললো না।
তিন মামি ও ভাই বোনদের সাথেও সে কুশল বিনিময় করলো।
-“আচ্ছা উৎস ভাইয়া বললো মেহেক আপু ফেল করেছে?”
মেহেক ক্লাস টেস্টে ফেল করেছে সেটা কেউ জানে না শুধু মেহেক আর উৎস বাদে।সেটা যখন উৎস বলেছিলো তখন সবাই কিছুটা অবাক হয় কিন্তু সিজান আসায় ভুলে যায় তবে এরিদ মনে করিয়ে দেয়।সবার দৃষ্টি উৎসের দিকে তারা এখানে থেকে জানে না আর ও আজ আসলো! কিভাবে জানলো?
মেহেকও প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকালো উৎসের দিকে।মেহেকের পড়াশোনা সম্পর্কে উৎস সব খোঁজ নেয় ওর টিচারদের সাথে ব্যাক্তিগতভাবে সে কথা বলে।কিন্তু এটা বললে তো এটার কারণ তাও সবাই জানতে চাইবে তার সাথে সন্দেহ জাগবে।সন্দেহ জাগার কারণও বটে এই ছেলে ওর জন্য ছোট থাকতে যা পাগলামো করেছে কিন্তু সবার জানামতে ও সেগুলো নিয়ে এখন ভাবে না মজা ছিলো।
-“এভাবে তাকানোর কোনো কারণ দেখছি না।আমি জাস্ট ওয়ার্ন করলাম ওদের তাই ফেলের কথা বললাম।বিদেশে বসে এই মেয়ের খবর রাখার মতো টাইম নেই আমার হাতে।”
শেষ কথাটা মেহেকের বুকে গিয়ে তীরের মতো বিধলো।
সিজান একটা পাকোড়া নিয়ে বললো,
-“এতো কথার মাঝে সব নাস্তা ঠান্ডা হয়ে গেলো তো”
মালিহা সবার উদ্দেশ্যে বললো,
-“দেখেছিস ভুলেই গিয়েছিলাম সবাই খেয়ে নে তো।”
সন্ধ্যার নাস্তায় পাকোড়া আর নুডুলস রান্না করেছে সেটা সবাইকে দিতে লাগলো নাফিসা।
-“ফারাজ কোথায়?”
মালিহা বললো,
-“সেই যে বের হয়েছে আর খবর নেই একটা ফোন দে তো সিজান।”
-“কোনো প্রয়োজন নেই আমি হাজির হয়ে গেছি।”
ফারাজ বলতে বলতে সিজানের কাঁধে থাপ্পড় দিয়ে আবার বললো,
-“মনে পরলো তাহলে”
-“হুম মনে তো করতেই হবে।”
*****
নাস্তার পর্ব শেষ করে সবাই গল্পে মেতে উঠলো।সিজান রোদসীকে চোখ দিয়ে কিছু ইশারা করছে কিন্তু রোদসী শুনছে না তার কথা।উৎস কিছুক্ষণ পর পর মেহেকের দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছে সেটা ফারাজ খেয়াল করলো।সে পড়েছে ফাটা বাঁশের মধ্যে তার কপালেই কেউ জুটলো না।বড় ছোট দুই ভাইয়েরি কেউ না কেউ আছে তারই নেই।নিশাতের প্রতি তার কোনো ফিলিংস নাই বা ওকে সেই চোখে সে দেখে না নাহলে কবে সেও ওকে পটিয়ে ফেলতো।রান্না ঘর থেকে নাফিসা বেরিয়ে এসে বললো,
-“এই পাজি দুটোর জন্য এই কয়দিনের জন্য একটা টিচারের ব্যবস্থা করে দে তোরা কেউ।না হলে একদিনও পড়তে বসবে না।”
তার কথায় উৎস জবাব দিলো,
-“ওকে কাল সন্ধ্যায় ওদের প্রস্তুত থাকতে বলো টিচার আসবে পড়াতে।”
নাফিসা আর উৎসর কথা শুনে হতবাক হয়ে মেহেক এরিদ একে ওপরের দিকে তাকায়।
-“এতো তাড়াতাড়ি পারবি?”
-“আরে ছোট মামি এটা তো চুটকির ব্যাপার ওর কাছে।”
সিজান বলেই হেসে দিলো।
মেহেক উৎসের দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বললো,
-“উ..উৎস ভাই”
-“কারো কোনো অজুহাত চলবে না।”
মেহেকের মুখ চুপসে গেলো।
কিছুক্ষন বসে থেকে এবার সিজান রাগ করে উপরে চলে গেলো ফ্রেশ হওয়ার কথা বলে।তার কিছুক্ষণ পর রোদসীও উপরে চলে গেলো আর উৎস তার দৃষ্টি তো এক দিকে নিবদ্ধ ফারাজ কিছু বললে হ্যা না ছাড়া কিছুই বলছে না।অবশেষে বিরক্ত হয়ে সেও উঠে পরলো।তাকে উঠতে দেখে উৎস বললো,
-“কোথায় যাচ্ছো?”
-“দেখি দুই একটা ভালোবাসার মানুষ পাই কি না”
-“আগে আমার মতো ভালোবাসা শিখো তারপর এমনিতেই পেয়ে জাবে।”
-“বন্ধু তোমার ভালোবাসার ধরণ ভালা না।”
কথাটা ফারাজ আস্তেই বলেছে তাই উৎস ছাড়া আর কেউ শুনলো না। উৎস বাঁকা হাসি দিলো। ফারাজও হো হো করে হেঁসে তার রুমে চলে গেলো।
#চলবে

