#প্রিয়_হতে_প্রিয়তর
#পর্বঃ৩
#লেখিকাঃতাসনিম
শাহিনের এইচএসসি পরীক্ষার শেষ দিন শাহিন পরীক্ষা হল থেকে বেরিয়ে দেখলো কলেজের সামনে বেশ অনেক ভিড় করে দাড়িয়ে আছে লোকজন। ও সেদিকেই গেল।
ফারাহ হাতে একটা বোর্ড নিয়ে দাড়িয়ে আছে। বোর্ডে লিখা আজ আমার সাথে দেখা না করলে আমি যাবো না শাহিন,আপনি তো আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন,বলেছেন আপনার সাথে যেন কথা না বলি, তাই এ ব্যবস্থা।
শাহিন সবার সামনে থেকে ফারাহকে নিয়ে আসলো,একটা ফাঁকা জায়গায় গিয়ে সে থামলো।চোখ গরম করে তাকালো ফারাহর দিকে, সে ভয়ে ভয়ে একবার ওর দিকে তাকালো,তারপর নিচের দিকে তাকালো।
“এটা কি ধরনের ব্যবহার ছিল,সবার সামনে হাসির পাত্র বানাতে চাও তুমি, কি সমস্যা তোমার,কেন এমন করছো”
“আমি তো আপনাকে…”
“চুপপ কি ভালোবাসি ভালোবাসি করো সারাক্ষণ, আমি তোমাকে ভালোবাসি না,এখন তুমি কি চাও আমি জোর করে তোমার সাথে থাকি,ভালোবাসার নাটক করি”
“কেন আমাকে ভালোবাসা যায় না,আমি কি এতোটাই খারাপ”
“আমি কি বলেছি তুমি খারাপ,তুমি ভালো,অনেক ভালো,কিন্তু তুমি এখনো ম্যাচিউরড না,অনেক কিছু বুঝো না”
“তাহলে আমাকে বুঝিয়ে বলেন আমাকে আপনি কি বলতে চান বুঝাতে চান”
“তুমি আমাকে বুঝতে পারো আমি কি চাই বুঝতে পারো”
“নাহ আপনি তো এখন সারাক্ষণ রেগে যান আমার সাথে, কল দিলে ধরেন না,কি করলে আপনি রাগ করবেন না আমি তো বুঝি না,আমাকে একটু বুঝিয়ে দেন”
“দেখো এখন আমার ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করার সময় এখন যদি আমি তোমাকে নিয়ে থাকি তাহলে কি করে হবে,এক্সাম শেষ হয়েছে এখন আমাকে ভার্সিটির এডমিশন টেষ্টের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে”
“আমি তো আপনাকে সারাক্ষণ থাকতে বলছি না,আমি শুধু বলছি”
“শোনো আমি কিছু শুনতে চায় না,প্লিজ তুমি আর কখনো এমন কিছু করবে না,তুমি তোমার মতো থাকো আমি আমার মতো,অনুরোধ করছি তোমার কাছে”
“মানে আপনি আমাকে কখনোই ভালোবাসবেন না”
শাহিন বিরক্ত হয়ে সামনের দিকে গেল,ফারাহ ওখানেই দাঁড়িয়ে রইলো, শাহিন ফারাহকে শান্ত গলায় বললো,
“ফারাহ জীবনে অনেক দূরে যেতে হবে তোমাকে আমাকে দুজনকে।আমি ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখে এসেছি উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাবো,আমার ফিউচার নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন,কখনো এসব প্রেম,ভালোবাসা নিয়ে ভাবিনি,কারণ তার জন্য আমাদের বাবা মা আছে, বিয়ের বয়স হলে তারাই বিয়ে দিবে,আমার দায়িত্ব নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তোলা।তুমিও নিজের জীবন নিয়ে ভাবো,শুধু কাউকে ভালোবেসে পড়ালেখার জীবনটা নষ্ট করে ফেলার কোনো মানে হয় না,এখন স্বপ্ন দেখার ও স্বপ্ন পূরণ করার সময়”
শাহিন কথা শেষ করে পিছনে তাকিয়ে দেখলো ফারাহ নেই।শাহিনের বুকটা কেঁপে উঠলো,বাচ্চা মেয়ে কখন কি করে বসে বলা যায় না।শাহিন ফারাহকে খুঁজতে শুরু করল।
ফারাহ সেখান থেকে শাহিনের কথা শেষ হওয়ার পরই ফারাহ সেখান থেকে চলে আসে,আজ সে কি বুঝলো সে জানে না তবে শাহিনের কাছে আর সে যাবে না,কেন যাবে না সে নিজে জানে না জানতে চাইলো না নিজের মনের কাছে,শাহিনের কাছে ওর স্বপ্ন গুলোই সব তাকে ঘিরে যে অন্য একজন মানুষ স্বপ্ন দেখে তার কোনো মূল্য নেই।
বাসায় আসার পর ফারাহ নিজের রুম থেকে আর বের হয়নি,সবাই অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করলেও দরজা খুলেনি।
সপ্তাহ খানিক পর ফারাহ কলেজ থেকে বাসায় যাচ্ছিল,এমন সময় শাহিন এসে রাস্তা আটকালো।
“কোথায় চলে গিয়েছিলে সেদিন, কত জায়গায় খুঁজেছি তোমাকে তোমার কোনো ধারণা আছে,মানে তুমি কি চাও আমি পাগল হয়ে যায় তবে তুমি সার্থক,কেন কি ক্ষতি করেছি তোমার”
“কেন খুঁজেছেন আমাকে,আমি হারিয়ে গেলে বা আমার কিছু হয়ে গেলে আপনার কি”
“আমি চাই তুমি তোমার জীবনে সফল,এই মিথ্যা দুতিনদিনের ভালোবাসায় যেন তোমার জীবন টা যেন নষ্ট না হয়ে যায়”
“আর বিরক্ত করবো না আপনাকে,আমি নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন”
“আমার বিরক্ত হওয়া না হওয়ার কথা নয়, আমি বলতে চাইছি”
“বলতে হবে না কিছু আপনাকে আমার জীবন আমি যেভাবে ইচ্ছা গড়ে তুলবো,আপনি আপনার জীবনে ভালো থাকুন,আমি আপনার স্বপ্ন পূরণে কোনো বাঁধা দিতাম শুধু আপনার সাথে থেকে আপনাকে নিয়ে দেখা স্বপ্ন গুলো পূরণ করতাম,যাই হোক এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হলেই আমি লন্ডন চলে যাবো,কারণ এখানে থাকলে আমার আপনাকে দেখতে ইচ্ছে করবে,কথা বলতে ইচ্ছে করবে, নিজেকে আটকাতে পারবো না”
শাহিন কে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ফারাহ সেখান থেকে চলে আসলো।
বাসায় ফারাহ কি হয়েছে সেটা তারা জানতে পারলো,হঠাৎ কেন সে লন্ডন যাওয়ার ডিসিশন নিল,মেয়ের মুখের হাসির জন্য লতিফ চৌধুরী শাহিনের বাবার সাথে কথা বলতে গেল।সে যদি শাহিনকে বুঝিয়ে বলতো।
“দেখুন আমার ছেলের জীবনে আমি কখনোই আমার মতামত চাপিয়ে দেয় না,সে নিজেই নিজের জীবনের ডিসিশন নেয়,আর যদি আপনারা বিয়ের কথা বলেন,তাহলে তো আমাকে এটাই বলতে হবে যে শাহিনের নিশ্চয়ই আপনার মেয়ে কে ভালো লাগে না তাই সে তাকে না করে দিয়েছে তাও কেন আপনি আমার কাছে এসেছেন বুঝতে পারছি,যে আপনার মেয়ের সাথে থাকবে তারই মত নেই আমরা কি বলবো”
সেসময়ই শাহিন বাসায় আসলো,অপরিচিত লোক দেখে সে কিছু বললো না, নিজের রুমের দিকে যাচ্ছিল তখনই তার বাবা তাকে ডাক দিল।শাহিন সেখানে গেল।
“কলেজে তো তোমাকে পড়ালেখার জন্য পাঠিয়ে ছিলাম,মেয়েদের পাগল করার জন্য না,তাহলে কেন উনি উনার মেয়ের হয়ে কথা বলতে এলেন”
“আপনি ফারাহ বাবা”
“হ্যা বাবা আমার মেয়ে তোমাকে সত্যিই ভালোবাসে,এখন তোমরা কাবিন টা করে রাখো,তারপর তোমাদের পড়ালেখা শেষ হলে বিয়ে করো,আমার মেয়ে টা তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবে না”
“আপনারা কি পুরো পরিবারই পাগল,যাকে আমি ভালোইবাসি না তাকে বিয়ে করবো,ফারাহ কে অনেকবার বুঝানো হয়েছে তাও যে বুঝতে পারেনি সেটা এখন আপনাকে দেখে বুঝলাম,আচ্ছা আমাকে বলুন আমি কেন আপনার মেয়েকে বিয়ে করবো ও আমাকে ভালোবাসে বলে,এটা কোনো যুক্তি হলো,শুনন আপনারা আমার পিছন ছাড়ুন আমি আপনার মেয়েকে ভালোবাসি বিয়ে করবো না,এইবার আপনি আসতে পারেন”
লতিফ চৌধুরী চুপ করে চলে আসলেন,বাসায় এসেও কাউকে কিছু বললেন না।
পরেরদিন ফারাহ কলেজে যাওয়ার পথেই শাহিন এসে ওর সামনে দাঁড়ালো আর বললো
“তোমার সাহস কি করে হয় আমার বাসায় তুমি বিয়ের প্রস্তাব পাঠাও,আমি ভেবেছিলাম ভালো ভাবে বুঝালে বুঝে যাবে কিন্তু তুমি যে এতটা এগিয়ে যাবে আমি বুঝি নি,আচ্ছা আমাকে বলো তোমার মধ্যে এমন কি আছে যা দেখে আমি তোমাকে ভালোবাসবো, কিছুই তো নেই তোমার, ওহ হ্যা আছে একটা জিনিস আছে বাবার টাকার গরম তাই না ফারাহ মনি”
“কি সব বলছেন আপনি আমি আপনার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছি,কেন আমি পাঠাবো আমি তো বুঝেই গেছি আপনি আমাকে পছন্দ করেন না,আর কি বললেন বাবার টাকার গরম আছে আমার যদি তাই হতো তাহলে আজ আপনি আমারই হতেন”
“এই এতো তেজ কিসের গলা নামিয়ে কথা বলবে আমার সামনে”
“আপনার সাথে কথা বলার কোনো ইচ্ছা আমার আর নেই এখন”
ফারাহ পাশ কাটিয়ে চলে গেল,শাহিন ওখানে দাঁড়িয়ে রইলো।ফারাহ বাসায় এসে বাবার আসার অপেক্ষা করতে লাগল।রাতে বাবা বাসায় আসলে ফারাহ তার কাছে গেল।
“আব্বু তুমি কেন শাহিনের বাসায় গিয়েছিলে”
“আমি নাহ তো আমি কেন যাবো”
“আমার জন্য তোমাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে তোমাকে তাই না আব্বু”
“না রে মা, যা হয়েছে ভুলে যা মা জীবন তো কারো জন্য থেমে থাকে না,কাল কি হয়েছে আমি মনে রাখিনি তুইও মনে রাখিস না”
“আমি লন্ডন কবে যাব,এখানে থাকলে আমি নরমাল হতে পারবো না,আমার সবকিছু বার বার মনে পড়বে”
“তুই চলে গেলে আমরা কি করে থাকবো”
“আমাকে যে যেতেই হবে আব্বু,ভাইয়াকে নিয়ে থাকবে তোমরা,এই দুঃস্বপ্ন টা ভুলে গেলে আমি ফিরে আসবো,আমার জন্য তোমার অপমান হয়েছে এখানে থাকলে আমার বারবার এটা মনে হবে”
বর্তমান
ফারাহ চোখটা মুছে ডাইরি টা বন্ধ করে রাখলো।মার দেয়া জামা টা পরে রেডি হয়ে নিল।
সন্ধ্যায়……..
#চলবে
#প্রিয়_হতে_প্রিয়তর
#পর্বঃ০৪
#লেখিকাঃতাসনিম
নীল আর তার মা ফারাহ দের বাসায় এসেছে অনেকক্ষণ হয়েছে। অনেক দিন পর ফারাহ কে দেখে নীলের মা তাকে তার কাছ থেকে সরতেই দিচ্ছে না।সন্ধ্যার নাস্তা করার পর নীল তার মাকে বললো সে ফারাহর সাথে কথা বলতে চাই। তারপর দুজন ছাদে গেল কথা বলার জন্য।
“তুই তো মনে হয় জানিস আমাদের বাবা মা কি চাই,কিন্তু এটা সম্ভব না”
“তাহলে বলো ফুপ্পি, আব্বু আম্মু কে তুমি আমাকে বিয়ে করতে চাও না”
“তোর কি মাথা খারাপ আমি কি করে বলবো,আর মামা মামি কে না করবো আমি কিভাবে”
“তাহলে কি করতে চাও”
“দেখ ভাইবোনের বিয়ে কেমন যেন দেখাই না,দুনিয়াতে কত ছেলে মেয়ে আছে তাদের বাদ রেখে ভাইবোন বিয়ে হওয়ার কোনো যুক্তি হয়”
“আমাকে এসব বলে কি লাভ,আমি কি করবো”
“তুই বল তোর অন্য কাউকে পছন্দ তুই আমাকে বিয়ে করবি না”
“আমার কাউকে পছন্দ না”
“মানে তুই আমাকে বিয়ে করতে চাস”
“আমি কি বলেছি আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই,আমি এমন একজনকে চাই যার চোখে আমি সুন্দর, যে নিজে থেকে আমাকে চাই, আমিও তাকেই চাই”
“তোকে বিয়ে করা আমার পক্ষে পসিবল না,আমার ফ্রেন্ডস রা কি বলবে,আমাকে নিয়ে মজা করবে”
“ঠিক আছে,আমি তাহলে বলবো তুমি আমাকে বিয়ে করতে চাও না তাহলেই তো হলো”
“হা হা নিজে ভালো থাকবে আর আমাকে খারাপ বানাবে, এটা হবে না”
ফারাহ বিরক্তির চোখে নীলের দিকে তাকালো,নীল কিছু একটা ভেবে বললো,
“তুই তো সাইকোলজিস্ট সবার মাথায় কি কথা চলে তুই বুঝতে পারিস কোনো ভাবে সবাইকে সত্যি টা বলেই কনভিন্স কর না প্লিজ বোন”
“কে বললো তোমাকে আমি সবার মাথায় কি চলে আমি তা জানি, তবে আমি চেষ্টা করে দেখবো সবাইকে বোঝানোর জন্য”
“তাহলে দেরি কিসের চল এখুনি”
নীল ফারাহর হাত ধরে নিচে নিয়ে গেল।সবাই ডিনার করছিল।ওদের দেখে মিনারা বেগম বললেন
“আসো তোমরাও বসে পড়ো,আসতে দেরি করছিলে বলে সবাই খেতে বসে পড়লাম আমরা”
“না না মামি সমস্যা নেই,এই বল চুপ করে আছিস কেন”
“সবাই খাচ্ছে এখন কি করে বলি খাওয়া শেষ হোক পরে বলছি”
“বলবি তো নাকি ধোঁকা দিবি আমাকে”
“এই কি ফুসুরফুসুর করছিস তোরা খেতে আসতে বললো না মিনারা,আয় ফারাহ আমার পাশে এসে বল”
সবাই খাওয়া দাওয়া শেষ করলো, নীল ফারাহ কে বার বার কথা বলার জন্য বলছে,শেষে ফরাহ বাধ্য হয়ে বলা শুরু করল,
“ফুপ্পি আমি জানি তুমি আমাকে অনেক ভালোবাসো,নিজের মেয়ের মতো”
“হ্যা মা কিন্তু হঠাৎ এ কথা কেন বললি”
“তোমরা যে ডিসিশন নিতে যাচ্ছো,সেটা আমরা মানতে পারছি না,প্লিজ তোমরা কেউ রাগ করো না”
“কি বলছো তুমি ফারাহ,তোমাকে সকালে আমি কি বুঝিয়েছিলাম”
“আম্মু যদি নীলের সাথে আমার বিয়ে না লিখা থাকে তাহলে কি করে হবে”
“তুমি নিজে যদি ইচ্ছে করে বিয়ে ভেঙে দাও তাহলে কি করে হবে”
“আম্মু আমি…..”
“চুপ করো তোমার কোনো মতামত আমরা নিতে চাচ্ছি না,আমাদের ডিসিশন তোমাকে মানতে হবে,তোমার ফুপ্পি তোমাকে যেভাবে আগলে রাখবে আর কে তোমাকে সেভাবে আদর করে রাখবে, তুমি বুঝতে চাইছো না কেন,নাকি এখনো সে বেয়াদব ছেলের আশা নিয়ে বসে আছো তুমি তাকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখছো,শুনে রাখো যদি এমন কিছু তুমি ভেবে থাকো তাহলে আমরা ভুলে যাবো আমাদের কোনো মেয়ে ছিল”
“মিনারা কি বলছো তুমি এসব”
“তুমি ওকে আশকারা দিতে দিতে এমন করে তুলেছো,বাবা মার সিদ্ধান্ত মানার প্রয়োজন বোধ করে না,সে নিজে যা বলবে তাই হবে এমন ধারণা ওর বদলাতে হবে”
“মামি প্লিজ তুমি ফারাহ কে এভাবে বলো না,আমিও চাই না এ বিয়েটা করতে,আমিই ওকে বলেছিলাম সবাইকে বোঝানোর জন্য”
“তুই বলেছিলি নীল,মানে তোরা কেউই চাস না এ বিয়ে করতে,আমার কতদিনের স্বপ্ন ছিল ফারাহ কে নিজের বাড়ির বউ করে নিয়ে যাবো,সব স্বপ্ন ভেঙে দিলি তোরা,ভাই মিনারা ওদের আর কিছু বলার দরকার নেই, তারা বড় হয়ে গেছে ওদের সিদ্ধান্ত তো ওরাই নেবে,আর জোর করে বিয়ে দিতে গেলে খারাপই হবে”
“আমিও তাই বলতে চাইছিলাম জোর করে কিছু করানো ঠিক না”
“ফুপ্পি তুমি আমার সাথে রাগ করো না”
“তোর উপর কি রাগ করবো,নিজের ছেলেই মার খুশির কথা ভাবে না,এখানে আর থাকার তো কোনো কারণ দেখছি না আমি আসি ভাই তোরা যাস”
ফারাহ ফুপ্পি বাসা থেকে বেরিয়ে গেল,নীলও তার মার পিছনে গেল। ফারাহ ওখানে আর দাড়ালো মনা নিজের রুমে চলে আসলো।তার মা আগে কখনো এভাবে কথা বলেনি,এ প্রথম এভাবে কথা বললো তার সাথে কথা গুলো মনে পড়তেই ফারাহর দুচোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগলো।
রাত তিনটা,ঘুম আসছিল না বলে ফারাহ ছাদে গেল,চারপাশে একটু হাটাহাটি করে পাশের ছাদের দিকে তাকিয়ে দেখলো,সেদিনের ছেলেটা রেলিং এর উপর উঠে দাড়িয়ে আছে। ফারাহ সেদিকে গেল।ছেলেটা কে বললো
“এই যে শুনন একটু কথা ছিল আপনার সাথে”
“কি সমস্যা আমার সাথে কিসের কথা আপনার আপনি কি চিনেন আমাকে”
“আপনি এখান থেকে নেমে আসুন আমি বলছি সব আপনাকে”
“কেন আমি আপনার কথায় নেমে আসবো,আমি এখানেই থাকবো আপনার কি”
“ঠিক আছে ওখানেই থাকুন,তারপর যখন এখান থেকে পড়ে যাবেন আল্লাহ না করুক আপনার কিছু হয়ে যাবে তখন আপনার ফ্যামিলি যে কষ্ট টা পাবে সেটা তো আপনাকে দেখতে হবে না কিন্তু তারা অনেক কষ্ট পাবে,বিশেষ করে আপনার মা”
ফারাহ কথা শুনে ছেলেটা নিচে নেমে এলো।ফারাহ মিষ্টি হাসি দিয়ে ছেলেটা কে বললো,
“হুমম এখন বলুন তো কেন উপরে উঠেছিলেন”
“আমি আমার জীবন নিয়ে অনেক বিরক্ত, কেন যে মানুষ রিলেশন করে,মানে আমার যে গার্লফ্রেন্ড সে আমাকে প্রচুর পেইন দেয় তাকে আমার সব বলতে হবে কখন কি করছি কোথায় আছি কি খাচ্ছি, তাও সন্দেহের শেষ নেই,দিনরাত মিলিয়ে মনে হয় আমরা ১৫ ঘন্টা ঝগড়া করি এসব বিষয় নিয়ে”
“তাহলে ব্রেকআপ করে ফেললেই তো হয় আপনারা তো এ ব্যাপারে ভীষণ পারদর্শী”
“১৫ ঘন্টা ঝগড়ার মাঝে আমি ১৫০০ বার ব্রেকআপের কথা বলি,কিন্তু মেয়েটা ব্রেকআপের জন্য রাজি হয় না,আমার সাথে থেকে আমাকে পাগল বানিয়ে পুরোপুরি তারপর ছাড়বে”
ছেলেটার কথা শুনে ফারাহ হেসে দিল,ওকে হাসতে দেখে ছেলেটা অন্য দিকে ঘুরে তাকিয়ে রইল, তারপর ফারাহ বললো
“আপনি কি চান”
“মানসিক শান্তি পারবেন এনে দিতে,অনেকক্ষণ ধরে এটা সেটা জিজ্ঞেস করছেন এখন বললেন পারবেন শান্তি এনে দিতে আমাকে”
“এখনো পেশেন্ট দেখা শুরু করিনি তবে আপনিই হবেন আমার ফার্স্ট পেশেন্ট”
“মানে কি বলছেন”
“আমি একজন সাইকোলজিস্ট লন্ডন থেকে ডিগ্রি নিয়ে এসেছি, সো হাতুড়ি ডাক্তার মনে করবেন না,আপনার গার্লফ্রেন্ড যদি আপনাকে পাগল বানানোর ডিসিশন নেয় তবে আমি সংকল্প করছি আমি আপনাকে একজন সুস্থ স্বাভাবিক করে তুলবো,কোনো প্রকার ডিপ্রেশন থাকবে না আপনার”
“আপনি কি মজা করেন আমার সাথে ”
“আপনার সাথে কি আমার মজা করার সম্পর্ক,যাই হোক কথা বাড়ানোর দরকার নেই রাত পেরিয়ে ভোর হয়ে যাচ্ছে আজান দেয়ার পর নামাজ পড়ে ফোন টা অফ করে ঘুমাবেন,তারপর সকালে যখম ঘুম থেকে উঠবেন,আগে আপনার সাথে কি হয়েছে কেন হয়েছে এসব কিছু ভাববেন না শুধু ভাববেন আজকে একটা নতুন দিন নতুন করে বাঁচতে হবে,সময় একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না,তাই সময় থাকতে নিজের জীবনের গুরুত্ব দিতে শিখুন,কিছু সমস্যার জন্য নিজের জীবন নষ্ট করে ফেলা কোনো সমাধান না”
ছেলেটা ফারাহর কথা শুনে বোকার মতো ওর দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ালো।
“আপনার নাম টা তো বলুন,প্রথম পেশেন্ট বলে কথা আমার”
“জাবির রহমান”
“ফারাহ চৌধুরী, ওকে যান এখন যেটা বললাম সেটা করুন,আর সকালে আমার সাথে দেখা করে তারপর গন্তব্যে যাবেন”
“কোথায় দেখা করবো”
“জানালায়,আমি বারান্দায় আসবো”
জাবির মাথা নাড়িয়ে চলে গেল।ফারাহ ও নিচে চলে আসলো।
#চলবে