#বউপাখি
#পর্ব_১
#sinthia_সিনথিয়া
-‘ইউ নো হোয়াট বউপাখি, ইউ নিড টু বি মোর স্কিলড্ টু কি’ল অ্যা মনস্টার লাইক মি!’
কথাগুলো শুনে দপ করে জ্বলে ওঠে তিতির। তারপর আরাফের দিক মুখ ফিরিয়ে পা উঁচু করে কোমড়ে হাত রেখে বলে-
-‘দেখুন আপনি আরাফ হন আর বরফ হন, আমি আপনার বউপাখি নই। না আপনাকে আমি চিনি, না আপনার সাথে আমার কোনোদিন বিয়ে হয়েছে। সো প্লিজ আমাকে যেতে দিন।’
কথাগুলো শুনে আরাফের চোয়াল শক্ত হলো। যে চোখ এতক্ষণ তিতিরের জন্য নরম ছিলো সেই চোখ হয়ে উঠলো রক্তবর্ণ। যা দেখে তিতিরের পুরো শরীর কেঁপে উঠলো। লোকটা রেগে গেছে ভয়াবহ রকমের রেগে গেছে। হতেই পারে লোকটা তিতিরকে অন্য কারোর সাথে গুলিয়ে ফেলেছে। কাছের কোনো মানুষ ভেবে ভুল করছে। কিন্তু এভাবে কথাগুলো বলা মনে হয় ঠিক হয়নি। তিতির যখন এসব আকাশ পাতাল ভাবনায় বিভোর ঠিক তখনই ওর সামনে কিছু ছবি ছুড়ে ফেলে মুখ খুললো আরাফ।
-‘তুমি আমার বউপাখি নও। আমাদের বিয়ে হয়নি? তাহলে এগুলো কি? এখন বলো এই ছবি গুলোও মিথ্যে। আমার বানানো। একটা কথা যেনে রাখো, এই আরাফ চৌধুরী মরে যাবে তবুও সে তার বউপাখিকে চিনতে ভুল করবে না!’
তিতির ওর সামনে পরে থাকা ছবিগুলো তুলে দেখলো। একেকটা ছবি ওর পায়ের তলার মাটি সড়িয়ে দিলো। অসম্ভব। এ অসম্ভব। তিতির এই লোকটাকে বিয়ে করেছে অথচ ওর কোনো কিছুই মনে পড়ছে না। প্রথম ছবিটা ওদের আকদের। আরাফ সাদা পায়জামা পাঞ্জাবি পড়া আর তিতির সাদা লেহেঙ্গা। ওদের হাতে একটা আয়না।আরাফ তিতিরের দিকে তাকিয়ে আছে আর তিতির লাজুক হেসে চোখ সড়িয়ে নিয়েছে। ঐ মুহূর্তে ছবিটি ক্যামেরা বন্দি করা হয়েছে। কিন্তু তিতিরের এসব কিছুই মনে নেই। কি করে সম্ভব। ছবির মেয়েটা দেখতে হুবহু তিতিরের মতো। একেবারে হুবহু।
তিতিরের হাত কাপছে। ভয়ে আরো শুকনো হয়ে গেছে তিতিরের মুখ। লোকটা একটা সাইকো। বদ্ধ উন্মাদ যাকে বলে। এমন একটা লোককে তিতির কখনোই বিয়ে করতে পারে না। আর বিয়ে যদি করেও থাকে তাহলে ওর কিছু মনে পড়ছে না কেনো। কেনো মনে হচ্ছে এই ছবিগুলোকে, ছবির মানুষটাকে সে এই প্রথমবার দেখছে। কি করে সম্ভব এটা। দু’ কান চেঁপে এক চিৎকার দিয়ে বসে পড়লো তিতির। তারপর আরাফের দিকে তাকিয়ে কাঁদো কাঁদো মুখ করে বললো-
-‘ বিশ্বাস করুন, আমার কিচ্ছু মনে পড়ছে না। আমি জানি না এসব কি হচ্ছে আমার সাথে। আজকে তো আমার বিয়ের দিন ছিলো।আমি পার্লারে গিয়েছিলাম। তারপর বের হওয়ার পর কেউ একজন আমার মুখে রুমাল চেপে ধরে। আমি জ্ঞান হারাই। এর বেশি আমি আর কিচ্ছু জানি না বিশ্বাস করুন। আমি এখনো বলবো আপনার কোথাও একটা ভুল হচ্ছে।’
আরাফের ওর কথাগুলো শুনে দুদিকে ঘাড় বাঁকালো। তারপর একটানে তিতিরকে বসা থেকে উঠিয়ে একেবারে ওর মুখের কাছে আনলো। দু’জনের মাঝে এখন এক ইঞ্চিও দূরত্ব নেই। তিতির হাতে হ্যাঁচকা টান খেয়ে ব্যাথায় গোঙাতে লাগলো। কিন্তু সেদিকে নজর নেই আরাফের। মাথায় খুন চেপেছে ওর। নিজের বউ কি না বলছে তাদের বিয়ের কথা তার মনে নেই। প্রচন্ড রাগের মধ্যেও পেট চেঁপে হাসি পেলো আরাফের। তিতির কি বুঝতে পারছে না আরাফ কতটা ভয়ংকর হতে পারে ওর জন্য? নাহ্, বুঝতে পারছে না আর হয়তো এজন্যই এখনো আরাফকে না চেনার ভান করছে।
বাঁকা হাসলো আরাফ। তারপর এক হাত দিয়ে দরজার লক খুললো আর আরেক হাত দিয়ে তিতিরকে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো দরজার বাইরে। তিতির হাতে আবারও টান খেয়ে ব্যাথায় আর্তনাদ করে উঠলো। তারপর দাঁতে দাঁত চেপে চোখের কান্না এক হাত দিয়ে মুছে বলল-
-‘এতই যখন ভালোবাসেন আপনার বউপাখিকে তাহলে বারবার এভাবে ব্যাথা দিচ্ছেন কেনো তাকে?’
তিতিরের দিকে না তাকিয়েই আরাফ বলল-
-‘তোমাকে কাছে না পেয়ে এতদিন আমি যে ব্যাথা সহ্য করেছি তার কাছে এই ব্যাথা কিছুই না বউপাখি’
তিতির অবাক হলো লোকটার কথা শুনে। ওর কান্নার দমক বাড়লো। তারপর সেই কান্নার ভিতরেই বলল-
-‘কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে আপনি, আমি কোথাও যাবো না আপনার মতো পাগলের সাথে!’
আরাফ হাসলো, ভীষণ জোরে হাসলো।যে হাসির আওয়াজ তিতিরের অন্তর আত্মা কাঁপিয়ে দিলো। এখানে হাসির তো কিছু বলেনি তিতির। তাহলে লোকটা এভাবে হাসছে কেনো? এসব ভাবনা চিন্তার মধ্যেই তিতিরকে গাড়িতে ওঠালো আরাফ। তারপর তিতিরের সিট বেল্ট পড়িয়ে দেয়ার সময় ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল-
-‘প্রথম বিয়ে মনে নেই তো কি হয়ছে? আমরা আবার বিয়ে করবো বউপাখি। এই আরাফ চৌধুরী তার বউপাখিকে শুধু একবার নয়, হাজারবার বিয়ে করতেও রাজি আছে।’
চলবে।