#মুখোশ || ৭ম পর্ব
বাড়ি ফিরতে ফিরতে দিনের আলো ফুরিয়ে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। ধীরে ধীরে চারপাশটাকে ঘিরে ধরলো সন্ধ্যার নরম অন্ধকারে। গ্রামের কাঁচা রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেহগনি আর সেগুন গাছগুলোর ছায়া লম্বা হয়ে মাটির বুকে গড়িয়ে পড়েছে। স্নিগ্ধ বাতাসে ভেসে আসছে হালকা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ মনে হচ্ছে যেন আসন্ন কোনো অশনি সংকেত আগাম জানিয়ে দিতে চাইছে প্রকৃতি।
শীতের দিনের সন্ধ্যেটা বড়ই নিষ্ঠুর; যেন ঝুপ করেই নেমে পড়ে। নিরিবিলি গ্রামটা তখন আরও স্তব্ধ, আরও গম্ভীর হয়ে ওঠে। চারপাশের নিস্তব্ধতার মধ্যে বেলা পড়তেই বাতাসের বেগটাও যেন হঠাৎই বেড়ে যায়। কনকনে ঠান্ডা হাওয়া হাড়ে হাড়ে ঢুকে পড়ে, শরীর শুদ্ধ কাঁপিয়ে দেয় তখন। মনে হয় অদৃশ্য কোনো শীতল হাত চারদিক থেকে পেচিয়ে ধরছে।
পিয়াস তার চাদরটা গায়ে মুড়িয়ে দিয়ে জুবুথুবু হয়ে চুপচাপ হেঁটে চলেছে। মাথার ভেতর হাজারো প্রশ্নের ভিড়, অথচ কোনোটারই স্পষ্ট উত্তর তার জানা নেই। পাশে হাঁটতে থাকা রুদ্র দা ও একদম নিরুপদ্রব। চোখে-মুখে সেই চিরচেনা স্থিরতা, যেন চারপাশের অদৃশ্য টানাপোড়েন তাকে স্পর্শই করছে না।
হঠাৎ রুদ্র দা থেমে গিয়ে বললেন,’পিয়াস,’
গলার স্বর খানিকটা নিচু, কিন্তু তীক্ষ্ণ।
পিয়াস থমকে তাকিয়ে উত্তর দিলো,’হ্যাঁ দাদা?’
‘তোমাদের গ্রামটা তো বেশ সুন্দর। আচ্ছা একটা কথা,তোমাদের বাড়ির আশেপাশে কি কেউ সাম্প্রতিক সময়ে নতুন এসেছে? মানে তোমার চোখে পড়েছে; আত্মীয় বা এমন কেউ যার উপস্থিতি আগে ছিল না।’
পিয়াস একটু ভেবে নিয়ে বললো,
‘না… তেমন কেউ তো মনে পড়ছে না। তবে ক’দিন হলো আমার একটা বন্ধু ফিরেছে৷ নাম সাদিক। অনেকদিন গ্রামে ছিলো না,কোথায় ছিলো তা-ও কেউ জানতো না। ক’দিন হলো ফিরেছে।’
‘আচ্ছা।’
রুদ্র দা আর কিছু বললেন না। আবার হাঁটা শুরু করলেন। কিন্তু পিয়াস লক্ষ্য করলো তার চোখজোড়া চারপাশ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে। রাস্তার মোড়, গাছের আড়াল, বাড়িঘর সবকিছুই যেন নীরবে নজরদারি করে চলেছেন তিনি।
একটা সময় বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছাতেই পিয়াসের বুকটা হঠাৎ করে কেমন ভারী হয়ে উঠলো। দূর থেকেও বাড়িটাকে কেমন নিথর দেখাচ্ছে। মনে হচ্ছে গভীর ঝড়চ্ছ্বাসের পর সবকিছু হারিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে।
এটাই কি সেই বাড়ি, যে বাড়িটা কয়েকদিন আগেও হাসি-আড্ডায় ভরপুর ছিল অথচ এখন যেন এক অদ্ভুত নীরবতায় ঢেকে আছে।
পিয়াস রুদ্র দাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির সদর দরজা পেরোতেই তাদের চোখে পড়লো, রোয়াকে এক ষাটোর্ধ পুরুষ চেয়ারে বসে আছেন। তার চোখের নিচে গভীর কালো দাগ, কাঁধ খানিকটা ঝুলে পড়েছে। বয়সের ভারে নয়, মনে হচ্ছে নীরব যন্ত্রণার বোঝা কাঁধে তুলে রেখেছেন।
পিয়াস এগিয়ে গিয়ে রুদ্র দার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন, ‘দাদা, ইনি হলেন আমার বাবা;আজিজুল হক। বাবা, এটা আমার অফিস কলিগ রুদ্র দা, শহরের বড় ভাই। রিম্পার মৃত্যুর খবর শুনে এসেছেন।’
আজিজুল হক জোর করে এক চিলতে হাসার চেষ্টা করলেন,কিন্তু হাসি এলো না মুখে। বিরস মুখে বললেন,’ ওহ, উনাকে একটা চেয়ার দাও তো বউমা।’
রুদ্র দা তার চিরচেনা হাসিটা ফুটিয়ে খানিকটা মাথা নুইয়ে হাত জোড় করে সম্ভাষণ জানালো,তারপর বললো,’ আংকেল আমাকে ‘উনি’ বলে সম্বোধন না করে ‘তুমি’ করে বললেই বেশি খুশি হবো। আমিও তো আপনার ছেলের মতই।’
আজিজুল হক কিছুক্ষণ মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন,’ আচ্ছা ঠিক আছে বাবা৷’
সারা ভিতর থেকে একটা কাঠের চেয়ার এনে দিতেই রুদ্র দা চেয়ারটাতে বসলেন। তারপর ঘাড় ঘুরিয়ে বাড়িটাকে একবার পরোখ করে নিয়ে বললেন,‘দুঃখের খবরটা শুনে আর থাকতে পারলাম না। জানি আপনাদের মনের অবস্থা এখন কতটা দূর্বিষহ, এর ভিতরে আবার আমি এসে গেলাম। আপনাদেরকে মনে হয় কিছুটা সমস্যায় ফেলে দিলাম।’
‘না বাবা, এসে খুব ভালো করেছো। ছেলেটা একা একা কি করছে না করছে কিছুই জানিনা৷ তুমি আসায় ছেলেটাও একটু ভরসা পাবে।’
দুজনার কথার মাঝে হঠাৎ করে ভিতর থেকে পিয়াসের মা বের হয়ে এলেন। তার চোখেমুখে একরাশ বিষন্নতা, চোখ জোড়া কেমন অদ্ভুতভাবে লাল হয়ে আছে।
পিয়াসের মা’কে দেখে রুদ্র দা চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে প্রণাম করতে গেলেন। কিন্তু নূর জাহান বেগম একটু অপ্রস্তুত হয়ে সরে গিয়ে তাড়াতাড়ি বললেন,’তোমাকে আমি চিনিনা, তবে এই দুঃখের দিনে এতদূর থেকে যে আমাদের জন্য এসেছো, এটা শুনে খুব ভালো লাগলো। বেঁচে থাকো, বাবা।’
বাবা-মায়ের সাথে কুশল বিনিময়ের পর, পিয়াস একসময় বলল,’দাদা, চলুন আগে একটু বিশ্রাম করে নিন। এতটা পথ এসেছেন,বিশ্রাম নিয়ে তারপর না হয় কথাবার্তা বলবেন।’
পাশ থেকে আজিজুল হক বললেন,’ খোকা তোরা না হয় উপরের ঘরটাতে থাক ক’টা দিন। রুদ্র বাবা তোদের ঘরটাতেই থাকুক।’
রুদ্র দা অসম্মতি জানিয়ে বললেন,’ আমার জন্য এত কষ্ট করার কোনো…. দরকার নেই। আমি একা মানুষ মাথা গোঁজার মত একটা ছাদ হলেই হবে। পিয়াস চলো আমাকে উপরের ঘরটা দেখিয়ে দাও। খোলা আকাশের নিচে থাকতে খুব একটা মন্দ হবেনা।’
অবশেষে রুদ্র দার জোরাজোরিতে তার থাকবার জন্য উপরের ঘরখানায় ঠিক হলো। সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠার সময় রুদ্র দাকে নিচের ডান দিকে থাকা ঘরটার দিকে তাকাতে দেখে পিছন থেকে পিয়াস নিচু স্বরে বলল, ‘ওই ঘরটাতেই রিম্পা থাকতো। এখন খালিই পড়ে আছে। ওইদিনের পর থেকে মা কয়েকবার ঢুকলেও আমরা আর কেউ ঢুকিনি ঘরটাতে।’
রুদ্র দা আর কিছু বললেন না। সিড়ির ধাপ বেয়ে উপরে উঠে গেলেন চুপচাপ।
চিলেকোঠার ঘরটা বেশ পছন্দ হলো রুদ্র দার। ছাদের ঠিক মাঝখানে নিরিবিলি, ছিমছাম ছোট্ট একটা ঘর যেন খোলা আকাশের নিচে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘন্টা খানেক পর পিয়াস আবার উপরের ঘরে গেলো। রুদ্র দা তখন বিছানায় বসে বসে একমনে কিছু একটা ভাবছিলেন। পিয়াসকে আসতে দেখে বলে উঠলেন,’আরে পিয়াস যে,আসো ভিতরে আসো।’
পিয়াস ভিতরে গিয়ে দাঁড়ালো,তারপর বললো,’ দাদা,বাবা আপনাকে ডাকছে। জানি আপনি এত জলদি রাতে খান না,কিন্তু গ্রামের মানুষ তো বুঝতেই পারছেন বেশি রাত করে খাওয়াটা পছন্দ করেনা। বাবা অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।’
রুদ্র দা সাতপাঁচ না ভেবে বললেন,’ খেতে ডাকছেন? চলো তাহলে। যেখানে যেমন সেখানে তেমন এটা কোন প্রাণী করে বলো তো?’
পিয়াসকে চুপ থাকতে দেখে রুদ্র দা বললেন,’কি হলো পারছো না? আরে গিরগিটি। আচ্ছা চলো এখন যাওয়া যাক।’
রাতের নৈশভোজে বসে রুদ্র দা বললেন,’ আংকেল রিম্পা হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত কেন নিলো সে বিষয়ে কোনকিছু জানতে পেরেছেন?’
আজিজুল হক খাবার খাওয়া থামিয়ে বললেন,’না বাবা। এটা জানতে পারলেও তো মনটা একটু শান্তি পেতো। হাসি খুশি থাকা একটা মেয়ে হঠাৎ করে কেন এমন করলো এই প্রশ্নটা তো আমাকেও কুরে কুরে খাচ্ছে।’
‘পিয়াস বলছিলো রিম্পার মৃত্যুর পর রিম্পার পোস্টমর্টেম করাতে রাজি হন নি আপনি। এটা করলে কিছু না কিছু জানতে পারতেন। কেন করালেন না তাহলে?’
আজিজুল হক থমথমে মুখে চেয়ে থেকে বললেন,’করাতে রাজি হয়নি বললে ভুল হবে,আমার তো কোনো আপত্তি ছিলো না,পোস্টমর্টেম করাতে। কিন্তু তোমার চাচি, মেয়ের মৃত্যুর পর শরীরটাকে নিয়ে টানাটানি করাতে অমত জানিয়েছিলো তাই আমিও আর জোর করিনি। আর তাছাড়া পুলিশি ঝামেলায় গেলে আরও কথা উঠতো।’
‘তারপরও উচিৎ ছিলো পুলিশকে পুলিশের কাজটা করতে দেওয়া। আচ্ছা সেসব বাদ,আপনাদের যদি আপত্তি না থাকে আমি কি একবার রিম্পার ঘরটা দেখতে পারি?’
খাবার টেবিলে হালকা শোরগোল উঠলো। আজিজুল হক দ্বিধায় পড়ে গেলেন। পিয়াস তার বাবার দিকে তাকিয়ে কিছু বলার আগেই রুদ্র দা বললেন,‘চিন্তার কিছু নেই। আমি কিছু নাড়াচাড়া করবো না। শুধু একবার ঘরটা দেখবো। আর তাছাড়া আমি তো পুলিশের কেউ নই,দেখার কৌতুহল হচ্ছিলো তাই বললাম।’
এক মুহূর্ত নীরবতার পর আজিজুল হক মাথা নেড়ে সম্মতি দিলেন। খাবার শেষ করে রুদ্র দা পিয়াসকে সঙ্গে নিয়ে রিম্পার ঘরে ঢুকলেন। সারাও পিছু পিছু গিয়ে দাঁড়ালো দোরগোড়ায়। রিম্পার ঘরে ঢুকতেই একটা অদ্ভুত ঠান্ডা অনুভূতি হলো রুদ্র দার। মনে হলো একজোড়া অদৃশ্য চোখ তাকে নিরবে দেখে চলেছে।
সেদিনের পর থেকে পিয়াস নিজেও আর কখনো এই ঘরটাতে আসেনি। এই কয়দিনে ঘরের মেঝেতে সামান্য ধুলো জমা ছাড়া বাকি সবকিছুই আগের মতনই আছে।
রুদ্র দা ধীরে ধীরে পুরো ঘরটা ঘুরে দেখলেন। ঘরের ঠিক মাঝখানে একটা চৌকিখাট রাখা আছে,একপাশে একটা কাপড় রাখার আলমারি আর একটা টেবিল ছাড়া তেমন কোনো আসবাবপত্র নেই। টেবিলের উপর কয়েকটা বই রাখা আছে। সব ক’টায় গল্প-উপন্যাসের বই।
‘রিম্পা কি বই পড়তে পছন্দ করতো?’
রুদ্র দা প্রশ্ন করলেন।
সারা উত্তর দিলো,’ অবসরে মাঝেমধ্যে পড়তো। আমিও পড়তাম। আমার ঘরেও আছে।’
রুদ্র দা এবার মুখ তুলে উপরের দিকে তাকালেন,
কিছুক্ষণ একমনে ফ্যানের দিকে তাকিয়ে থাকার পর বললেন,’ আচ্ছা রিম্পার হাইট যেন কত টুকু ছিলো?’
পিয়াস কিছুক্ষণ ভেবে নিয়ে বললো,’ আমার স্ত্রীর থেকেও একটু খাটো ছিলো রিম্পা।’
রুদ্র দা পিয়াসের কথা শুনে দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা সারার দিকে তাকালেন একবার। তারপর প্রশ্ন গলায় বললেন,’ আচ্ছা সেদিন তো সবার প্রথমে তুমিই ঢুকেছিলে ঘরে তাই না?’
সারা দোরগোড়া থেকে খানিকটা ভিতরে এসে উত্তর দিলো,’ জি,কিন্তু কেন?’
‘সেদিন ঘরে ঢোকার পর ঘরের সবকিছু এমনি ছিলো, মানে বা অন্যকিছু এখন যেমনটা আছে? একটু ভালো করে দেখে বলো তো।’
রুদ্র দার কথামত সারা গভীর মনোযোগ দিয়ে রিম্পার ঘরটাকে একবার পরখ করে নিয়ে বললো,’ হ্যাঁ দাদা,এমনটাই ছিলো।’
‘এই ঘরে কোনো চেয়ার বা টুল দেখছি না যে। টেবিল থাকলে তো একটা চেয়ারও থাকার কথা।’
সারা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো,’ না দাদা। রিম্পা তো এই ঘরে খুব একটা থাকতো না। পিয়াস তো বেশিরভাগ বাইরেই থাকতো। তাই রিম্পা আমার সাথেই থাকতো,ওর ব্যবহারের সব জিনিসপত্রও আমার ঘরেই থাকতো।
রুদ্র দা আবার ফ্যানের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড়িয়ে বললেন,’একজন পাঁচ ফুট উচ্চতার মানুষ কোনোরকম চেয়ার বা টুলের সাহায্য ছাড়ায় খাট থেকে সিলিং ফ্যান অবধি হাত বাড়িয়ে ফ্যানের সাথে ফাঁসটা বাধলো কীভাবে? স্ট্রেঞ্জ!
রুদ্র দা এবার এগিয়ে গিয়ে জানালার পাশে দাঁড়ালেন, তারপর সারাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,’সেদিন সকালে যখন প্রথমবার ঘরে ঢুকেছিলে ঘরের জানালাটা কি খোলা ছিলো নাকি বন্ধ?
সারা উত্তর দিলো,’ খোলায় ছিলো। রিম্পা মারা যাওয়ার পর জানালাটা আটকে দেওয়া হয়েছে।’
রুদ্র দা এবার পিয়াসের দিকে ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে বললো,’ কিছু বুঝলে পিয়াস?’
‘কি দাদা?’
‘রিম্পা আত্মহত্যা করেনি। তাকে কেউ খুন করেছে। প্রথমত কেউ এতদূর হাত উঠিয়ে ফাঁস বাঁধতে পারলেও ঝুলে পড়ার জন্য অন্তত উঁচু কিছু একটা লাগতো পায়ের নিচে রাখার জন্য আর দ্বিতীয়ত কেউ আত্মহত্যা করার সময় অবশ্যই জানালা খোলা রেখে আত্মহত্যা করবে না।’
পিয়াস হকচকিয়ে উঠলো। আসলেই তো,এইগুলো তো তার মাথায় আসেনি।
রুদ্র দা আরও কতক্ষণ ঘরের এপাশ ওপাশ ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলেন। তারপর রিম্পার বিছানার কাছে গিয়ে খানিকটা ঝুঁকে পড়ে কিছু একটা দেখতে লাগলেন মনোযোগ দিয়ে। খাটের ঠিক নিচে, মেঝের এক কোণে,কোনকিছু আঁচড়ের দাগ,অনেকটা ভারি কোনকিছু টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেলে মেঝের উপরে ঠিক যেমন দাগ পড়ে তেমনটা।
রুদ্র দা, পিয়াস আর সারার দিকে তাকিয়ে কঠিন গলায় বললেন,’ তোমরা কি কিছু লুকাচ্ছো আমার কাছে? তোমার স্ত্রী বলছে এই ঘর থেকে কোনকিছুই সরানো হয়নি অথচ মেঝের দাগ স্পষ্ট বলে দিচ্ছে এই রুম থেকে কিছু একটা বার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কি সেটা? দ্যাখো আমি এর আগেও বলেছি এখনো বলছি যদি সত্যিটা জানতে চাও তাহলে আমার কাছে কোনকিছু লুকিয়ো না।
এমন সময় পিয়াস দের ঘরের ঠিক পিছনের দিক থেকে একজন পুরুষের চিৎকার চেচামেচি ভেসে এলো সবার কানে। চিৎকার শুনে রুদ্র দা থেমে গিয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে বাইরের দিকে ছুটে গেলেন।
তারপর বাড়ির পিছনে যেতেই দেখলেন অন্ধকারের মাঝে কেউ একজন মাটির উপরে পড়ে কোকাচ্ছে। মুখ দিয়ে অস্ফুট স্বরে গোঙানি বেরিয়ে আসছে তার।
পিয়াস পিছু পিছু এসে অন্ধকারে মোবাইলের আলো ফেলতেই বলে উঠলো,’ সাদিক!’
চলবে….
#আশিক_মাহমুদ

