#তুমি_বৃষ্টি_হয়ে_নামলে
#পর্বঃ১৪
#লেখনীতে_তানিয়া
“ডাক্তার স্বামীরা কি এমনই নিষ্ঠু”র হয়? স্বামী বিয়ের পরের দিনেই নতুন বউকে রেখে কাজে চলে গেছে। সারাদিন কোনো কথা নাই। খোঁজ খবর নাই। ফোন করে একটু জানতেও চায় না কেমন আছি? খাইছি কিনা? আমার স্বামীর জন্য বুকের মধ্য ব্যাথা করে আর সে দিব্যি আছে নিজের মতো। আমি জানিতো তুমি আমাকে বিয়েটা মন থেকে করোনি। মন থেকে করলে ঘরে অসুস্থ নতুন বউ রেখে এভাবে যেতে পারতা? আমার স্বামী আমাকে ভালোবাসে না। কি কপাল আমার!!!
এই দিয়ে গত দুই ঘন্টায় পাঁচবার কল দিয়েছে জাফরিন। প্রতিবারই কল করে এই একটা কথাই বলে যাচ্ছে নয়তো হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস রেকর্ড করে পাঠাচ্ছে। নিয়াজ পড়েছে মহা মুশকিলে। জাফরিনকে ও কিইবা বলবে। আসলে বিষয়টাই এমন বেকায়দা হয়ে গেছে। যেকোনো মানুষের কাছেই এটা বিরক্তিকর আচরণ হবে যে বিয়ের পরদিনই ঘরে নতুন বউ রেখে স্বামী কাজে গেছে। নিয়াজ জাফরিনকে প্রতিবারই বোঝাচ্ছে। সে তাড়াতাড়ি বাড়ি আসার চেষ্টা করবে। হাসপাতালের অফিস টাইম শেষ হলেই চলে আসবে। কিন্তু কে শোনে আর কে বুঝে তার কথা। জাফরিনের সেই এক কথা কখন আসবা? তাড়াতাড়ি আসো। এই যে মিনিট দশেক আগেই জাফরিন নিয়াজকে কল করেছিলো। রোগী দেখার সময়। একবার ফোন বেজে গেছে। আবার ফোন দিয়েছে। নিয়াজ দ্রুত ওষুধ লিখে রোগী বিদায় করে দিয়ে কলটা ধরে। নিয়াজ বলে,
” হ্যা জাফরিন বল। দ্রুত বলবি। রোগীর অনেক ভীড় এখন “।
জাফরিন মেকি কান্নার স্বরে বলে,
” তুমি আমাকে বউ বলে মানতে পারছো না তাইনা? এইজন্য নাম ধরে ডাকতেছো আবার তুই বলাও ছাড়তে পারতেছো না। মানুষের বর দেখি বউকে কত কিউট কিউট নামে ডাকে আর তুমি আমাকে নাম ধরে ডাকতেছো”।
নিয়াজের এই কথা শুনে ভিমড়ি খাওয়ার মতো অবস্থা৷ সামনে একটা মহিলা বাচ্চাকে নিয়ে বসে আছে ডাক্তার দেখাবে বলে। এরই মধ্য এই মেয়ের এসব আজগুবি কথা। জাফরিনতো এরকম ইমম্যাচিউর না নাকি নিয়াজকে বিয়ে করে সে এরকম স্বামী পা”গল হয়ে গেলো বুঝতে পারছে না নিয়াজ। নিয়াজ ধীর গলায় বললো,
” আমি একটু পরে তোকে কল দিচ্ছি। এখন পেশেন্ট দেখতে হবে “।
নিয়াজের বলতে দেরি কিন্তু জাফরিনের কল কা” টতে দেরি হয়নি। খট করে টুট টুট হয়ে কল কে”টে যাওয়ার শব্দ পেলো সে। তার আসলেই কিছু করার নেই। ডাক্তারদের জীবন এমনই। নিজের জীবনের আগে মানুষের জীবন রোগ শোক নিয়ে ভাবতে হয়। নিয়াজ মনে মনে ভাবলো রোগী দেখা শেষ করে মেয়েটার মান ভাঙাবে। আবার সে রোগী দেখায় মন দিলো। প্রায় ঘন্টাখানেক পর রোগীর চাপ কমলো। প্রায় নেই বললেই চলে। আগামী সাতদিন ছুটি নিয়েছে সে। কোনো অনিবার্য জরুরি কল ছাড়া সে হসপিটালে আসবে না। আউটডোর পেশেন্ট দেখার সময়ও সাতদিন অবধি স্থগিত করেছে। নিয়াজ পকেট থেকে ফোনটা বের করে কল লিস্ট দেখলো। না জাফরিনের আর কল বা মেসেজ আসেনি। মেয়েটা অনেক অভিমান করেছে হয়তো। নিয়াজ কল করলো জাফরিনকে। কল করার সাথে সাথেই জাফরিন কলটা রিসিভ করে যেনো নিয়াজের কলের অপেক্ষাতেই ছিলো। নিয়াজ বললো,
” ফোনের কাছেই ছিলি? আমাকে মিস করছিস খুব”?
জাফরিনের খুব রাগ হয়। লোকটা আবার তুই করে নাম ধরে ডাকছে। সাধে কি আর তাকে আনরোমান্টিক বলে জাফরিন। জাফরিন কথা বলছে না। চুপ করে আছে। নিয়াজ আবারও বলে,
” তখন ওভাবে বলার জন্য স্যরি। সত্যিই সামনে অনেক পেশেন্ট ছিলো৷ কি করছিস? খেয়েছিস দুপুরে”?
জাফরিন অভিমান করে বলে,
” আমি খেলেই বা কি আর না খেলেই বা কার কি যায় আসে। আমি বাঁচলেই বা কি আর দুনিয়াতে না থাকলেই বা কি? আমি না থাকলেতো কারো জন্য খুব ভালোই হয়। ফোন করে কেউ আর ডিস্টার্ব করবে না। রোগী দেখায় ব্যাঘাত হবে না ”
নিয়াজ বললো,
” কবুল বলে এখনো চব্বিশ ঘন্টাও হয়নি। প্রথম দিনেই এতো অভিমান? তুইতো আমাকে চিন্তায় ফেলছিস। এরকম হলেতো প্রতিদিন তোর মান অভিমান ভাঙাতেই আমার জীবন কাবার হয়ে যাবে রে জাফরিন “।
জাফরিন বলে,
” বলেছিলে কেনো কবুল। না বললেই পারতে”।
নিয়াজ জাফরিনের গলাটা আগের চেয়ে একটু ভারি শুনতে পেলো। তারমানে মেয়েটা কাঁদছে। এই কেমন অবসেশন মেয়েটার নিয়াজের প্রতি। এতো ভালোবাসে নিয়াজকে। কোথায় এতোদিনতো সে দিব্যি দূরে ছিলো তাকে ছাড়া। এখন একটুতেই অভিমান করছে। নিয়াজ মনে মনে ভাবলো গতকাল রাতের শরীরের সাথে শরীর মিশে যাওয়ার সাথে সাথে দুজনের আত্নাটাও হয়তো মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে৷ এজন্য জাফরিন আরও নরম হয়ে গেছে তার প্রতি। নিয়াজ শান্ত স্থির স্বরেই বললো,
” আমার মন বারবার একটা কথাই বলছিলো জানিস? জাফরিনকেই বউ হিসেবে পাওয়ার জন্য কবুল বলতে হবে। জাফরিন নামক রমনী ছাড়া নিয়াজ তোর এই ইহজীবনে কোনো গতি নেই “।
জাফরিনের অভিমান হয়তো একটু কমলো। সে বাচ্চাদের মতো আবদারের সুরে বললো,
” বাড়ি কখন আসবা? আমার তোমাকে ছাড়া ভালো লাগছে না কান্না পাচ্ছে। আদর পাচ্ছে। জলদি আসোনা”।
নিয়াজ হেসে ফেললো। এইভেবেই হেসে ফেললো সে
” মনে হচ্ছে জাফরিন যেনো রবি ঠাকুরের গল্পের ছোট্ট কিশোরী বউ। বর বাড়ি ফিরতে দেরি করকে অভিমান করে মুখ ফুলিয়ে রাখতো “।
নিয়াজ ঘড়ির দিকে তাকালো। তার আজকের মতো হসপিটালের অফিস টাইম শেষ। দুটো বেজে গেছে। পরক্ষনেই নিয়াজ কিছু একটা ভাবলো তারপর বললো,
” এইতো আরও কিছু রোগী আছে শেষ করে তারপর ফিরবো। আর কি বললি আদর পাচ্ছে আচ্ছা বাড়ি এসে এটার ব্যবস্থাও করবো। আচ্ছা রাখছি আপাতত। বাড়ি এসে কথা হবে “।
নিয়াজ হসপিটাল থেকে যাবতীয় কাজ শেষ করে বের হলো আরও আধাঘন্টা পর। জাফরিনকে কিছুই উপহার দেওয়া হয়নি বিয়ের রাতে। ওর জন্য কিছু একটা কিনতে হবে। কিছু শাড়ি আর পড়ার মতো ড্রেসও কিনতে হবে। নতুন বউ পুরান জামাকাপড় পড়বে ভালো লাগছে না তার এটা। যেই ভাবা সেই কাজ। বেশ বড় একটা শপিং মলে গেলো সে। প্রথমেই গেলো গহনার দোকানে৷ জাফরিনের জন্য সুন্দর দেখে একটা ডায়মন্ড এর নাকফুল কিনলো সে। নাকফুল ছাড়া বিবাহিত মেয়েদের নাকি খাকি খালি লাগে। এরপর কিনলো সোনার একজোড়া ঝুমকো কানের দুল। বেশি বড় না আবার ছোট না। ভারিও না খুব একটা। যাতে যখন মন চায় পড়তে পারে। শাড়ির দোকানে গিয়ে বেছে বেছে পাচঁটা শাড়ি কিনলো সে নিজের পছন্দে। এরপর কিনলো কয়েকটা রেডিমেড ড্রেস। মানুষ বিয়ের আগে বউয়ের জন্য শপিং করে আর সে বিয়ের পরে করছে। সব শপিং শেষ করে বাসার জন্য কয়েক পদের মিষ্টি কিনে বাড়ির দিকে রওনা হলো। নিয়াজের বাড়ি পৌছাতে বিশ মিনিটের মতো সময় লেগেছে। জাফরিন এই বাড়িতেই আছে। দুই ফ্ল্যাটের দরজাতেই ডোর বেল দিলো সে। এক দুই মিনিটের মধ্য জাফরিনদের বাসার দরজা খুলে গেলো। জাফরিনের মা দরজা খুলেছে। জাফরিনের মা বললো,
” বাবা এসেছিস। ওই বাসায় কেউ নেই। বড় ভাবী এখানেই আছে। আয় ভেতরে আয় বাবা।
জাফরিনের মা আরও বললো
“তোর পাগ”লী বউ তুই অফিসে যাওয়ার পর থেকে সেই যে ঘরে ঢুকেছে বের হয়নি। দুপুরে কিছু খায়ও নি। শুধু বলছে তোমার জামাই আসলে খাবো । বললাম ডাক্তার স্বামী তোর। তার আসার কি ঠিক আছে? শরীরটাতো একটু অসুস্থ। তাই তোর মাকে ডেকে নিয়ে এসেছি। শ্বাশুড়ি আসলো, বুঝালো আবার খাইয়েও দিয়েছে। আর হ্যাঁ দুপুরের খাবার কিন্তু তোর বউই রান্না করেছে আজকে”।
নিয়াজ হাতের ব্যাগগুলো নিয়ে ভেতরে ঢুকে বসার ঘরে এসে সোফায় রাখলো। তার মা এখানেই বসে আছে। ছেকেকে দেখা মাত্রই বললো,
” তোর তাহলে রোগী দেখা শেষ হলো? বিয়ের পরেরদিনেই নতুন বউ রেখে হসপিটালে কে যায়? দুনিয়াতে কি খালি তুই একাই ডাক্তার? হসপিটালে তুই ছাড়া আর ডাক্তার নাই? ডাক্তারদের ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু নাই? বউ বাচ্চা থাকে না তাদের? অন্তত আজকের দিনতো ছুটি নিলেই পারতি। মেয়েটাকে বিয়ের প্রথম দিনেই কাঁদালি তুই। তোর আক্কেল জ্ঞান এর তারিফ করতে হয় বাবা”।
নিয়াজ চুপচাপ শুনলো। একদিনেই তার মা সাইড বদল করেছে। এতোদিনতো একজন এর বকা খেয়েই কুল পেতো না সে এখন আরেকজন এসে জুটেছে। আমতা আমতা করে বললো,
” হসপিটালে যাওয়াটা দরকার ছিলো। হঠাৎ করেই সব হলো। ছুটি নেওয়া হয়নি এজন্য যেতে হয়েছে। ছুটি নিয়েছি সাতদিন ”
নিয়াজের মা আর কথা বাড়ালো না। এদিকে নিয়াজ মিষ্টির প্যাকেট আর দুইটা শাড়ির আলাদা ব্যাগ মা আর শ্বাশুড়ির হাতে দিয়ে বললো,
” এখানে বাসার সবার জন্য মিষ্টি আছে। অন্য দুইটা ব্যাগে তোমাদের দুজনের জন্য শাড়ি। আর এই যে আরেকটা ব্যাগ এখানে শ্বশুর বাবার জন্য পাঞ্জাবী আছে”।
নিয়াজ জাফরিনের মাকে বললো,
” তোমার মেয়ে কি করে”।
জাফরিনের মা বললো,
” কাদঁতে কাঁদতে এপাশ ওপাশ করতে করতে ঘুমিয়ে গেছে দেখে আসলাম”।
নিয়াজ বাকি শপিং ব্যাগগুলো নিয়ে জাফরিনের ঘরের দিকে যায়। ঘরে ঢুকে নিয়াজ আরেকদফা ভিমড়ি খায়। বউ তার ঘুমিয়ে আছে ঠিক আছে কিন্তু যেভাবে ঘুমিয়ে আছে তাতে নিয়াজ শুকনো ঢোক গিললো। বউ তার শাড়ি পড়ে ঘুমাচ্ছে। বুকের কাছে শাড়ির আচঁল ঠিক নেই। পেটের অংশ অনেকটাই উন্মুক্ত। পায়ের কাছেও কাপড় অনেকটা উঠে আছে যার জন্য ফর্সা পা উন্মুক্ত হয়ে আছে। হাতের ব্যাগগুলো কোনোরকমে সাইডে রেখে বউয়ের কাছে যাওয়ার জন্য আগায় সে।
বউয়ের কাছে গিয়ে বসে। ভালো করে বউকে দেখতেই সে বুঝতে পারে জাফরিন কেঁদেছে কিন্তু কাঁদার পর চেহারার জেল্লা আরও বেড়ে গেছে। জাফরিনের গোলাপের পাপড়ির মতো ঠোঁট দুটো নিয়াজকে তীব্রভাবে টানছে৷ ঠিক যেমন করে সুনামি ধেয়ে আসে সমুদ্র থেকে লোকালয়ে। নিয়াজ নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারলো না। ঘুমন্ত বউকে সন্তপর্ণে দুহাত পিঠের নিচ দিয়ে গলিয়ে নিয়ে কাছে টানলো সে। তারপর সাদাগোলাপী রং মিশেলের র্ঠোঁট জোড়া প্রবল আকর্ষনে আকড়ে ধরলো। এমনভাবে তার উপর দখল নিলো যেনো কতদিন এটা তার বেদখলে ছিলো। নিয়াজের উন্মা”দনার ঘোরের স্পর্শ পেতেই জাফরিনের ঘুম ছুটে গেলো। চোখ খুলতেই দেখলো এটা নিয়াজ। তারপর আবার ঘুমানোর ভান করে চোখ বন্ধ করে ফেললো সে। কতক্ষন নিয়াজ এভাবে মত্ত্ব হয়ে ছিলো দুজনের কেউ জানে না। পিন থেকে শাড়ির আচঁল পুরোপুরি আলাদা হয়ে যখন নিয়াজ জাফরিনকে আরও অবাধ্য স্পর্শে টালমাটাল করে ফেললো তখন নিয়াজ জাফরিনকে বললো,
” আজকে এতো পাগলামি করছিস কেনো? আমাকে কি একদিনে বেঘোরে শেষ করার ফন্দি আছে তোর”?
জাফরিন জবাব দেয়না। চুপ করে আছে। নিয়াজ জাফরিনের চুপ থাকাকে মৌন সম্মতি ধরে নিয়ে তার একচ্ছত্র আধিপত্যের বিস্তার আরও বাড়ালো। দুজন মানব মানবীর মধ্য চিরচেনা আদিম কার্যালাপে এখন কোনো কথা হোক তারা চাইছে না। এই ঝড় তারাই সামলাতে চাইছে। বেশ কিছুক্ষণ পর ঝড়ের পরিস্থিতি শান্ত হলে নিয়াজ জাফরিনকে বললো,
” গতকাল রাতে তোকে কোনো উপহার দিতে পারিনি। আজকে নিয়ে এসেছি। দেখতো তোর পছন্দ হয় কিনা?
নিয়াজের প্রশস্ত বুকে এলোমেলো হয়ে থাকা জাফরিন মুখ তুলে তাকালো। স্বামীর মুখে উপহারের কথা শুনে চোখে মুখে হাসি ফুটে উঠলো তার। বিয়ের পর স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া প্রথম উপহার ৷ ছোট বড় যাই হোকনা কেনো সেটা অনেক স্পেশাল। নিয়াজ বেড এর পাশে রেখে দেওয়া গিফট এর ব্যাগগুলো উঠায়। জাফরিন অনেক উচ্ছাস আর কৌতুহল নিয়ে ব্যাগের দিকে তাকিয়ে আছে। এতোগুলো ব্যাগ। নিয়াজ সবার নাকফুলের বক্সটা বের করে খুলে জাফরিনের সামনে ধরে। জাফরিন বলে,
” নাকফুল “!!!!!!!
নিয়াজ বললো,
” হ্যাঁ। নাকফুল ছাড়া তোকে খালি খালি লাগছে। মনে হচ্ছে কি যেনো নেই৷ নাক কি ফুটো করা আছে নাকি করতে হবে”?
জাফরিন বললো,
” আছেতো। নোজপিন একটা ছোট্ট দিয়েই রাখতাম। এখানে এসে খুলে রেখেছি”।
নিয়াজ বললো,
” তাহলে এটা আমি পড়িয়ে দিচ্ছি”।
নিয়াজ নাকফুল পড়িয়ে দেয় যত্ন করে। একটু ব্যাথা পেলেও জাফরিনের কিছু মনে হয় না। নিয়াজ দেখলো নাকফুলটা বউয়ের নাকের উপর একদম চকচক করছে। কি সুন্দর লাগছে মেয়েটাকে দেখতে। এবার অন্য উপহারগুলোর পালা। জাফরিন ঝুমকো জোড়া দেখেও অনেক খুশি হয়। ডিজাইনটা অনেক সুন্দর। না ভারি আর না খুব হালকা। শাড়ির সাথে অনেক সুন্দর মানাবে। সব গাড়িগুলোই অনেক সুন্দর। একটা রয়্যাল ব্লু জামদানি শাড়ি নিয়ে এসেছে নিয়াজ। শাড়িটা নিজের উপর ধরে মেলে দেখলো। নিয়াজ বললো,
” শাড়িগুলো পছন্দ হয়েছে”?
জাফরিন লাজুক মুখে বলে,
” অনেক বেশি পছন্দ হয়েছে। খুবই পছন্দ হয়েছে।
নিয়াজ বলে,
” তাহলে রেডি হয়েনে। সন্ধ্যায় পদ্মার পাড়ে যাবো।
জাফরিন চমকে গিয়ে নিয়াজের দিকে তাকায়। তাদের বিয়ে হয়েছে খুব ঘরোয়া ভাবে। কাউকেতো বলা হয়নি তেমন। সে এখনো স্বামীর বাড়িতেও যায়নি। সে ভেবেছিলো নিয়াজ বিয়ের বিষয়টা এখনই কাউকে জানাতে চায়না কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে বাইরে বেড়াতে নিয়ে যেতে চাইছে। নিয়াজ জাফরিনকে তার দিকে চেয়ে থাকতে দেখে প্রশ্ন করে
” কি হয়েছে? বিয়ে করেছি আমার বউকে আমি ঘুরতে নিয়ে যাবো কারো সমস্যাতো হওয়ার কথা না। আমারতো কোনো সমস্যা নেই “।
জাফরিনের মুখে হাসি ফুটে উঠে। সে যেইটা নিয়ে চিন্তায় ছিলো সেইটা এখন নেই। সানন্দে শাড়ি গয়না হাতে নিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়। নিয়াজের দেওয়া জামদানি শাড়ি আর কানে ঝুমকো জোড়া পড়ে সে। শ্বাশুড়ি আর মাকে গিয়ে দেখায় স্বামীর দেওয়া উপহার। তাদের দুই মাই অনেক খুশি হয় এটা দেখে। দুজন মিলেই জাফরিনকে রেডি করে দেয় বাহিরে যাওয়ার জন্য। খুব বেশি সাজেনি জাফরিন। সেতো এমনিতেই সুন্দর। হালকা করে সেজেছে। সন্ধ্যার একটু আগে আগে তারা বের হয়। পদ্মার পাড়ে পৌছাঁতে তাদের বাড়ি থেকে বেশি সময় লাগে না। স্বামীর সাথে রিকশায় হাওয়া খেতে খেতে বেড়াতে যেতে জাফরিনের বেশ ভালো লাগছে। উঁচু নিচু রাস্তা বলে ঝাঁকুনি খাচ্ছে তারা। জাফরিন নিয়াজের শার্টের কোণা ধরে রেখেছে। এটা দেখে নিয়াজ বউয়ের হাতটা শক্ত করে ধরে। জাফরিন এর কাছে আজকের দিনটা অনেক বেশি খুশির দিন মনে হয় ঠিক যেমন ঈদ এর আগের দিন চাঁদরাতে মানুষ যেমন খুশি থাকে তেমন। মিনিট পনেরো এর মধ্যই তারা পদ্মার পাড়ে পৌছাঁয়। পদ্মার পাড়ে যেতেই একটা ঠান্ডা মুক্ত বাতাস তাদের গা ছুঁইয়ে দেয়। এইটা অদ্ভুত একটা শান্তি দেয়। শরীর যত ক্লান্তই থাকুক এখানে এই বাতাসে আসলে মন ভালো হয়ে যায়। টং এর দোকানে দুকাপ চায়ের কথা বলে একটু এগিয়ে গিয়ে তারা একটা জায়গায় বসে। এরই মধ্য কিছুক্ষন পর কয়েকটা পিচ্চি ছেলেমেয়ে হাতে কদম ফুলের তোড়া নিয়ে এদিক ওদিক দৌড়াঁতে দেখে তারা। জাফরিনের কদম ফুল অনেক পছন্দ। জাফরিন কদম ফুল দেখতেই বলেব,
” কি সুন্দর কদম ফুলগুলো। এখানে আশেপাশে কোথাও বিক্রি করতেছে নাকি”?
নিয়াজ বাচ্চাদের ডেকে নিয়ে বলে,
” এগুলো কোথায় পাইছো? বিক্রি করতেছে কোথাও?
বাচ্চাগুলো মাথা নাড়িয়ে না বলে। তারা বলে যে তাদের বাসার কাছে গাছ আছে। সেখান থেকেই পেড়ে নিয়ে এসে খেলছে। নিয়াজ তাদের থেকে কিছু কদম ফুল নেয়। বাচ্চাদের চকলেট খাওয়ার জন্য টাকা দিয়ে দেয়। এতেই বাচ্চারা অনেক খুশি। হৈ হৈ করতে করতে তারা চলে যায়। নিয়াজ জাফরিনের হাতে কদম ফুলের তোড়াটা দেয়। জাফরিন হাতে নিয়ে লাজুক মুখে তাকিয়ে থাকে কদম ফুলের তোড়াটার দিকে। টুকটাক অনেক কথা হয় তাদের মধ্য। দূর থেকে এই নব দম্পতির বলেন বিবাহ পরবর্তী নতুন নতুন প্রেম কারো চোখে পড়ে। কারো ক্যামেরাবন্দি হয় মুহুর্তেই। আগন্তুকটি বিরবির করে বলে,
” বর্ষার ঘনঘটায় নতুন প্রেমের আগমন ঠিক যেনো বৃষ্টিতে ভেজা একগুচ্ছ কদম ফুলের মতোই সুন্দর “।
চলবে………

